ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নগর গুলিস্তান স্টপওভার বাস-মিনিবাস টার্মিনাল শ্রমিক পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়ানোর পর দেশে আজ সোনার ভরি কত? কক্সবাজারের মাতারবাড়ী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বেরোবির শিক্ষার্থীদের ‘দরিচা’, বিহারি নারীদের দক্ষতায় খুলছে সম্ভাবনার নতুন জানালা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় জাল টাকা তৈরির কারখানায় র‍্যাব-৫ এর অভিযান আটক ২  পঞ্চগড়ে ২৬৪-এর নবনির্বাচিত কমিটিকে সংবর্ধনা রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না

সাংবাদিকের ফোন নিয়ে ভিডিও ডিলিট করলো অধ্যক্ষ

সাংবাদিকের ফোন নিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সামনে সাংবাদিকের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ডিলেট করতে বাধ্য করায় অধ্যক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সংবাদের তথ্য সংগ্রহে যান অনলাইন গণমাধ্যম ক্যাম্পাস ২৪ নিউজের প্রতিবেদক আব্দুল মতিন ও তারিকুল ইসলাম। এসময় অনুষ্ঠান চলাকালীন কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে বহিরাগতদের গাঁজার আসর থেকে ব্লেড দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর রগ কাটার চেষ্টা করা হয়।একই সাথে আহত শিক্ষার্থীকে বহিরাগতরা কর্তৃক কয়েক দফায় ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষের অনুমতি না নিয়ে এই হা এসময়ের ভিডিও কেনো করা হলো এমন প্রশ্ন তুলে উপস্থিত দুই সাংবাদিকের ফোন থেকে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করে অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার।হামলায় আহত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো: আব্দুস সুহাস সিয়াম জানান,আমি কলেজের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। আজকে কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ছিল। আমি আমার বন্ধুবান্ধব ও জুনিয়রসহ কলেজের পাশে ছবি তোলার জন্য যাচ্ছিলাম। ওই জায়গায় ১০ থেকে ১২ জন ছেলে ছিল। ওরা আমাকে বলছিল তোমরা এই জায়গা থেকে চলে যাও। আমি যাইতে একটু দেরি করছি, তাতে একজন গায়ে হাত তুলছে।আরেকজন এসে আমার হাতটা কেটে দিছে। তারপরে আমি যখন ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে আধা ঘন্টা পর ড্রেসিং করতে গেছি, ওরা আমাকে সবাই ধরে মারা শুরু করছে আর আমাকে বাইকে তুলে নিয়ে যাইতে ধরছিল। ওরা সবাই বহিরাগত ছিলো। এদের কাউকেই আমি চিনিনা। ওরা গাঁজা সেবন করছিলো।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল মতিন বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের প্রোগ্রাম কাভার করতে গিয়েছিলাম। শেষের দিকে পরিত্যক্ত ভবনের দিকে কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের ছোটাছুটি দেখে আমরা সেদিকে যাই। পরিতক্ত ভবন থেকে একজন শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসে তার হাত ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে। আমরা সেটি ভিডিও নিয়েছি এবং পরবর্তীতে সেই ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় অধ্যক্ষ অন্যান্য স্যারেরা চলে আসে। এবং আমাদের কাজে বাধা প্রদান করে। আমাদের ভিডিওটি জোরপূর্বক ফোন থেকে ডিলিট করা হয়। সেখানে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য স্যারেরা সবাই উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার জানান, আমার কলেজে আজকে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে বহিরাগতরা এসেছিল। তারা ওখানে আড্ডা মারার সময় আমার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝগড়া লাগায় সম্ভবত কোন ধারালো জিনিস দিয়ে পোঁছ দিয়ে পালিয়ে গেছে। সবাই ছুটে গিয়ে ওই ছেলেকে ফার্স্টএইড দিয়েছে ও বাইরে পাঠিয়েছে ভালোভাবে ব্যান্ডেজ করার জন্য। শিক্ষার্থীরা কাউকে না চিনতে পারায় আমি কোন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। সেসময় সাংবাদিকরা ছাত্রদের সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করছিল। তারাতো একাজের জন্য আসে নাই,এরা তো কলেজের অনুষ্ঠান কাভার করতে এসেছিল,
তারা সেটা করুক। শিক্ষাঙ্গন যত ছোটই হোক সেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া পুলিশও ঢোকে না এডমিনের কেউ ঢুকে না। জরুরি অবস্থার সময় সেনাবাহিনী অনুমতি চেয়েছিল, পারেনি। ক্যাম্পাস যত ছোটই হোক এখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া পুলিশের কেউ ঢোকেনি, এডমিনের কেউ ঢোকেনি, সাংবাদিকরা কি এর বাইরে? এজন্যই অনুমতি ছাড়া ভিডিও ডিলেট করতে বাঁধা দিয়েছি। ভিডিও ডিলিট করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগর গুলিস্তান স্টপওভার বাস-মিনিবাস টার্মিনাল শ্রমিক পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকের ফোন নিয়ে ভিডিও ডিলিট করলো অধ্যক্ষ

আপডেট সময় ০৬:০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সাংবাদিকের ফোন নিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সামনে সাংবাদিকের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ডিলেট করতে বাধ্য করায় অধ্যক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সংবাদের তথ্য সংগ্রহে যান অনলাইন গণমাধ্যম ক্যাম্পাস ২৪ নিউজের প্রতিবেদক আব্দুল মতিন ও তারিকুল ইসলাম। এসময় অনুষ্ঠান চলাকালীন কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে বহিরাগতদের গাঁজার আসর থেকে ব্লেড দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর রগ কাটার চেষ্টা করা হয়।একই সাথে আহত শিক্ষার্থীকে বহিরাগতরা কর্তৃক কয়েক দফায় ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষের অনুমতি না নিয়ে এই হা এসময়ের ভিডিও কেনো করা হলো এমন প্রশ্ন তুলে উপস্থিত দুই সাংবাদিকের ফোন থেকে ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করে অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার।হামলায় আহত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো: আব্দুস সুহাস সিয়াম জানান,আমি কলেজের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। আজকে কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ছিল। আমি আমার বন্ধুবান্ধব ও জুনিয়রসহ কলেজের পাশে ছবি তোলার জন্য যাচ্ছিলাম। ওই জায়গায় ১০ থেকে ১২ জন ছেলে ছিল। ওরা আমাকে বলছিল তোমরা এই জায়গা থেকে চলে যাও। আমি যাইতে একটু দেরি করছি, তাতে একজন গায়ে হাত তুলছে।আরেকজন এসে আমার হাতটা কেটে দিছে। তারপরে আমি যখন ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে আধা ঘন্টা পর ড্রেসিং করতে গেছি, ওরা আমাকে সবাই ধরে মারা শুরু করছে আর আমাকে বাইকে তুলে নিয়ে যাইতে ধরছিল। ওরা সবাই বহিরাগত ছিলো। এদের কাউকেই আমি চিনিনা। ওরা গাঁজা সেবন করছিলো।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল মতিন বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের প্রোগ্রাম কাভার করতে গিয়েছিলাম। শেষের দিকে পরিত্যক্ত ভবনের দিকে কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের ছোটাছুটি দেখে আমরা সেদিকে যাই। পরিতক্ত ভবন থেকে একজন শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসে তার হাত ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে। আমরা সেটি ভিডিও নিয়েছি এবং পরবর্তীতে সেই ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় অধ্যক্ষ অন্যান্য স্যারেরা চলে আসে। এবং আমাদের কাজে বাধা প্রদান করে। আমাদের ভিডিওটি জোরপূর্বক ফোন থেকে ডিলিট করা হয়। সেখানে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য স্যারেরা সবাই উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা আখতার জানান, আমার কলেজে আজকে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে বহিরাগতরা এসেছিল। তারা ওখানে আড্ডা মারার সময় আমার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝগড়া লাগায় সম্ভবত কোন ধারালো জিনিস দিয়ে পোঁছ দিয়ে পালিয়ে গেছে। সবাই ছুটে গিয়ে ওই ছেলেকে ফার্স্টএইড দিয়েছে ও বাইরে পাঠিয়েছে ভালোভাবে ব্যান্ডেজ করার জন্য। শিক্ষার্থীরা কাউকে না চিনতে পারায় আমি কোন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। সেসময় সাংবাদিকরা ছাত্রদের সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করছিল। তারাতো একাজের জন্য আসে নাই,এরা তো কলেজের অনুষ্ঠান কাভার করতে এসেছিল,
তারা সেটা করুক। শিক্ষাঙ্গন যত ছোটই হোক সেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া পুলিশও ঢোকে না এডমিনের কেউ ঢুকে না। জরুরি অবস্থার সময় সেনাবাহিনী অনুমতি চেয়েছিল, পারেনি। ক্যাম্পাস যত ছোটই হোক এখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া পুলিশের কেউ ঢোকেনি, এডমিনের কেউ ঢোকেনি, সাংবাদিকরা কি এর বাইরে? এজন্যই অনুমতি ছাড়া ভিডিও ডিলেট করতে বাঁধা দিয়েছি। ভিডিও ডিলিট করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো।