ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঙ্গরার মেটংঘর বাজারে পুলিশের অভিযান, ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার পবিপ্রবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ নিজাম এর ভাইয়ের মৃত্যুতে ভাইস-চ্যান্সেলর এর শোক বদলি বিতর্কের পর রাকাবের ভারপ্রাপ্ত এমডির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ ২৮ জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড, জামিনের প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ প্রবাস ফেরত প্রেমিকের বিয়ে ঠেকাতে দুই সন্তানের জননী প্রেমিকার অনশন কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, এখনও নিখোঁজ প্রায় ৫০০ অনলাইন সনদে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন মাঠপর্যায়েই, ইসির নতুন নির্দেশনা উয়েফা সুপার কাপে কেন খেললেন না এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ৩১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়া, সম্পাদক নাজিম

আত্রাইয়ে শ্বশুরের মারধরের পরদিন জামাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় শ্বশুরের মারধরের পরদিন জামাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, রসুলপুর গ্রামের আশরাফের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে ৭ বছর আগে একই গ্রামের মজনুর মেয়ে মিমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোহেল রানা পেশায় একজন ভ্যানচালক ছিলেন। থাকতেন রসুলপুর সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া লেগেই থাকতো। এক পর্যায়ে গত ৬ অক্টোবর দুপুরের দিকে আবারও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে মিম তার স্বামীর ভ্যান ও দুটি ছাগল নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সোহেলের শ্বশুর লোকজন নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। এরপর মঙ্গলবার সকালে ঘরের বারান্দা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোহেল রানার বাবা আশরাফ বলেন, ‘সোমবার বিকেলে আমার ছেলের শ্বশুর মজনুসহ তার কিছু লোকজন সোহেলকে বেধড়ক মারধর করে। যা সোহেল রানা সহ্য করতে পারেনি। আমার ছেলেকে মেরে ফেলে এখন আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। কারণ যে বারান্দায় তাকে গলায় ফাঁস অবস্থায় পাওয়া গেছে সেখানে মাটিতে তার পা অনেকখানি ছুঁয়ে ছিল। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না।’

অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূ মিমের বাবা মজনু বলেন, সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রায় আমার মেয়ের কাছে টাকা দাবি করতো। গত কয়েক মাস আগেও তাকে ঋণ করে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। সোহেলকে মারপিটের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক না। বরং সোহেল আমার মেয়ে ও আমাকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, সোহেলকে মারধর করার অভিযোগটি সঠিক। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের কথা শুনেছি। এজাহার পেলে আমলে নেয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঙ্গরার মেটংঘর বাজারে পুলিশের অভিযান, ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

আত্রাইয়ে শ্বশুরের মারধরের পরদিন জামাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৩:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় শ্বশুরের মারধরের পরদিন জামাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, রসুলপুর গ্রামের আশরাফের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে ৭ বছর আগে একই গ্রামের মজনুর মেয়ে মিমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোহেল রানা পেশায় একজন ভ্যানচালক ছিলেন। থাকতেন রসুলপুর সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া লেগেই থাকতো। এক পর্যায়ে গত ৬ অক্টোবর দুপুরের দিকে আবারও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে মিম তার স্বামীর ভ্যান ও দুটি ছাগল নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সোহেলের শ্বশুর লোকজন নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। এরপর মঙ্গলবার সকালে ঘরের বারান্দা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোহেল রানার বাবা আশরাফ বলেন, ‘সোমবার বিকেলে আমার ছেলের শ্বশুর মজনুসহ তার কিছু লোকজন সোহেলকে বেধড়ক মারধর করে। যা সোহেল রানা সহ্য করতে পারেনি। আমার ছেলেকে মেরে ফেলে এখন আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। কারণ যে বারান্দায় তাকে গলায় ফাঁস অবস্থায় পাওয়া গেছে সেখানে মাটিতে তার পা অনেকখানি ছুঁয়ে ছিল। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না।’

অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূ মিমের বাবা মজনু বলেন, সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রায় আমার মেয়ের কাছে টাকা দাবি করতো। গত কয়েক মাস আগেও তাকে ঋণ করে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। সোহেলকে মারপিটের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক না। বরং সোহেল আমার মেয়ে ও আমাকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, সোহেলকে মারধর করার অভিযোগটি সঠিক। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের কথা শুনেছি। এজাহার পেলে আমলে নেয়া হবে।