ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ অবদান রাখায় নিসচা বিশেষ সম্মাননা পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করল ১১-দল মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কচুয়ায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল: ঝুঁকিতে ২৫০ শিক্ষার্থী, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা  নগর গুলিস্তান স্টপওভার বাস-মিনিবাস টার্মিনাল শ্রমিক পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়ানোর পর দেশে আজ সোনার ভরি কত?

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফরিদা পারভীন, দোয়া কামনা

বাংলা সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে। রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের এই প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পীর পাশে রয়েছে তার পরিবার। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ফরিদা পারভীনের মেয়ে জিহান ফারিহা জানান, তার মায়ের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। জেনারেশন ফোর মেডিসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, ফরিদা পারভীনের কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ এবং হার্টে অনিয়মিত স্পন্দন রয়েছে। পুরো শরীরে রক্তের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাল্টি অর্গান ফেইলিউর ধরা পড়েছে। উচ্চ রক্তচাপের অভাবে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে।

ফরিদা পারভীনের বড় ছেলে ইমাম জাফর নুমানী ফেসবুকে জানিয়েছেন, তার মায়ের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে এবং ব্লাডপ্রেশার নেই। ডাক্তাররা সর্বোচ্চ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে ব্লাডপ্রেশার ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ অবস্থায় শারীরিক উন্নতির সম্ভাবনা খুব কম। তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে লাইফ সাপোর্ট চালিয়ে যাচ্ছি।’

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার জন্য আর্থিক বা অন্য কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তারা কেবল শিল্পীর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন।

প্রসঙ্গত, ফরিদা পারভীন ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার পর তিনি লালন সংগীতের মাধ্যমে সুপরিচিত হন। ১৯৭৮ সালে একুশে পদক এবং জাপানের কুফুওয়া এশিয়ান কালচারাল পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত এই শিল্পী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালনের গান শেখানোর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ অবদান রাখায় নিসচা বিশেষ সম্মাননা পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফরিদা পারভীন, দোয়া কামনা

আপডেট সময় ০৩:৫২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলা সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে। রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের এই প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পীর পাশে রয়েছে তার পরিবার। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ফরিদা পারভীনের মেয়ে জিহান ফারিহা জানান, তার মায়ের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। জেনারেশন ফোর মেডিসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, ফরিদা পারভীনের কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ এবং হার্টে অনিয়মিত স্পন্দন রয়েছে। পুরো শরীরে রক্তের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাল্টি অর্গান ফেইলিউর ধরা পড়েছে। উচ্চ রক্তচাপের অভাবে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে।

ফরিদা পারভীনের বড় ছেলে ইমাম জাফর নুমানী ফেসবুকে জানিয়েছেন, তার মায়ের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে এবং ব্লাডপ্রেশার নেই। ডাক্তাররা সর্বোচ্চ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে ব্লাডপ্রেশার ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ অবস্থায় শারীরিক উন্নতির সম্ভাবনা খুব কম। তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে লাইফ সাপোর্ট চালিয়ে যাচ্ছি।’

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার জন্য আর্থিক বা অন্য কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তারা কেবল শিল্পীর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন।

প্রসঙ্গত, ফরিদা পারভীন ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার পর তিনি লালন সংগীতের মাধ্যমে সুপরিচিত হন। ১৯৭৮ সালে একুশে পদক এবং জাপানের কুফুওয়া এশিয়ান কালচারাল পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত এই শিল্পী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালনের গান শেখানোর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন।