ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৭.৯ শতাংশ বেড়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার ইইউ’র মোট আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হলেও চীন ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের এই সময়ে বাংলাদেশ ইইউ’র বাজারে ১০.২৯ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৮.৭৩ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৭.৯% বেশি।আর সামগ্রিকভাবে ইইউর পোশাক আমদানি ১২.৩% বেড়ে ৪৩.৩৯ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের ৩৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেশি।

এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ইইউ’র বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তবে, এই বাজারে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাড়িয়েছে এশিয়ার দেশ চীন ও কম্বোডিয়া। এ বছর ইইউ’র বাজারে চীন তার সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির রপ্তানি ২২.৩% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.২৬ বিলিয়ন ইউরোতে। অপরদিকে কম্বোডিয়া সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাদের রপ্তানি ৩০.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ২.০৭ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।

তবে বাংলাদেশ তার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ইইউ বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।যেমন- ভারত এ সময়ে ২.৭০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের ২.৩৪ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৫.৪% বেশি। তবে প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা কম।

এছাড়া পাকিস্তান রপ্তানি করেছে ১.৮৬ বিলিয়ন ইউরো, যা ২০২৪ সালের ১.৫৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৬.৬% বৃদ্ধি। এতে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলেও রপ্তানির পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে ভিয়েতনামও তার প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। দেশটি ২.০২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা এক বছর আগে ১.৭৩ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৭.৩% বৃদ্ধি।

তবে তুরস্ক নেতিবাচক ধারা দেখিয়েছে। তাদের রপ্তানি ৭% কমে দাঁড়িয়েছে ৪.২৭ বিলিয়ন ইউরোতে, যা ইইউ’র বাজারে চাহিদা কমার প্রতিফলন।

সামগ্রিকভাবে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ১৭.৯% প্রবৃদ্ধি ইইউর গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি এবং ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের চেয়ে শক্তিশালী। তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে চীন ও কম্বোডিয়ার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ, যা ইইউ বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৭.৯ শতাংশ বেড়েছে

আপডেট সময় ০৫:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার ইইউ’র মোট আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হলেও চীন ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের এই সময়ে বাংলাদেশ ইইউ’র বাজারে ১০.২৯ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৮.৭৩ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৭.৯% বেশি।আর সামগ্রিকভাবে ইইউর পোশাক আমদানি ১২.৩% বেড়ে ৪৩.৩৯ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের ৩৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেশি।

এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ইইউ’র বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তবে, এই বাজারে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাড়িয়েছে এশিয়ার দেশ চীন ও কম্বোডিয়া। এ বছর ইইউ’র বাজারে চীন তার সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির রপ্তানি ২২.৩% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.২৬ বিলিয়ন ইউরোতে। অপরদিকে কম্বোডিয়া সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাদের রপ্তানি ৩০.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ২.০৭ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।

তবে বাংলাদেশ তার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ইইউ বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।যেমন- ভারত এ সময়ে ২.৭০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের ২.৩৪ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৫.৪% বেশি। তবে প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা কম।

এছাড়া পাকিস্তান রপ্তানি করেছে ১.৮৬ বিলিয়ন ইউরো, যা ২০২৪ সালের ১.৫৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৬.৬% বৃদ্ধি। এতে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলেও রপ্তানির পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে ভিয়েতনামও তার প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। দেশটি ২.০২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা এক বছর আগে ১.৭৩ বিলিয়ন ইউরো থেকে ১৭.৩% বৃদ্ধি।

তবে তুরস্ক নেতিবাচক ধারা দেখিয়েছে। তাদের রপ্তানি ৭% কমে দাঁড়িয়েছে ৪.২৭ বিলিয়ন ইউরোতে, যা ইইউ’র বাজারে চাহিদা কমার প্রতিফলন।

সামগ্রিকভাবে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ১৭.৯% প্রবৃদ্ধি ইইউর গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি এবং ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের চেয়ে শক্তিশালী। তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে চীন ও কম্বোডিয়ার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ, যা ইইউ বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।