সংবাদ শিরোনাম ::
কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পুড়লো বসতবাড়ি ৫ আগস্টের পর ভাগ্য বদলে গেছে জামায়াত নেতার ছেলের রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসের ইউরোপ সফর, উঠছে নানা প্রশ্ন ঢাকার গুলিস্তানে সিলগালা ভেঙে পার্কিংয়ে সহস্রাধিক অবৈধ দোকান কাজ না করেই সরকারি প্রকল্পের ১২ কোটি টাকা নিয়ে গেল ঠিকাদার বিপিসির আহম্মদুল্লাহর ঢাকায় বহুতল ভবন, গ্রামে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি রাষ্ট্রের টাকায় ব্যক্তিগত ‘ভবিষ্যৎ’ গড়লেন সামি! নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি

জেল থেকেও যুবদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম ফরিদ উদ্দিনের ফেসবুক আইডি থেকে সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেয়া একটি স্ট্যাটাস নিয়ে জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টে ‘বুড়া অস্ত্র’ দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

স্ট্যাটাসে ফরিদ লেখেন, সবাই শেয়ার করবেন আমি যেই মাপের লোক, আমারে সেই মাপের অস্ত্র দিয়ে পাশাইতি (ফাঁসাইতি)। যেমন বিদেশি পিস্তল, শটগান বা অন্যান্য অস্ত্র দিয়া পাশাইতি। কিন্তু লেদ মিশেন বানানো এয়ারগানের পাইপে কাঠের বাট লাগানো নতুন রং করানো ২ হাজার টাকার একনলা বন্দুক দিয়া আমারে ফাঁসাইলি। এই বুড়া অস্ত্র দিয়া আমার মানসম্মান শেষ করলি।

তিনি আরও লেখেন, আমি সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলছি এই অস্ত্র আমার নয়। যে লোক আপনাদের ইনফরমেশন দিছে বা অস্ত্র আনি রাখছে, তাকে আপনারা চিনেন। তার কাছে বিদেশি পিস্তলসহ অন্যান্য দামি অস্ত্র আছে। তাকে গ্রেপ্তার করুন, আরও অনেক অস্ত্র পাইবেন।

স্ট্যাটাসটি পড়লে মনে হয় ফরিদ নিজেই লিখেছেন। তবে তিনি তখন কারাগারে ছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কারাগার বা রিমান্ডে থাকাকালীন তিনি কীভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন?

লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফরিদকে রোববার রাত ৯টার দিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি পোস্ট দিয়ে থাকলে বাহির থেকেই দেয়া হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান, ফরিদ একদিনের রিমান্ডে ছিলেন। দুপুরের পরেই তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে বা হাজতে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। হয়তো পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ব্যবহার করে পোস্ট দিয়েছে।

তবে ফরিদের পোস্টে অনেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করছেন। কেউ লিখেছেন, অস্ত্র দিয়ে কাউকে ফাঁসাতে হলে অন্তত মান-সম্মান ঠিক রাখবেন। আবার কেউ লিখেছেন, এত মামলার আসামি হয়ে কারাগারে বসেও ফেসবুকে সক্রিয় থাকা সত্যিই বিস্ময়কর।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পালেরহাট এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি যুবদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক

জেল থেকেও যুবদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

আপডেট সময় ০৩:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম ফরিদ উদ্দিনের ফেসবুক আইডি থেকে সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেয়া একটি স্ট্যাটাস নিয়ে জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টে ‘বুড়া অস্ত্র’ দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

স্ট্যাটাসে ফরিদ লেখেন, সবাই শেয়ার করবেন আমি যেই মাপের লোক, আমারে সেই মাপের অস্ত্র দিয়ে পাশাইতি (ফাঁসাইতি)। যেমন বিদেশি পিস্তল, শটগান বা অন্যান্য অস্ত্র দিয়া পাশাইতি। কিন্তু লেদ মিশেন বানানো এয়ারগানের পাইপে কাঠের বাট লাগানো নতুন রং করানো ২ হাজার টাকার একনলা বন্দুক দিয়া আমারে ফাঁসাইলি। এই বুড়া অস্ত্র দিয়া আমার মানসম্মান শেষ করলি।

তিনি আরও লেখেন, আমি সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলছি এই অস্ত্র আমার নয়। যে লোক আপনাদের ইনফরমেশন দিছে বা অস্ত্র আনি রাখছে, তাকে আপনারা চিনেন। তার কাছে বিদেশি পিস্তলসহ অন্যান্য দামি অস্ত্র আছে। তাকে গ্রেপ্তার করুন, আরও অনেক অস্ত্র পাইবেন।

স্ট্যাটাসটি পড়লে মনে হয় ফরিদ নিজেই লিখেছেন। তবে তিনি তখন কারাগারে ছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কারাগার বা রিমান্ডে থাকাকালীন তিনি কীভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন?

লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফরিদকে রোববার রাত ৯টার দিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি পোস্ট দিয়ে থাকলে বাহির থেকেই দেয়া হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান, ফরিদ একদিনের রিমান্ডে ছিলেন। দুপুরের পরেই তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে বা হাজতে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। হয়তো পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ব্যবহার করে পোস্ট দিয়েছে।

তবে ফরিদের পোস্টে অনেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করছেন। কেউ লিখেছেন, অস্ত্র দিয়ে কাউকে ফাঁসাতে হলে অন্তত মান-সম্মান ঠিক রাখবেন। আবার কেউ লিখেছেন, এত মামলার আসামি হয়ে কারাগারে বসেও ফেসবুকে সক্রিয় থাকা সত্যিই বিস্ময়কর।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পালেরহাট এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি যুবদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।