সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

চাপের মুখে বাস বন্ধ রেখেছে মালিক-চালকরা

অনেক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিএনপি গণসমাবেশের জল গড়িয়েছে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই সমাবেশ শুরু হয়। গণসমাবেশের কারণে গোলাপবাগসহ আশেপাশের এলাকায় সাময়িক অসুবিধা হলেও পুরো নগরবাসী ভুগছে গণপরিবহন সংকটে। চাপের মুখে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক ও চালকরা।

এর আগে বিএনপির অনুষ্ঠিত ৯টি বিভাগীয় গণসমাবেশের মধ্যে ৭টি সমাবেশের সময় পরিবহন ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে নগরবাসীও মনে মনে ধারণা করে নিয়েছিলেন, ঢাকার অবস্থা কী হবে। সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীতে যান চলাচল সীমিত থাকলেও শনিবার সকাল থেকে হাতেগোনা ২/১টি ছাড়া তেমন বাস চোখে পড়েনি রাজধানীতে। এছাড়া দূরপাল্লার তেমন কোনো বাসও ঢাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, সংসদ মোড়, প্রগতি সরনি, সাইনবোর্ড, মাতুয়াইল, রায়েরবাগ, শনির আখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে কোথাও বাসের দেখা মেলেনি। বলা চলে, ঢাকার রাস্তা থেকে বাস উধাও হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চললেও অন্যান্য দিনের চেয়ে সেগুলোর সংখ্যাও কম। সকালে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে যারা বাসা থেকে বের হয়েছেন তাদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে ভাগ্যের জোরে বাসের দেখা মিলছে। অবশ্য রাস্তায় মানুষের সংখ্যাও ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে কম।

গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাস কাউন্টার বন্ধ। কিছু কাউন্টার খোলা থাকলে তেমন টিকিট বিক্রি হয়নি। বাস ছাড়ার সময়সূচি ১০টায় হলে সেটা নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে না। সেখানে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ম্যানেজার জুয়েল  বলেন, আজ যাত্রী একেবারেই নেই। সকাল থেকে গাড়ি ছেড়েছে মাত্র ১টা। তাতেও আবার ৮-১০টা সিট ফাঁকা ছিল। যাত্রী স্বল্পতায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।

dhakapost

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টাঙ্গাইল থেকে কোনো গণপরিবহন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসেনি। এমনকি বাস টা‌র্মিনা‌লে ঢাকাগামী প‌রিবহনের সাম‌নে যাত্রী‌দের তেমন চাপ দেখা নেই।

এদিকে গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে এক জরুরি বৈঠক থেকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঘোষণা দিয়েছিল, লোকসান হলেও যেন বাস মালিকরা রাস্তায় বাস চালায়। সমিতির সিদ্ধান্ত, যেকোনো মূল্যে বাস অন রোড রাখতে হবে। কিন্তু সমিতির সে কথা মানেনি সমিতিতে থাকা মালিকরাই। তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে এমনটাই অভিযোগ যাত্রীদের।

তবে বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আতঙ্ক আর চাপের মুখে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে মালিক সমিতি বলছে, যাত্রী নেই বলে রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম।

ঢাকা-সাভার রুটে চলাচলকারী সাভার পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেল  বলেন, যেহেতু গত ৭ তারিখে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, আমরা আতঙ্কের মধ্যেই আছি। সেই ঘটনা থেকে অন্যান্য মালিকরাও একটি ভয়-ভীতির মধ্যে রয়েছে। কখন কি ঘটে যায়, সেটা তো বলা যায় না। মালিকরাও সাহস করতে পারছে না, আর চালকরাও গাড়ি চালাচ্ছে না। সমাবেশ শেষ হলে পরিস্থিতি বুঝে বাস চালানো শুরু করা হবে।

ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালক বলেন, আমরা আজ রাত থেকে বাস চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। সমাবেশের কারণে গাড়ি ঢাকায় ঢুকতে দিচ্ছে না। চন্দ্র যাওয়ার পরেই গাড়ি আটকে দিচ্ছে পুলিশ।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, রাস্তায় যাত্রী নেই বলে গাড়ির সংখ্যা কম। যাত্রী বাড়লে আবার রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাপের মুখে বাস বন্ধ রেখেছে মালিক-চালকরা

আপডেট সময় ০৩:৪৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

অনেক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিএনপি গণসমাবেশের জল গড়িয়েছে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই সমাবেশ শুরু হয়। গণসমাবেশের কারণে গোলাপবাগসহ আশেপাশের এলাকায় সাময়িক অসুবিধা হলেও পুরো নগরবাসী ভুগছে গণপরিবহন সংকটে। চাপের মুখে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক ও চালকরা।

এর আগে বিএনপির অনুষ্ঠিত ৯টি বিভাগীয় গণসমাবেশের মধ্যে ৭টি সমাবেশের সময় পরিবহন ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে নগরবাসীও মনে মনে ধারণা করে নিয়েছিলেন, ঢাকার অবস্থা কী হবে। সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীতে যান চলাচল সীমিত থাকলেও শনিবার সকাল থেকে হাতেগোনা ২/১টি ছাড়া তেমন বাস চোখে পড়েনি রাজধানীতে। এছাড়া দূরপাল্লার তেমন কোনো বাসও ঢাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, সংসদ মোড়, প্রগতি সরনি, সাইনবোর্ড, মাতুয়াইল, রায়েরবাগ, শনির আখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে কোথাও বাসের দেখা মেলেনি। বলা চলে, ঢাকার রাস্তা থেকে বাস উধাও হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চললেও অন্যান্য দিনের চেয়ে সেগুলোর সংখ্যাও কম। সকালে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে যারা বাসা থেকে বের হয়েছেন তাদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে ভাগ্যের জোরে বাসের দেখা মিলছে। অবশ্য রাস্তায় মানুষের সংখ্যাও ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে কম।

গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাস কাউন্টার বন্ধ। কিছু কাউন্টার খোলা থাকলে তেমন টিকিট বিক্রি হয়নি। বাস ছাড়ার সময়সূচি ১০টায় হলে সেটা নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে না। সেখানে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ম্যানেজার জুয়েল  বলেন, আজ যাত্রী একেবারেই নেই। সকাল থেকে গাড়ি ছেড়েছে মাত্র ১টা। তাতেও আবার ৮-১০টা সিট ফাঁকা ছিল। যাত্রী স্বল্পতায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।

dhakapost

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টাঙ্গাইল থেকে কোনো গণপরিবহন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসেনি। এমনকি বাস টা‌র্মিনা‌লে ঢাকাগামী প‌রিবহনের সাম‌নে যাত্রী‌দের তেমন চাপ দেখা নেই।

এদিকে গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে এক জরুরি বৈঠক থেকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঘোষণা দিয়েছিল, লোকসান হলেও যেন বাস মালিকরা রাস্তায় বাস চালায়। সমিতির সিদ্ধান্ত, যেকোনো মূল্যে বাস অন রোড রাখতে হবে। কিন্তু সমিতির সে কথা মানেনি সমিতিতে থাকা মালিকরাই। তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে এমনটাই অভিযোগ যাত্রীদের।

তবে বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আতঙ্ক আর চাপের মুখে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে মালিক সমিতি বলছে, যাত্রী নেই বলে রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম।

ঢাকা-সাভার রুটে চলাচলকারী সাভার পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেল  বলেন, যেহেতু গত ৭ তারিখে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, আমরা আতঙ্কের মধ্যেই আছি। সেই ঘটনা থেকে অন্যান্য মালিকরাও একটি ভয়-ভীতির মধ্যে রয়েছে। কখন কি ঘটে যায়, সেটা তো বলা যায় না। মালিকরাও সাহস করতে পারছে না, আর চালকরাও গাড়ি চালাচ্ছে না। সমাবেশ শেষ হলে পরিস্থিতি বুঝে বাস চালানো শুরু করা হবে।

ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালক বলেন, আমরা আজ রাত থেকে বাস চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। সমাবেশের কারণে গাড়ি ঢাকায় ঢুকতে দিচ্ছে না। চন্দ্র যাওয়ার পরেই গাড়ি আটকে দিচ্ছে পুলিশ।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, রাস্তায় যাত্রী নেই বলে গাড়ির সংখ্যা কম। যাত্রী বাড়লে আবার রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হবে।