সংবাদ শিরোনাম ::
লীগপন্থী ঠিকাদারদের অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য থেকে বনভূমি দখল: বন কর্মকর্তা হোসাইন নিশাতের ‘শত কোটির দুর্নীতি সাম্রাজ্য’ চাঁদা না পেয়ে অ’ন্তঃসত্ত্বা নারীকে মা’রধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতা দোলনের বি’রুদ্ধে মা’মলা সরকারি জমিতে গড়ে উঠল বহুতল ভবন ‘সানভিউ বিধি ভেঙে আরএমও পদায়ন, ‘এম উদ্দিন’ ছদ্মনামে টেস্ট সিন্ডিকেটের অভিযোগ ইডকলে এনামুলের বিরুদ্ধে লুটপাটের রাজত্বের অভিযোগ সওজ কর্মকর্তা শাহনুর রশিদ এখন শতকোটি টাকার মালিক জালিয়াতি করে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ বাশার-মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সিএন্ডএফ ক্লিয়ারিং বাণিজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দুই মাসে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা টিকে গ্রুপের

এক কেজি ইলিশের দামে মিলছে সাড়ে ৩ কেজি গরুর মাংস

ভরা মৌসুমে বাজারে এখন ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে দামের কারণে ক্রেতার নাগালে তো নেই এমনকি যারা বিক্রি করছেন তারা পর্যন্ত ইলিশ খাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। এখন এক কেজি ওজনের একটা ইলিশ কিনতে যে পয়সা গুনতে হচ্ছে সে টাকায় সাড়ে ৩ কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ইলিশ বিক্রেতা, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
ইলিশের দামে আমরাও অবাক। এই দামের ক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যে দামে কিনি তার ওপর ভিত্তি করেই বিক্রি করি। দাম বেশি হওয়ার কারণে ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে কম। আমি নিয়মিত ইলিশ বিক্রি করছি, কিন্তু নিজেই বাড়িতে খাই না। দাম কমলে খাবো।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা কেজি। ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি। ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বড় ইলিশ কিছুটা কম দামে বিক্রি করছেন। এসব ইলিশ সাগরের বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

রামপুরা বাজারে মনিরুল ইসলাম নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জাগো নিউজকে বলেন, এক কেজি ওজনের একটা ইলিশ কিনতে গেলে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগছে। এক কেজি ইলিশের টাকা দিয়ে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কপালে এখন ইলিশ জুটবে না। যাদের অঢেল টাকা আছে, ইলিশ এখন তাদের জন্য। আমরা শুধু ইলিশ দেখবো, আর দাম শুনে চলে যাবো।

এক কেজি ওজনের একটা ইলিশ কিনতে গেলে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগছে। এক কেজি ইলিশের টাকা দিয়ে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কপালে এখন ইলিশ জুটবে না। যাদের অঢেল টাকা আছে, ইলিশ এখন তাদের জন্য। আমরা শুধু ইলিশ দেখবো, আর দাম শুনে চলে যাবো।

এ সময় ইলিশ বিক্রেতার পাশে রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক মো. সবুর মিয়া বলেন- এখন ইলিশ খেতে হলে জমিই বর্গা দিতে হবে। সবুর মিয়া জানান, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে তিনি রিকশা নিয়ে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে ইলিশ মাছ বিক্রির পরিস্থিতি দেখছেন। তার সামনেই বেশ কয়েকজন ইলিশের দাম শুনে মুখ বেজার করে চলে গেছেন।

একইদিন বাজারে গরুর মাংস বাজার ভেদে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আরকেটু বেশি দামেও বিক্রি হতে দেখা যায়। সে হিসেবে কেজি সাইজের একটা ইলিশ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সে টাকায় সাড়ে ৩ কেজির মতো গরুর মাংস কেনা সম্ভব।

খিলগাঁওয়ের ইলিশ বিক্রেতা জালাল হোসেন বলেন, বাজারে এখন ছোট-বড় সব ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তবে দাম অনেক বেশি হওয়ায় ক্রেতা কম। ইলিশের দামে আমরাও অবাক। এই দামের ক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যে দামে কিনি তার ওপর ভিত্তি করেই বিক্রি করি। দাম বেশি হওয়ার কারণে ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে কম। আমি নিয়মিত ইলিশ বিক্রি করছি, কিন্তু নিজেই বাড়িতে খাই না। দাম কমলে খাবো।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, সরবরাহ কম থাকার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় কারণে দেশে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইলিশের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লীগপন্থী ঠিকাদারদের অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম

এক কেজি ইলিশের দামে মিলছে সাড়ে ৩ কেজি গরুর মাংস

আপডেট সময় ০৬:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

ভরা মৌসুমে বাজারে এখন ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে দামের কারণে ক্রেতার নাগালে তো নেই এমনকি যারা বিক্রি করছেন তারা পর্যন্ত ইলিশ খাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। এখন এক কেজি ওজনের একটা ইলিশ কিনতে যে পয়সা গুনতে হচ্ছে সে টাকায় সাড়ে ৩ কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ইলিশ বিক্রেতা, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
ইলিশের দামে আমরাও অবাক। এই দামের ক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যে দামে কিনি তার ওপর ভিত্তি করেই বিক্রি করি। দাম বেশি হওয়ার কারণে ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে কম। আমি নিয়মিত ইলিশ বিক্রি করছি, কিন্তু নিজেই বাড়িতে খাই না। দাম কমলে খাবো।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা কেজি। ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি। ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বড় ইলিশ কিছুটা কম দামে বিক্রি করছেন। এসব ইলিশ সাগরের বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

রামপুরা বাজারে মনিরুল ইসলাম নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জাগো নিউজকে বলেন, এক কেজি ওজনের একটা ইলিশ কিনতে গেলে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগছে। এক কেজি ইলিশের টাকা দিয়ে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কপালে এখন ইলিশ জুটবে না। যাদের অঢেল টাকা আছে, ইলিশ এখন তাদের জন্য। আমরা শুধু ইলিশ দেখবো, আর দাম শুনে চলে যাবো।

এক কেজি ওজনের একটা ইলিশ কিনতে গেলে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগছে। এক কেজি ইলিশের টাকা দিয়ে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কপালে এখন ইলিশ জুটবে না। যাদের অঢেল টাকা আছে, ইলিশ এখন তাদের জন্য। আমরা শুধু ইলিশ দেখবো, আর দাম শুনে চলে যাবো।

এ সময় ইলিশ বিক্রেতার পাশে রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক মো. সবুর মিয়া বলেন- এখন ইলিশ খেতে হলে জমিই বর্গা দিতে হবে। সবুর মিয়া জানান, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে তিনি রিকশা নিয়ে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে ইলিশ মাছ বিক্রির পরিস্থিতি দেখছেন। তার সামনেই বেশ কয়েকজন ইলিশের দাম শুনে মুখ বেজার করে চলে গেছেন।

একইদিন বাজারে গরুর মাংস বাজার ভেদে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আরকেটু বেশি দামেও বিক্রি হতে দেখা যায়। সে হিসেবে কেজি সাইজের একটা ইলিশ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সে টাকায় সাড়ে ৩ কেজির মতো গরুর মাংস কেনা সম্ভব।

খিলগাঁওয়ের ইলিশ বিক্রেতা জালাল হোসেন বলেন, বাজারে এখন ছোট-বড় সব ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তবে দাম অনেক বেশি হওয়ায় ক্রেতা কম। ইলিশের দামে আমরাও অবাক। এই দামের ক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যে দামে কিনি তার ওপর ভিত্তি করেই বিক্রি করি। দাম বেশি হওয়ার কারণে ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে কম। আমি নিয়মিত ইলিশ বিক্রি করছি, কিন্তু নিজেই বাড়িতে খাই না। দাম কমলে খাবো।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, সরবরাহ কম থাকার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় কারণে দেশে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইলিশের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।