রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। এবার আমাদের হাতে এসেছে রাজউকের বেঞ্চ সহকারির মো. সোহাগ খানের অপকর্মের তথ্য প্রমাণ।
ভান্ডারিয়া পিরোজপুরের মো. শাজাহান খান এর ছেলে মো. সোহাগ খান ৯ জুলাই ২০০১ সালে রাজউকের নিম্নমান সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে যোগদান করেন। ২১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে বেঞ্চ সহকারি হিসেবে পদোন্নতি পান সোহাগ খান। বেঞ্চ সহকারি হিসেবে যোগদানের পরে রাজউকের বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানের পরে উচ্ছেদকৃতদের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকা হাতাতেন বলে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও প্রমাণের অভাবে তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রমাণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির হাতে এসেছে।
মোঃ জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি রাজউক চেয়ারম্যানের বরাবরে ০৪ জুন ২০২৪ তারিখে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারী বেইলী রোডের অগ্নিকান্ডের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রূপয়ন জেড.আর প্লাজা, ৪৬ সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনার সময় কিছু রেষ্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। বন্ধ রাখার জন্য বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ চিঠি ইস্যু করে। পরবর্তীতে ম্যাজিষ্ট্রেট বন্ধ থাকা ফ্লোর এর বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্ন করে যায়। অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজিনা সরোয়ার এবং অথরাইজড অফিসার শেখ মোহাম্মদ এহসানুল এর সাথেই ছিলেন বেঞ্চ সহকারি সোহাগ। অভিযান শেষে যাওয়ার সময় বেঞ্চ সহকারি সোহাগ তার মোবাইল নাম্বার দিয়ে যান সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ করতে বলেন।
সোহাগ খানের নাম্বারে পরের দিন দায়মাসু রেস্টুরেন্ট, লাভা রেস্টুরেন্ট ও দ্য ডার্ক ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেন মো. জসিম উদ্দিন। এই তিনটে রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় দেওয়ার জন্য সোহাগ খান দাবি করেন ৬ লাখ টাকা। রেস্টুরেন্টের মালিকরা ৬ লাখ টাকা দিতে রাজী না হলে ৩ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। এবং সেই টাকা তিনি গ্রহণ করে।
এবার সোহাগ খান প্রয়োগ করেন তার দ্বিতীয় কৌশল। রেস্টুরেন্ট মালিকদেরকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বরাবরে আবেদন করতে বলেন তিনি। আবেদনপত্র জমা দেয়ার সময়ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সোহাগ খান। এই বিকাশ নাম্বর সোহাগ খানের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে দেয়া হয়েছে যার স্ক্রিনশট রয়েছে আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার কাছে।
সোহাগ খানের দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারী জসিমউদ্দীন তার অভিযোগে লিখেছেন টাকা নেয়ার পর রাজউক এর সীল নকল করে আমাদের বলে আবেদন গ্রহণ হয়েছে পরবর্তীতে আমরা রিসিভ কপি নিয়ে রাজউকে যাওয়ার পর জানতে পারি এই সীল রাজউকের নয় এবং রাজউকের কোন লোক এই আবেদন রিসিভ করে নাই। এর পর থেকে সোহাগ খান আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য রাজউকের বেঞ্চ সহকারি সোহাগ খানের কাছে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন ভালো করে দিয়েন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. আলম মোস্তফা (যুগ্মসচিব) এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদনের বিষয়ে তদন্তপূর্বক দোষী সাব্যস্ত হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলাম কে এই বিষয় জানিয়ে মেইল করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে হোয়াটঅ্যাপে যুক্ত হয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান এবং অনিয়ম রুখতে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























