টিনের দোকান ভাড়াকে কে কেন্দ্র রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ২০ জন। বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনমুহুর্তে আরো বড়ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার শহিদ মিনারের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে ও বদরগঞ্জ ব্যবসায় সমিতির সভাপতি সরোয়ার জাহান মানিক বলেন, বদরগঞ্জ শহীদ মিনার সংলগ্ন দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টিনের ব্যবসা করছেন জাহিদুল ইসলাম। গত মাসে হঠাৎ জাহিদুল ইসলামকে দোকান ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন, দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু। দোকানের চুক্তিবদ্ধে আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও জাহিদুল ইসলাম দোকান জামানতের ৩৫ লাখ টাকা ফেরত শর্তে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। সরোয়ার জাহান মানিক আরো বলেন,
দোকানমালিক জামানতের ৩৫ লাখ টাকা দিতে নারাজ এবং দোকান নিজে না ছেড়ে দিলে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার হুশিয়ারী দেন। এরই প্রেক্ষিতে দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় দোকানঘর ভাংচুর করে এবং লুটপাট করে।
দোকান ঘর ভাড়াটিয়া টিন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার জামানতের টাকা না দিয়ে আমার দোকান ঘর ভাঙচুর লুট পাটের ঘটনার প্রতিবাদ করলে ইশতিয়াক বাবুর লোকজন আমাকে বেধর মারপিট করে আহত করে। বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় টিন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের পক্ষ নেন বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার জাহান মানিক সহ সকল ব্যবসায়ীরা এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগদান উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১৩ নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক সহ অনেকে প্রতিবাদ করে বলেন, জামানতের টাকা না দিয়ে ভাড়াটিয়াকে মারধর এবং দোকানভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে টিন ব্যবসায় জাহিদুল এর পক্ষে মানববন্ধনের আয়োজন করে মানিক চেয়ারম্যানগ্রুপ ও বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরোয়ার জাহান মানিক।
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১৩ নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক বলেন, আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষে প্রতিবাদ করে মানববন্ধনে যোগ দিলে মানববন্ধন চলাকালে অতর্কিত হামলা চালায় সাবেক সংসদ সদস্য রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার গ্রুপ। এর সাথে যোগদেন বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হুমায়ুন কবির মানিক ও তার লোকজন । শহিদুল হক মানিক চেয়ারম্যান আরো বলেন, গত পরশুদিন বিনা কারণে বদরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী জাইদুল হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী সরকারের লোকজন হামলা ও লুটপাট চালিয়ে ভাঙচুর করেন। তিনি আরো বলেন,
এসময় হামলাকারীরা মানববন্ধনের ব্যানার ছিড়ে ফেলেন এবং মাইক ভাংচুর করেন। তাদের হামলার আমার গ্রুপের লোকজন বাধা দিলে ব্যবসায়ীদের উপর হামলা চালায় এ ঘটনায় আমাদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে।
এ সময় জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের সমর্থক মোন্নাফ (৬০), কাঁচাবাড়ি এলাকার মিতু মিয়া (৪০) একই এলাকার মৃত আফসার আলী ছেলে শফিকুল (৫৫), মধুপুর কালজানি এলাকার লাবলু মিয়া (৪৫) কাঁচা বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে জয়নাল (২৫), মৃত মোহাম্মদ আলী ছেলে মুন্না ও মংলু গুরুতর আহত হলে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে গ্লোবাল টেলিভিশনের রংপুর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব বদরগঞ্জ এর সভাপতি নুরুন্নবী নুরু, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফুয়াদ হোসেন,বৈশাখী টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন সাইফুল ইসলাম মুকুল, নিউজ 24 এর ক্যামেরা পার্সন ফারুক হোসেন, সাংবাদিক আতিক রহমান, যায়যায়দিন পত্রিকার বদরগঞ্জ উপজেলা উপজেলা প্রতিনিধি মেজবাউল কোভিদ সবুজ সহ স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরাও মোবাইল ফোন কেড়ে নেন মোহাম্মদ আলী সরকারের সমর্থকরা।
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কে বা কারা কার দোকানে হামলা ভাঙচুর করেছে এই বিষয় নিয়ে মানিক চেয়ারম্যানের লোকজন ফেসবুকে আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস ও বক্তব্য দিয়ে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে মানিক চেয়ারম্যানের ভাড়াটিয়ে লোকজন হামলা চালিয়ে আমার লোকজনকে আহত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কমল লোহারি আমার দেশকে জানান, এটা দলীয় কোনো দ্বন্দ্ব নয়। মোহাম্মদ আলী সরকার ও মানিক চেয়ারম্যান তারা পূর্বে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তেন। তারই প্রতিফলন আজকের এই সংঘর্ষ। আমরা চাই না বদরগঞ্জে এরকম কোনো ঘটনা ঘটুক। আজ তাদের কারণে বদরগঞ্জবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আতিক জানান, বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য আমরা মাঠেই রয়েছি।
এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাপ্টেন মেহেদী আমার মাতৃভূমিকে জানান, বদরগঞ্জ থানার সাথে যোগাযোগ করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। আশা করি আর কোনো ঘটনা ঘটবে না।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নুরুন্নবী, ব্যুরো চিফ: 



















