ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ফতুল্লায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৮ চাঁদাবাজির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফির বিরুদ্ধে মামলা সারা বাংলাদেশের ২০২৫ এবং ২০২৬ এর টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক তনু হত্যা মামলায় আরও ২ সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জাতীয় পর্ব শুরু, খেলাধুলাই পারে জাতিকে এক সুতোয় গাঁথতে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক  হোসেনপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ স্বপ্নভঙ্গের মূল্য: ব্রুনাই থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের মানবিক বেদনা, রাষ্ট্রের দায় ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রশ্ন

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রকাশ্যে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ,পুলিশসহ আটক ৪

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার দারুল আমান বাজার এলাকায় মোহাম্মদ জুয়েল সরদার (৩২) ও ফয়সাল সরদার (২৪) নামের দুই কাপড় ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধূসর রঙের একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৯৮৫৮) এবং একটি কালো সুজুকি জিকসার মোটরসাইকেল এসে তাদের গতিরোধ করে। আটজনের একটি দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, অপহরণকারীরা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাদের মারধর করে লোহার রড, কিল-ঘুষি দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মাদারীপুরের লেকপাড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জুয়েলের ভাই স্বাধীন সরদারের কাছে ফোন করিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

প্রথমে ব্যাংক, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে আরও টাকা দাবি করলে কৌশলে তাদের ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলা হয়।

রাত ১টার দিকে অপহরণকারীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাইক্রোবাস থামিয়ে দেয় এবং তিনজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। বাকিরা পালিয়ে গেলেও পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- খুলনা জেলা পুলিশের কনস্টেবল (কং/১৭৩৩) কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (কং/৫৮৪৭) কাউসার তালুকদার (২৯), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল রুবায়েত মীর (২৭), কুমিল্লার লাকসামের বাসিন্দা শরীফ হোসেন (৩৫)।

আটক রুবায়েত মীর বলেন, ‘কাউসার আমাদের বস। অপহরণের সময় পাওয়া সব টাকা তার কাছেই আছে। আমি আর কিছু জানি না।’

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, অপহরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রকাশ্যে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ,পুলিশসহ আটক ৪

আপডেট সময় ০৪:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার দারুল আমান বাজার এলাকায় মোহাম্মদ জুয়েল সরদার (৩২) ও ফয়সাল সরদার (২৪) নামের দুই কাপড় ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধূসর রঙের একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৯৮৫৮) এবং একটি কালো সুজুকি জিকসার মোটরসাইকেল এসে তাদের গতিরোধ করে। আটজনের একটি দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, অপহরণকারীরা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাদের মারধর করে লোহার রড, কিল-ঘুষি দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মাদারীপুরের লেকপাড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জুয়েলের ভাই স্বাধীন সরদারের কাছে ফোন করিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

প্রথমে ব্যাংক, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে আরও টাকা দাবি করলে কৌশলে তাদের ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলা হয়।

রাত ১টার দিকে অপহরণকারীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাইক্রোবাস থামিয়ে দেয় এবং তিনজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। বাকিরা পালিয়ে গেলেও পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- খুলনা জেলা পুলিশের কনস্টেবল (কং/১৭৩৩) কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (কং/৫৮৪৭) কাউসার তালুকদার (২৯), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল রুবায়েত মীর (২৭), কুমিল্লার লাকসামের বাসিন্দা শরীফ হোসেন (৩৫)।

আটক রুবায়েত মীর বলেন, ‘কাউসার আমাদের বস। অপহরণের সময় পাওয়া সব টাকা তার কাছেই আছে। আমি আর কিছু জানি না।’

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, অপহরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।