ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান

শীতকালে ঠাণ্ডা আর পানি থেকে দূরে পালিয়ে বাঁচতে চায় মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া পানির কাছাকাছিও আসতে চায় না। গরম কাপড় জরিয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করে সবাই। যেখানে গ্রীষ্মকালে নিজেকে তৃপ্ত করতে বরফে ঢেলে, ফ্রিজে রেখে পানি পান করা হয়, শীতের মৌসুমে দেখা যায় উল্টো চিত্র। হিটারে গরম করে পান করা হয় পানি। মূলত শীতকালে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে বেঁচে থাকার প্রবণতা মানুষের স্বভাবজাত।

কিন্তু এরপরও বিশেষ প্রয়োজনে শীতকালেও পানি-ঠাণ্ডার মুখোমুখি হতেই হয়। অন্য আর সব প্রয়োজনের কথা বাদ দিলেও পাঁচবার নামাজের জন্য অজু করতেই হয়। অজু ছাড়া তো পবিত্রতা অর্জন সম্ভব নয়। অজুর সময় চেহারা, দুই হাত, মাথা, দুই পা-য়ে পানি স্পর্শ করাতেই হয়। তবে মানুষের সহজতার বিষয়টির প্রতি খেয়াল রেখে এমন পরিস্থিতিতে ইসলামে অজুর সময় পায়ের মোজার ওপর মাসেহের বিধান দেওয়া হয়েছে।

মোজা মাসেহের জন্য মুসাফির ও মুকিমের জন্য আলাদা আলাদা বিধান রয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মোজার ওপর মাসেহ করার সময় মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত।’ -(আবু দাউদ, ১৩৫)

তবে সব মোজার ওপরই মাসাহ করা যায় না। (যেমন- সুতা ও নায়লনের মোজার ওপর মাসেহ করলে হবে না।) বরং মোজার ওপর মাসেহ করার জন্য মোজাটি টাখনু পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এমন অথবা চামড়ার মোজার গুণে উত্তীর্ণ হতে হবে।

মোজার ওপর মাসেহ সহি হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এখানে তা তুলে ধরা হলো-

১. পবিত্র হয়ে মোজা পরা। অর্থাৎ অজু করে পা ধোয়ার পর মোজা পরা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৯)

২. মোজা দ্বারা টাখনু ঢাকা থাকতে হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৩৫৪)

৩. মোজা ফাটাছেঁড়া হলে পায়ের ছোট আঙুলের তিন আঙুল পরিমাণের কম ফাটাছেঁড়া থাকতে হবে। (আবু দাউদ ২৪২০, আল-আশবাহ ১/১১৪, আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা : ৩৭/২৬৫)

৪. উভয় মোজা বাঁধা ছাড়া পায়ে লেগে থাকতে হবে।

৫. তা ধারাবাহিক চলার উপযোগী হতে হবে। (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা : ৩৭/২৬৪)

৬. মোজা এমন মোটা হতে হবে যেন উপরে পানি পড়লে ভেতরে না পৌঁছায়।

৭. সংকীর্ণতা বা রাবার অথবা সুতা ইত্যাদি দিয়ে বাঁধা ছাড়াও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পায়ের সঙ্গে লেগে থাকে।

৮.  শুধু ওই মোজা পরিধান করেই দুই-তিন মাইল হাঁটা যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১/১৮৮; ফাতহুল ক্বদির : ১/১০৯)

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান

আপডেট সময় ১০:১৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২

শীতকালে ঠাণ্ডা আর পানি থেকে দূরে পালিয়ে বাঁচতে চায় মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া পানির কাছাকাছিও আসতে চায় না। গরম কাপড় জরিয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করে সবাই। যেখানে গ্রীষ্মকালে নিজেকে তৃপ্ত করতে বরফে ঢেলে, ফ্রিজে রেখে পানি পান করা হয়, শীতের মৌসুমে দেখা যায় উল্টো চিত্র। হিটারে গরম করে পান করা হয় পানি। মূলত শীতকালে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে বেঁচে থাকার প্রবণতা মানুষের স্বভাবজাত।

কিন্তু এরপরও বিশেষ প্রয়োজনে শীতকালেও পানি-ঠাণ্ডার মুখোমুখি হতেই হয়। অন্য আর সব প্রয়োজনের কথা বাদ দিলেও পাঁচবার নামাজের জন্য অজু করতেই হয়। অজু ছাড়া তো পবিত্রতা অর্জন সম্ভব নয়। অজুর সময় চেহারা, দুই হাত, মাথা, দুই পা-য়ে পানি স্পর্শ করাতেই হয়। তবে মানুষের সহজতার বিষয়টির প্রতি খেয়াল রেখে এমন পরিস্থিতিতে ইসলামে অজুর সময় পায়ের মোজার ওপর মাসেহের বিধান দেওয়া হয়েছে।

মোজা মাসেহের জন্য মুসাফির ও মুকিমের জন্য আলাদা আলাদা বিধান রয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মোজার ওপর মাসেহ করার সময় মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত।’ -(আবু দাউদ, ১৩৫)

তবে সব মোজার ওপরই মাসাহ করা যায় না। (যেমন- সুতা ও নায়লনের মোজার ওপর মাসেহ করলে হবে না।) বরং মোজার ওপর মাসেহ করার জন্য মোজাটি টাখনু পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এমন অথবা চামড়ার মোজার গুণে উত্তীর্ণ হতে হবে।

মোজার ওপর মাসেহ সহি হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এখানে তা তুলে ধরা হলো-

১. পবিত্র হয়ে মোজা পরা। অর্থাৎ অজু করে পা ধোয়ার পর মোজা পরা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৯)

২. মোজা দ্বারা টাখনু ঢাকা থাকতে হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৩৫৪)

৩. মোজা ফাটাছেঁড়া হলে পায়ের ছোট আঙুলের তিন আঙুল পরিমাণের কম ফাটাছেঁড়া থাকতে হবে। (আবু দাউদ ২৪২০, আল-আশবাহ ১/১১৪, আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা : ৩৭/২৬৫)

৪. উভয় মোজা বাঁধা ছাড়া পায়ে লেগে থাকতে হবে।

৫. তা ধারাবাহিক চলার উপযোগী হতে হবে। (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা : ৩৭/২৬৪)

৬. মোজা এমন মোটা হতে হবে যেন উপরে পানি পড়লে ভেতরে না পৌঁছায়।

৭. সংকীর্ণতা বা রাবার অথবা সুতা ইত্যাদি দিয়ে বাঁধা ছাড়াও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পায়ের সঙ্গে লেগে থাকে।

৮.  শুধু ওই মোজা পরিধান করেই দুই-তিন মাইল হাঁটা যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১/১৮৮; ফাতহুল ক্বদির : ১/১০৯)