সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
পীরগঞ্জে টিআর প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ - পর্ব- ১

সামনে জনপ্রতিনিধি, আড়ালে পিআইও—কাগজে সভাপতি, বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ অফিসের হাতে

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই একাধিক প্রকল্প পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের কেবল কাগজে-কলমে সভাপতি দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা/নগদ অর্থ) কর্মসূচির আওতায় পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের বিপরীতে মোট ৭২টি প্রকল্প অনুমোদন পায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি প্রকল্প বাস্তবে পিআইও নিজেই পরিচালনা করছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সভাপতি করা হলেও তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না—শুধু বিল উত্তোলনের চেকে স্বাক্ষর নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
চতরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, “আমাকে একটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু কাজ করছে পিআইও অফিসের লোকজন। শুধু চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কাবিলপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রীমা বেগম। তিনি বলেন, “আমি শুধু নামেই সভাপতি। কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, অফিসের লোকজন এসে কাজ তদারকি করে।”
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, তালিকার একাধিক প্রকল্প—যেমন শানেরহাট, পাঁচগাছি, মিঠিপুর ও রামনাথপুর ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তা সংস্কার ও সলিং কাজ—পিআইও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি তদারকি করছেন।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কয়েকজন ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে পিআইও নিজেই প্রকল্প পরিচালনা করছেন। এতে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়ের পর কাজ যাচাই করে দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়ার কথা। কিন্তু ইউএনও অফিসে বসেই চেকে স্বাক্ষর করছেন—যা সন্দেহজনক।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অনিয়মে জড়িত থাকার। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে, পীরগাছায় কর্মরত থাকাকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৬৬ মেট্রিক টন গম আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আব্দুল আজিজকে বদলি করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পুনরায় পীরগঞ্জে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা:
পিআইও আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করি না। কিছু সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লিখছেন। প্রকল্প আমি নিজে বাস্তবায়ন করার সুযোগ নেই। তবে বিশেষ কারণে দু-একটি ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, “প্রকল্প অনুমোদন নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নের দায়িত্ব ইউএনও ও পিআইও’র। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন বলেন, “পিআইও নিজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন কি না, তা আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

পীরগঞ্জে টিআর প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ - পর্ব- ১

সামনে জনপ্রতিনিধি, আড়ালে পিআইও—কাগজে সভাপতি, বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ অফিসের হাতে

আপডেট সময় ০৩:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই একাধিক প্রকল্প পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের কেবল কাগজে-কলমে সভাপতি দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা/নগদ অর্থ) কর্মসূচির আওতায় পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের বিপরীতে মোট ৭২টি প্রকল্প অনুমোদন পায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি প্রকল্প বাস্তবে পিআইও নিজেই পরিচালনা করছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সভাপতি করা হলেও তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না—শুধু বিল উত্তোলনের চেকে স্বাক্ষর নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
চতরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, “আমাকে একটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু কাজ করছে পিআইও অফিসের লোকজন। শুধু চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কাবিলপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রীমা বেগম। তিনি বলেন, “আমি শুধু নামেই সভাপতি। কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, অফিসের লোকজন এসে কাজ তদারকি করে।”
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, তালিকার একাধিক প্রকল্প—যেমন শানেরহাট, পাঁচগাছি, মিঠিপুর ও রামনাথপুর ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তা সংস্কার ও সলিং কাজ—পিআইও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি তদারকি করছেন।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কয়েকজন ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে পিআইও নিজেই প্রকল্প পরিচালনা করছেন। এতে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়ের পর কাজ যাচাই করে দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়ার কথা। কিন্তু ইউএনও অফিসে বসেই চেকে স্বাক্ষর করছেন—যা সন্দেহজনক।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অনিয়মে জড়িত থাকার। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে, পীরগাছায় কর্মরত থাকাকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৬৬ মেট্রিক টন গম আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আব্দুল আজিজকে বদলি করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পুনরায় পীরগঞ্জে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা:
পিআইও আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করি না। কিছু সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লিখছেন। প্রকল্প আমি নিজে বাস্তবায়ন করার সুযোগ নেই। তবে বিশেষ কারণে দু-একটি ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, “প্রকল্প অনুমোদন নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নের দায়িত্ব ইউএনও ও পিআইও’র। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন বলেন, “পিআইও নিজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন কি না, তা আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।