সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

বান্দরবানে কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে তালহা জুবায়ের মাসরুর

বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মাণাধীন একটি চারতলা ভবনকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুর। শুরু থেকেই প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কাজের শেষ পর্যায়ে এসে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তালহা জুবায়ের মাসরুরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে মূলত তদারকির অভাব, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্ব পালনে অনীহার কারণে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত না থেকে ঢাকায় বসেই পুরো কাজ মনিটরিং করছেন, যা একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যেসব উপকরণ সরবরাহ করছে, তারা তা দিয়েই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভবনের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ফিনিশিং কাজ চলমান থাকলেও টাইলস, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পাইপলাইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে এসব উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে ভবনের কাঠামোগত নির্মাণ নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত মানের রড ব্যবহার না করে কম মানের রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোর ভরাটের ক্ষেত্রে বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্মাণ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ধরে লোড টেস্ট করা বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রকল্পে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি এমন একটি নিরিবিলি স্থানে বাস্তবায়ন করা হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের নজর কম পড়ে। ফলে শুরু থেকেই অনেকটা আড়ালে রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরেজমিনে উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। মাঝে মধ্যে যখন তারা এলাকায় আসেন, তখন তাদের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে তদারকির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের মতে, একটি চারতলা ভবন নির্মাণে যেখানে ৭-৮ কোটি টাকা যথেষ্ট, সেখানে ১৬ কোটির বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। তাদের দাবি, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পেছনে দুর্নীতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তালহা জুবায়ের মাসরুরের দায়িত্ব ছিল কাজের প্রতিটি ধাপ তদারকি করা, মান নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্যে দেখা যায় যে তালহা জুবায়ের মাসরুর কৃষি খাতের একটি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন । তবে মাঠপর্যায়ে তার তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার এই অবস্থানকে অনেকেই জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে। বিশেষ করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে তদারকির অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সবশেষে বলা যায়, বান্দরবানের এই প্রকল্পটি কেবল একটি ভবন নির্মাণের বিষয় নয়, বরং এটি সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

বান্দরবানে কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে তালহা জুবায়ের মাসরুর

আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মাণাধীন একটি চারতলা ভবনকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুর। শুরু থেকেই প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কাজের শেষ পর্যায়ে এসে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তালহা জুবায়ের মাসরুরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে মূলত তদারকির অভাব, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্ব পালনে অনীহার কারণে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত না থেকে ঢাকায় বসেই পুরো কাজ মনিটরিং করছেন, যা একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যেসব উপকরণ সরবরাহ করছে, তারা তা দিয়েই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভবনের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ফিনিশিং কাজ চলমান থাকলেও টাইলস, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পাইপলাইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে এসব উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে ভবনের কাঠামোগত নির্মাণ নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত মানের রড ব্যবহার না করে কম মানের রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোর ভরাটের ক্ষেত্রে বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্মাণ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ধরে লোড টেস্ট করা বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রকল্পে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি এমন একটি নিরিবিলি স্থানে বাস্তবায়ন করা হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের নজর কম পড়ে। ফলে শুরু থেকেই অনেকটা আড়ালে রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরেজমিনে উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। মাঝে মধ্যে যখন তারা এলাকায় আসেন, তখন তাদের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে তদারকির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের মতে, একটি চারতলা ভবন নির্মাণে যেখানে ৭-৮ কোটি টাকা যথেষ্ট, সেখানে ১৬ কোটির বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। তাদের দাবি, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পেছনে দুর্নীতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তালহা জুবায়ের মাসরুরের দায়িত্ব ছিল কাজের প্রতিটি ধাপ তদারকি করা, মান নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্যে দেখা যায় যে তালহা জুবায়ের মাসরুর কৃষি খাতের একটি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন । তবে মাঠপর্যায়ে তার তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার এই অবস্থানকে অনেকেই জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে। বিশেষ করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে তদারকির অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সবশেষে বলা যায়, বান্দরবানের এই প্রকল্পটি কেবল একটি ভবন নির্মাণের বিষয় নয়, বরং এটি সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।