ডিভোর্সের এক বছর পার হলেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তা ৩৮তম বিসিএসের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আসিফ আল হাসান। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত থাকলেও সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে আসিফ আল হাসান ও সুবর্ণা সুলতানা সুমির আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাস–অবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং পারিবারিক কলহ চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর দুই পরিবারের বৈঠকে ডিভোর্সের প্রস্তাব ওঠে। পরে একই বছরের ২৫ নভেম্বর আইনগতভাবে ডিভোর্স কার্যকর হয়।
ডিভোর্সের পর থেকেই সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমির পক্ষ থেকে আইনি বিরোধ শুরু হয় বলে অভিযোগ আসিফ পরিবারের। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় আসিফ আল হাসানকে জড়ানো হচ্ছে, যা বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর সুবর্ণা সুলতানা সুমি নিজেকে এএসপির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে আসিফ পরিবার দাবি করলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিভোর্সের পর সুমি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন দপ্তরে আসিফ আল হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অন্যদিকে, হয়রানির আশঙ্কায় আসিফ আল হাসান নিজেও ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এছাড়াও ডিভোর্সের প্রায় ৩৫ দিন পর সুবর্ণা সুলতানা সুমি ঢাকা জেলা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। তবে আসিফ পরিবারের অভিযোগ, মামলার অজুহাত দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে পুলিশের উপস্থিতিতেই বাসা থেকে বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে এএসপি আসিফ আল হাসান উচ্চ আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিন লাভ করেন। এরপরও দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক জিডি ও অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে বলে দাবি পরিবারের। এমনকি ২০২২ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানায় নতুন করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
আসিফ আল হাসানের বাবা ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আমির হোসেন বলেন, “আমার ছেলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা মানসিক ও পেশাগতভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা সুলতানা সুমির বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে আসিফ পরিবার পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিভোর্সের পর একের পর এক মামলার অভিযোগে বিপর্যস্ত এএসপি আসিফ আল হাসান
-
পপি আসমা সিদ্দিকা - আপডেট সময় ০১:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- ৬৭৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ












