ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিহারী মুরাদ দিদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত সংঘাত অস্থিরতার দায় সরকার এড়াতে পারে না: এবি পার্টি ‘অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের’ মাহবুবুলসহ ১৮ জন কারাগারে রংপুর জেলায় বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা ‘কন্টেইনার সিটি’তে পরিণত হয়েছে ইসলামাবাদ কথা শোনেননি তাসকিন, ছয় উইকেট পাওয়ার পর যা লিখলেন স্ত্রী জুলাই বিপ্লব ইতিহাসের ইতিবাচক পরিবর্তন: ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহীর দুর্গাপুরে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভূক্ত মাদক নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার ১০ আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোমিনুল ইসলামের পিতা মোহাম্মদ হোসেন আর নেই !

অভিযান-১০ ট্রাজেডি : নিহতের স্বজনরা পেল ২১ লাখ টাকা

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান- ১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারকে চেক বিতরণ করা হয়েছে। নিহত ১৪ জনের স্বজনদের দেড় লাখ টাকা করে মোট ২১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে নৌ-দুর্যোগ তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ চেক বিতরণ করা হয়।

ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত হওয়া নিহত ১৪ পরিবারের মাঝে দেড় লাখ টাকা করে মোট ২১ লাখ টাকার চেক হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) শুভ্রা দাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ এর বরগুনা বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান, হিসাব কর্মকর্তা আসাদুল হক, হিসাব সহকারী আমিনুর রহমান। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, চাকরি জীবনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আমি দেখিনি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা ছাড়া এর কেউ অনুভব করতে পারবে না।

এরই অংশ হিসেবে এই পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের পাশে থাকার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে এড়াতে ত্রুটিপূর্ণ যান চলাচল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে। এ সময় নিহতদের স্মরণে পোটককাখালী গণকবরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান উপস্থিত সাংবাদিকরা। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান -১০ লঞ্চে ইঞ্জিন রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান ৪৯ যাত্রী। তাদের মধ্য থেকে ২৬ যাত্রীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আরও ২৩ মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে বরগুনার পোটকাখালী গণকবরে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়। দাফন করা ২৩ মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের জন্য ৪৭ জন স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই মাসে অজ্ঞাত পরিচয় দাফন হওয়া ১৪ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ১৪ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে আজ দেড় লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।  এর আগে শনাক্ত করে নিয়ে যাওয়া ১৮ মরদেহর পরিবারকে নৌ পরিবহন তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড হতে দেড় লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিহারী মুরাদ দিদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

অভিযান-১০ ট্রাজেডি : নিহতের স্বজনরা পেল ২১ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৫:১৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান- ১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারকে চেক বিতরণ করা হয়েছে। নিহত ১৪ জনের স্বজনদের দেড় লাখ টাকা করে মোট ২১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে নৌ-দুর্যোগ তহবিল ট্রাস্টি বোর্ডের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ চেক বিতরণ করা হয়।

ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত হওয়া নিহত ১৪ পরিবারের মাঝে দেড় লাখ টাকা করে মোট ২১ লাখ টাকার চেক হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) শুভ্রা দাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ এর বরগুনা বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান, হিসাব কর্মকর্তা আসাদুল হক, হিসাব সহকারী আমিনুর রহমান। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, চাকরি জীবনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আমি দেখিনি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা ছাড়া এর কেউ অনুভব করতে পারবে না।

এরই অংশ হিসেবে এই পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের পাশে থাকার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে এড়াতে ত্রুটিপূর্ণ যান চলাচল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে। এ সময় নিহতদের স্মরণে পোটককাখালী গণকবরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান উপস্থিত সাংবাদিকরা। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান -১০ লঞ্চে ইঞ্জিন রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান ৪৯ যাত্রী। তাদের মধ্য থেকে ২৬ যাত্রীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আরও ২৩ মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে বরগুনার পোটকাখালী গণকবরে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়। দাফন করা ২৩ মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের জন্য ৪৭ জন স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই মাসে অজ্ঞাত পরিচয় দাফন হওয়া ১৪ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ১৪ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে আজ দেড় লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।  এর আগে শনাক্ত করে নিয়ে যাওয়া ১৮ মরদেহর পরিবারকে নৌ পরিবহন তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড হতে দেড় লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।