ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উত্তরের বিভাগে টানা বৃষ্টির দাপট বেশি, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা মোদির কাছে ক্ষমা চাইলেন আপত্তিকর মন্তব্য করা সেই তরুণী বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কেন্দ্রীয় পর্ষদের নেতৃত্বে রুহুল আমিন -সাইশা সুলতানা সাদিয়া  রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার আহ্বান মার্কিন বিশেষ দূতের বেগুনের কেজি ১৫০ আর ৪০০ ছুঁই ছুঁই কাঁচা মরিচ এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ ৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

মানুষের মধ্যে ‘নীরবে’ মহামারি ঘটাতে পারে বার্ড ফ্লু, সংক্রমণ ১০ ছাড়ালেই বিপদ

  • স্বাস্থ্য ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:০২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭০৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি- সংগৃহীত

এইচ৫এন১ বা বার্ড ফ্লু নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কাই এবার গবেষণায় জোরালো হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, পাখি থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়ে এই ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় বা মহামারির জন্ম দিতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই মহামারি শুরু হতে পারে অত্যন্ত নীরবে এবং একবার মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ শুরু হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ২৫টি দেশে মোট ৯৯০ জন মানুষ এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৭৫ জন, যা ভাইরাসটির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেই ১৮ কোটির বেশি পাখি এবং ১৮টি অঙ্গরাজ্যের সহস্রাধিক দুগ্ধ খামার এই ভাইরাসের কবলে পড়েছে। সেখানে অন্তত ৭০ জন মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই খামারকর্মী।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে
ভারতের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিলিপ চেরিয়ান ও অধ্যাপক গৌতম মেনন এই বিষয়ে একটি নতুন গবেষণা পরিচালনা করেছেন, যা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মেনন বলেন, ‘‘মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু মহামারির ঝুঁকি এখন আর অবাস্তব কল্পনা নয়। তবে উন্নত নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি ঠেকানো সম্ভব।’’

গবেষকদের মতে, মহামারি শুরু হবে নীরবে—সম্ভবত কোনো পোলট্রি খামার বা বাজারের কর্মীর মাধ্যমে একটি সংক্রমিত পাখি থেকে মানুষের দেহে ভাইরাসটি প্রবেশের মধ্য দিয়ে। এরপর মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কি না, সেটাই হবে মূল ঝুঁকির জায়গা।

ঝুঁকির মাত্রা ও প্রতিরোধের উপায়
গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষ থেকে মানুষে আক্রান্তের সংখ্যা যদি ২ থেকে ১০-এর কোঠায় পৌঁছায়, তবে রোগটি প্রাথমিক সংস্পর্শ (পরিবার বা ঘনিষ্ঠজন) এবং গৌণ সংস্পর্শের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণার মডেলে দেখা গেছে, মাত্র দুটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি প্রাথমিক সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের (যেমন পরিবারের সদস্য) কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখা যায়, তবে প্রাদুর্ভাব নিশ্চিতভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু সংক্রমণের সংখ্যা যদি ১০-এ পৌঁছে যায়, তবে ধরে নিতে হবে ভাইরাসটি ইতোমধ্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতোই—উচ্চ মাত্রার জ্বর, কাশি, গলা ও শরীর ব্যথা এবং কখনো কখনো চোখের প্রদাহ (কনজাংটিভাইটিস)। গবেষকরা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়ানোর আগে তার জিনগত কোনো পরিবর্তন ঘটাচ্ছে কি না।


আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

উত্তরের বিভাগে টানা বৃষ্টির দাপট বেশি, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

মানুষের মধ্যে ‘নীরবে’ মহামারি ঘটাতে পারে বার্ড ফ্লু, সংক্রমণ ১০ ছাড়ালেই বিপদ

আপডেট সময় ০৮:০২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

এইচ৫এন১ বা বার্ড ফ্লু নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কাই এবার গবেষণায় জোরালো হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, পাখি থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়ে এই ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় বা মহামারির জন্ম দিতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই মহামারি শুরু হতে পারে অত্যন্ত নীরবে এবং একবার মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ শুরু হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ২৫টি দেশে মোট ৯৯০ জন মানুষ এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৭৫ জন, যা ভাইরাসটির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেই ১৮ কোটির বেশি পাখি এবং ১৮টি অঙ্গরাজ্যের সহস্রাধিক দুগ্ধ খামার এই ভাইরাসের কবলে পড়েছে। সেখানে অন্তত ৭০ জন মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই খামারকর্মী।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে
ভারতের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিলিপ চেরিয়ান ও অধ্যাপক গৌতম মেনন এই বিষয়ে একটি নতুন গবেষণা পরিচালনা করেছেন, যা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মেনন বলেন, ‘‘মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু মহামারির ঝুঁকি এখন আর অবাস্তব কল্পনা নয়। তবে উন্নত নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি ঠেকানো সম্ভব।’’

গবেষকদের মতে, মহামারি শুরু হবে নীরবে—সম্ভবত কোনো পোলট্রি খামার বা বাজারের কর্মীর মাধ্যমে একটি সংক্রমিত পাখি থেকে মানুষের দেহে ভাইরাসটি প্রবেশের মধ্য দিয়ে। এরপর মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কি না, সেটাই হবে মূল ঝুঁকির জায়গা।

ঝুঁকির মাত্রা ও প্রতিরোধের উপায়
গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষ থেকে মানুষে আক্রান্তের সংখ্যা যদি ২ থেকে ১০-এর কোঠায় পৌঁছায়, তবে রোগটি প্রাথমিক সংস্পর্শ (পরিবার বা ঘনিষ্ঠজন) এবং গৌণ সংস্পর্শের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণার মডেলে দেখা গেছে, মাত্র দুটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি প্রাথমিক সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের (যেমন পরিবারের সদস্য) কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখা যায়, তবে প্রাদুর্ভাব নিশ্চিতভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু সংক্রমণের সংখ্যা যদি ১০-এ পৌঁছে যায়, তবে ধরে নিতে হবে ভাইরাসটি ইতোমধ্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতোই—উচ্চ মাত্রার জ্বর, কাশি, গলা ও শরীর ব্যথা এবং কখনো কখনো চোখের প্রদাহ (কনজাংটিভাইটিস)। গবেষকরা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়ানোর আগে তার জিনগত কোনো পরিবর্তন ঘটাচ্ছে কি না।