ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে যা বলল মিয়ানমার

ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে সীমান্তে মর্টার শেল হামলার দায় আরাকান আর্মি ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ওপর চাপিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরে আরাকান আর্মি ও আরসার ঘাঁটি রয়েছে বলে অভিযোগ করে সেগুলোর তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

dhakapost

বিবৃ‌তিতে বলা হয়, ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের তুলে ধরা বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে গোলাগুলির বিষয়ে চলমান পরিস্থিতি বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন মহাপরিচালক ফিউ উইন।

মহাপরিচালক বলেছেন, আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা ১৬ সেপ্টেম্বর বিপি-৩১ নম্বরের বর্ডার গার্ড পুলিশের তাউংপিও চৌকিতে মর্টার হামলায় চালায়, যার মধ্যে তিনটি মর্টার বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে পড়ে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছেন, আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা পুনরায় একই অস্ত্র ব্যবহার করে এবং ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে বিপি-৩৪ নম্বরে বর্ডার গার্ড পুলিশের তাউংপিউ চৌকি আক্রমণ করে, যেখানে ৯টি মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশের মাটিতে।

মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাস্তবিক ঘটনা তুলে ধরে মহাপরিচালক উল্লেখ করেছেন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে অব্যাহতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা।

মহাপরিচালক বলেছেন, সীমান্ত নিকটবর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমার সবসময় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি মেনে চলে এবং বাংলাদেশসহ সব দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সীমান্তে শান্ত পরিস্থিতি বজায় রাখতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একস‌ঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দিক থেকে সম্পূর্ণ ও একই ধরনের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীদের পরিখা ও ঘাঁটি থাকার তথ্য ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানোর কথা স্মরণ করেছেন মহাপরিচালক। এক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্ত এবং সেসব স্থাপনা ও ঘাঁটি ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের আহ্বান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন ঘটনাবলির বাস্তব তথ্য দিয়ে একটি আন-অফিসিয়াল পেপার রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সীমান্তে গোলা ছোড়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। পরে ৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো আরও একটি মর্টারশেল এসে পড়ে বাংলাদেশে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজু আমতলী বিজিবি বিওপি আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৪০-৪১ এর মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সবশেষ শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার কোনারপাড়ার বাসিন্দা নুর হাসিনার বাড়িতে এসে পড়ে মর্টার শেল, যা বিস্ফোরিত হয়নি।

তবে তার বাড়ির কিছু দূরে আরও একটি মর্টার শেল পড়ে বিস্ফোরিত হয়। যার শব্দে কেঁদে ওঠে নুর হাসিনার ৪ মাসের কন্যা শিশু। আতঙ্কে তার পুরো পরিবার এখন আশ্রয় নিয়েছে তুমব্রু মাঝেরপাড়ার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে যা বলল মিয়ানমার

আপডেট সময় ০৬:৩৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে সীমান্তে মর্টার শেল হামলার দায় আরাকান আর্মি ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ওপর চাপিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরে আরাকান আর্মি ও আরসার ঘাঁটি রয়েছে বলে অভিযোগ করে সেগুলোর তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

dhakapost

বিবৃ‌তিতে বলা হয়, ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের তুলে ধরা বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে গোলাগুলির বিষয়ে চলমান পরিস্থিতি বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন মহাপরিচালক ফিউ উইন।

মহাপরিচালক বলেছেন, আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা ১৬ সেপ্টেম্বর বিপি-৩১ নম্বরের বর্ডার গার্ড পুলিশের তাউংপিও চৌকিতে মর্টার হামলায় চালায়, যার মধ্যে তিনটি মর্টার বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে পড়ে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছেন, আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা পুনরায় একই অস্ত্র ব্যবহার করে এবং ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে বিপি-৩৪ নম্বরে বর্ডার গার্ড পুলিশের তাউংপিউ চৌকি আক্রমণ করে, যেখানে ৯টি মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশের মাটিতে।

মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাস্তবিক ঘটনা তুলে ধরে মহাপরিচালক উল্লেখ করেছেন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে অব্যাহতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা।

মহাপরিচালক বলেছেন, সীমান্ত নিকটবর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমার সবসময় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি মেনে চলে এবং বাংলাদেশসহ সব দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সীমান্তে শান্ত পরিস্থিতি বজায় রাখতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একস‌ঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দিক থেকে সম্পূর্ণ ও একই ধরনের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীদের পরিখা ও ঘাঁটি থাকার তথ্য ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানোর কথা স্মরণ করেছেন মহাপরিচালক। এক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্ত এবং সেসব স্থাপনা ও ঘাঁটি ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের আহ্বান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন ঘটনাবলির বাস্তব তথ্য দিয়ে একটি আন-অফিসিয়াল পেপার রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সীমান্তে গোলা ছোড়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। পরে ৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো আরও একটি মর্টারশেল এসে পড়ে বাংলাদেশে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজু আমতলী বিজিবি বিওপি আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৪০-৪১ এর মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সবশেষ শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার কোনারপাড়ার বাসিন্দা নুর হাসিনার বাড়িতে এসে পড়ে মর্টার শেল, যা বিস্ফোরিত হয়নি।

তবে তার বাড়ির কিছু দূরে আরও একটি মর্টার শেল পড়ে বিস্ফোরিত হয়। যার শব্দে কেঁদে ওঠে নুর হাসিনার ৪ মাসের কন্যা শিশু। আতঙ্কে তার পুরো পরিবার এখন আশ্রয় নিয়েছে তুমব্রু মাঝেরপাড়ার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।