ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

তাসবিহে ফাতেমি কী? পড়লে যে সওয়াব হয়

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে এবং ঘুমানোর আগে (৩৩) বার সুবহানাল্লাহ, (৩৩) বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং (৩৪) বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথা হাদিসে রয়েছে। একে তাসবিহে ফাতেমি বলা হয়। এর বিশেষ সওয়াব রয়েছে। এই তাসবিহগুলোর প্রত্যেকটিতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসামূলক বাক্য রয়েছে। এই তাসবিহ প্রচলনের পেছনে বিশেষ একটি ঘটনা রয়েছে।

হাদিস থেকে জানা যায়- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের সদস্য ও মেয়েদের মধ্যে সব থেকে আদরের ছিলেন হজরত ফাতেমা রা.। তিনি সংসারের সব কাজ নিজ হাতেই করতেন। হজরত আলী রা. বলেন, একবার গমের চাক্কি পেষণ করতে করতে ফাতেমা রা.-এর হাতে ফসকা পড়ে যায়, এতে তার কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল।

আলী রা. বলেন, আমি হজরত ফাতেমা (রা.)-কে বললাম, যদি তুমি তোমার বাবার কাছে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে নাও, তাহলে ভালো হয়।  এতে তোমার কাজকর্ম করতে সুবিধা হবে।

হজরত ফাতেমা রা. রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলেন, কিন্তু  সেখানে অনেকের ভিড় থাকায় ফিরে এলেন। পরদিন রাসুল (সা.) নিজেই মেয়ের বাড়িতে এসে বললেন, ‘গতকাল তুমি কী কাজে গিয়েছিলে?’ তিনি চুপ হয়ে গেলেন (লজ্জায় কথা বলতে পারলেন না)।

একথা শুনে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ফাতেমা! আল্লাহকে ভয় করো, এবং তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করো, আর ঘরের কাজকর্ম করতে থাকো।

আল্লাহর রাসুল (সা.) তার মেয়ে ফাতেমা রা. ও জামাতা হযরত আলী রা.-কে আরও বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু বলে দেবো না— যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা (৩৩) বার সুবহানাল্লাহ, (৩৩) বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং (৩৪) বার আল্লাহু আকবার বলবে; তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে।’ -(বুখারি, হাদিস : ৩৭০৫)’

এ কথা শুনে ফাতেমা (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য এবং তাঁর রাসুলের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট’। (বুখারি (ইফা), হাদিস : ৩৪৪০)

আরেক হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো বোনের ঘটনাও এভাবেই এসেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই বোন ও রাসুল (সা.)-এর কন্যা হজরত ফাতেমা (রা.) মিলে রাসুল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। আমরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে একজন খাদেম চাইলাম।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘খাদেম দেওয়ার ক্ষেত্রে তো বদরের পুত্রহারা সন্তান তোমার চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। আমি তোমাদের খাদেমের চেয়েও অধিক উত্তম জিনিস বলব। প্রত্যেক নামাজের পর এই তিনটি শব্দ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার আর একবার এই দোয়া পড়বে—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির। -(মুসলিম, হাদিস : ১২৩৯)

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তাসবিহে ফাতেমি কী? পড়লে যে সওয়াব হয়

আপডেট সময় ১২:৫৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে এবং ঘুমানোর আগে (৩৩) বার সুবহানাল্লাহ, (৩৩) বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং (৩৪) বার আল্লাহু আকবার পড়ার কথা হাদিসে রয়েছে। একে তাসবিহে ফাতেমি বলা হয়। এর বিশেষ সওয়াব রয়েছে। এই তাসবিহগুলোর প্রত্যেকটিতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসামূলক বাক্য রয়েছে। এই তাসবিহ প্রচলনের পেছনে বিশেষ একটি ঘটনা রয়েছে।

হাদিস থেকে জানা যায়- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের সদস্য ও মেয়েদের মধ্যে সব থেকে আদরের ছিলেন হজরত ফাতেমা রা.। তিনি সংসারের সব কাজ নিজ হাতেই করতেন। হজরত আলী রা. বলেন, একবার গমের চাক্কি পেষণ করতে করতে ফাতেমা রা.-এর হাতে ফসকা পড়ে যায়, এতে তার কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল।

আলী রা. বলেন, আমি হজরত ফাতেমা (রা.)-কে বললাম, যদি তুমি তোমার বাবার কাছে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে নাও, তাহলে ভালো হয়।  এতে তোমার কাজকর্ম করতে সুবিধা হবে।

হজরত ফাতেমা রা. রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলেন, কিন্তু  সেখানে অনেকের ভিড় থাকায় ফিরে এলেন। পরদিন রাসুল (সা.) নিজেই মেয়ের বাড়িতে এসে বললেন, ‘গতকাল তুমি কী কাজে গিয়েছিলে?’ তিনি চুপ হয়ে গেলেন (লজ্জায় কথা বলতে পারলেন না)।

একথা শুনে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ফাতেমা! আল্লাহকে ভয় করো, এবং তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করো, আর ঘরের কাজকর্ম করতে থাকো।

আল্লাহর রাসুল (সা.) তার মেয়ে ফাতেমা রা. ও জামাতা হযরত আলী রা.-কে আরও বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু বলে দেবো না— যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা (৩৩) বার সুবহানাল্লাহ, (৩৩) বার আলহামদুলিল্লাহ্ এবং (৩৪) বার আল্লাহু আকবার বলবে; তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে।’ -(বুখারি, হাদিস : ৩৭০৫)’

এ কথা শুনে ফাতেমা (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য এবং তাঁর রাসুলের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট’। (বুখারি (ইফা), হাদিস : ৩৪৪০)

আরেক হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো বোনের ঘটনাও এভাবেই এসেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই বোন ও রাসুল (সা.)-এর কন্যা হজরত ফাতেমা (রা.) মিলে রাসুল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। আমরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে একজন খাদেম চাইলাম।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘খাদেম দেওয়ার ক্ষেত্রে তো বদরের পুত্রহারা সন্তান তোমার চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। আমি তোমাদের খাদেমের চেয়েও অধিক উত্তম জিনিস বলব। প্রত্যেক নামাজের পর এই তিনটি শব্দ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার আর একবার এই দোয়া পড়বে—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির। -(মুসলিম, হাদিস : ১২৩৯)