মিরপুর গৃহকর্মী আঞ্চলিক ফোরাম, মিরপুর, ঢাকা আয়োজিত “গৃহকর্মী সুরক্ষা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজ ও গৃহকর্মী ফোরাম -এর সংলাপ” অনুষ্ঠিত হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে। এতে গৃহকর্মীদের স্বীকৃতি ও অধিকার বিষয়ে স্থানীয় সরকার, জনপ্রশাসন, নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে আলোচনা হয়।
গৃহকর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে অংশগ্রহণকারীরা গৃহকর্মীদের জন্য আরও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও সেবা প্রদানে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রথমে স্বাগত বক্তব্য দেন জাকিয়া সুলতানা, মিরপুর গৃহকর্মী আঞ্চলিক ফোরামের প্রতিনিধি। তিনি গৃহকর্মীদের অধিকার আদায়ের জন্য তাদের পরিচিতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সানজিদা সুলতানা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, কর্মজীবী নারী। তিনি বলেন, “গৃহকর্মীদের একটি সার্ভে করা উচিত যাতে আমরা জানি বাংলাদেশে কতজন গৃহকর্মী আছেন এবং তাদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।”
এছাড়া, গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম বাংলাদেশ এবং মিরপুর গৃহকর্মী আঞ্চলিক ফোরামের সদস্যরা তাদের অধিকার ও কল্যাণ নীতিমালা ২০২৫ এর আলোকে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। তারা শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান এবং তাদের জন্য শ্রমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সৈয়দ সুলতানুদ্দিন আহমেদ, তিনি বলেন, “গৃহকর্মীরা তাদের অধিকার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের এখন শুধু নীতিমালা তৈরি নয়, বরং কার্যকরভাবে আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সমাজসেবা অধিদপ্তরের আইয়ুব খান, উপ-পরিচালক, সমাজসেবা অফিস বলেন, “আইন দিয়ে সব কাজ করা সম্ভব নয়, তবে আমরা আইনগত বাধা ছাড়াও সেবা প্রদান করে থাকি। গৃহকর্মীরা রাষ্ট্রীয় নাগরিক এবং তাদের সেবা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিনিধি মো: সাদ্দাম হোসেন খান বলেন, “গৃহকর্মীদের সংখ্যা চিহ্নিত করতে একটি জরিপ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আমাদের কাজের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দেবে।”
মিরপুর মডেল থানার এসআই সালমা আক্তার জানান, ৪ বছর আগে গৃহকর্মীরা এতো সচেতন ছিল না, কিন্তু এখন তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলছে। গৃহকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন আইনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া, সভায় অংশগ্রহণ করেন তারেক আজিজ, প্রকল্প সমন্বয়ক, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, কর্মজীবি নারী প্রতিনিধিগণ, ডিএসকের প্রতিনিধিগণ, গৃহকর্মী জাতীয় ও আঞ্চলিক ফোরামের সদস্যরা, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও সংবাদিকবৃন্দ। তাদের উপস্থিতি সভার গুরুত্ব বৃদ্ধি করে এবং গৃহকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একসাথে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
জাকিয়া সুলতানা সভার সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংলাপের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।এ সভায় অংশগ্রহণকারীরা গৃহকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
শাহারিয়া আহমেদ নয়ন,এস ইউ প্রতিনিধি 






















