১৬ ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫ রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ববি’র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদেরকে ফ্যাসিস্ট বলে মন্তব্য করেছেন ববি উপাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক শুচিতা শরমিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শিক্ষার্থীসহ সবাই ফ্যাসিস্ট আমলের। কেউ যদি বলে আমি ফ্যাসিস্টের কেউ নই, তা তারা দাবি করতে পারবেনা। তারা ফ্যাসিস্টের আমলেই রিক্রুটেড। আমরা জানি কীভাবে রিক্রুটমেন্ট হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে ও সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে চলমান আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি বার্তা দেন, সেগুলো হলো-
১. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পূর্নবাসন চলমান যৌক্তিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা ষড়যন্ত্রমূলক হয়রানি মামলা অবিলম্বে ৬ ঘন্টার ভিতর প্রত্যাহার করতে হবে।
২. অবিলম্বে সিন্ডিকেট মেম্বারদের নাম প্রকাশ ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩. আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে অতিদ্রুত অপসারণ ঘোষণা করতে হবে। এবং ভিসি দফতরে যে সকল আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আছে তাদেরও অপসারণ করতে হবে।
৪. ছাত্র সংসদের জন্য শিক্ষকদের দ্বারা কমিটি করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে হবে (বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী যে আইনটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে না সেটার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কে অনুসরণ করবে।
৪. ২৯ শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী এবং ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙচুরে জড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের সকল কর্মীদের অবিলম্বে একাডেমিক এবং আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন সহ গত ৩রা ডিসেম্বরের দাবিগুলোর অগ্রগতি কতদূর তা শিক্ষার্থীদের কাছে ১২ ঘন্টার মধ্যে স্পষ্ট করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে উপাচার্য কিভাবে আওয়ামী দোসরদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনর্বাসন করা যায় তার পায়তারা করেছেন৷ এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে হামলাকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি রুমের দরজা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের ক্ষতি সাধন করে ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাড়িয়ে নিয়ে বিজয় উদযাপন করলেও প্রশাসনের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন। উলটো ছাত্রলীগের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন গতকাল থানায় অভিযোগ দায়ের করতে থানায় গিয়েছে। যা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।
শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনের কিছু সময় পর ববি উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আমাদের মার্তৃভূমি ডেস্ক : 






















