ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে তেল পাম্প খোলা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক

ঢাকা: জ্বালানি বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

তবে ধর্মঘটের প্রথমদিনেই রাজধানীতে দেখা গেল অনেক পাম্পই খোলা। তারা ধর্মঘট মানছেন না। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে সেসব পাম্পে।

কল্যাণপুরের অন্যতম বড় তেল ও সিএনজি পাম্প খালেক সার্ভিস সেন্টারে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাকর্মচারী শাহাদত তালুকদার জানালেন, আমাদের পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে। যারা ধর্মঘট ডেকেছে তারা ভুয়া।

মিরপুরের রোকেয়া সরণির তেল পাম্পের কর্মচারী রাশেল জানালেন, ধর্মঘটের ব্যাপারে আমরা জানি না। আমাদের মজুদে যতক্ষণ তেল আছে বিক্রি করবো।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, তেজগাঁও ও মতিঝিলের ১৮টি তেল পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, এসব পাম্প খোলা এবং যথারীতি তেল বিক্রি হচ্ছে। পাম্প থেকে জানানো হলো পাম্প খোলাই আছে। ধর্মঘটের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা নেই।

রাজধানীর এসব তেল পাম্পে অন্যদিনের মতোই তেল বিক্রি হচ্ছে। কোনো পাম্পেই তেল না নিয়ে গাড়ি ফিরছে না। এ বিষয়ে কোনো গাড়ির ড্রাইভার বা মটরসাইকেলচালকেরই অভিযোগ নেই যে, তারা তেল পাচ্ছে না।

গাবতলীতে গাড়িচালক আর্জেদ আলী জানান, শুনেছিলাম তেল পাম্পের ধর্মঘট আছে। কই সব পাম্পই তো খোলা, তেলও নিছি।

গাবতলীর সোহরাব সার্ভিসে কর্মরত জাকির হোসেন জানান, আমরা তেল বিক্রি করছি। ধর্মঘট আছে কিনা জানি না। আমাদের জানানোও হয়নি; এ বিষয়ে জানেন আমাদের ম্যানেজার। ম্যানেজারের খোঁজ করলে জানানো তিনি এখনো আসেননি।

আমাদের নিজস্ব গাড়িগুলোকে তো তেল দিতেই হয়। এজন্য হলেও তো আমাদের খোলা রাখতে হবে; বলেন জাতির হোসেন।

বিজয় সরণির সবচেয়ে বড় তেল পাম্প ট্রাস্টে দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই মটরসাইকেলসহ সব ধরনের গাড়ির লম্বা লাইন সেখানে।

একজন গাড়িচালক জানালেন, শুনেছিলাম তেল পাম্পে ধর্মঘট আছে। কিন্তু সকালে তেমন দেখছি না। পেছনে কয়েকটা পাম্প খোলা দেখলাম খোলা, এটাও খোলা। তেল নিচ্ছি।

ট্রাস্টের তেল পাম্পে কর্মরত আ. রাজ্জাক বললেন, আমরা ধর্মঘট সম্পর্কে জানি না। আমরা আমাদের মত করে তেল বিক্রি করছি। আমরা কোনো ধর্মঘটের সঙ্গে নেই।

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ডাক দেওয়া ধর্মঘটে তিনদফা দাবি- বর্তমানে প্রতি লিটার জ্বালানি তেল বিক্রি করে ২০ পয়সা কমিশন পায় পেট্রলপাম্প। এটি বাড়িয়ে বিক্রয়মূল্যের সাড়ে ৭ শতাংশ করতে হবে। বাকি দাবির মধ্যে আছে পেট্রলপাম্পের ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট ও ট্যাংকলরি ভাড়ার ওপর ভ্যাট সংযুক্ত নয়; এটি আলাদা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। ২৫ বছরের বেশি বয়সী ট্যাংকলরির ইকোনমিক লাইফের জন্য পৃথকভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে খুলনার খালিশপুরে ট্যাংকলরি ভবনে সভা করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠন।

সংগঠনগুলো হলো – বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে তেল পাম্প খোলা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক

আপডেট সময় ১১:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঢাকা: জ্বালানি বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

তবে ধর্মঘটের প্রথমদিনেই রাজধানীতে দেখা গেল অনেক পাম্পই খোলা। তারা ধর্মঘট মানছেন না। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে সেসব পাম্পে।

কল্যাণপুরের অন্যতম বড় তেল ও সিএনজি পাম্প খালেক সার্ভিস সেন্টারে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাকর্মচারী শাহাদত তালুকদার জানালেন, আমাদের পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে। যারা ধর্মঘট ডেকেছে তারা ভুয়া।

মিরপুরের রোকেয়া সরণির তেল পাম্পের কর্মচারী রাশেল জানালেন, ধর্মঘটের ব্যাপারে আমরা জানি না। আমাদের মজুদে যতক্ষণ তেল আছে বিক্রি করবো।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, তেজগাঁও ও মতিঝিলের ১৮টি তেল পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, এসব পাম্প খোলা এবং যথারীতি তেল বিক্রি হচ্ছে। পাম্প থেকে জানানো হলো পাম্প খোলাই আছে। ধর্মঘটের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা নেই।

রাজধানীর এসব তেল পাম্পে অন্যদিনের মতোই তেল বিক্রি হচ্ছে। কোনো পাম্পেই তেল না নিয়ে গাড়ি ফিরছে না। এ বিষয়ে কোনো গাড়ির ড্রাইভার বা মটরসাইকেলচালকেরই অভিযোগ নেই যে, তারা তেল পাচ্ছে না।

গাবতলীতে গাড়িচালক আর্জেদ আলী জানান, শুনেছিলাম তেল পাম্পের ধর্মঘট আছে। কই সব পাম্পই তো খোলা, তেলও নিছি।

গাবতলীর সোহরাব সার্ভিসে কর্মরত জাকির হোসেন জানান, আমরা তেল বিক্রি করছি। ধর্মঘট আছে কিনা জানি না। আমাদের জানানোও হয়নি; এ বিষয়ে জানেন আমাদের ম্যানেজার। ম্যানেজারের খোঁজ করলে জানানো তিনি এখনো আসেননি।

আমাদের নিজস্ব গাড়িগুলোকে তো তেল দিতেই হয়। এজন্য হলেও তো আমাদের খোলা রাখতে হবে; বলেন জাতির হোসেন।

বিজয় সরণির সবচেয়ে বড় তেল পাম্প ট্রাস্টে দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই মটরসাইকেলসহ সব ধরনের গাড়ির লম্বা লাইন সেখানে।

একজন গাড়িচালক জানালেন, শুনেছিলাম তেল পাম্পে ধর্মঘট আছে। কিন্তু সকালে তেমন দেখছি না। পেছনে কয়েকটা পাম্প খোলা দেখলাম খোলা, এটাও খোলা। তেল নিচ্ছি।

ট্রাস্টের তেল পাম্পে কর্মরত আ. রাজ্জাক বললেন, আমরা ধর্মঘট সম্পর্কে জানি না। আমরা আমাদের মত করে তেল বিক্রি করছি। আমরা কোনো ধর্মঘটের সঙ্গে নেই।

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ডাক দেওয়া ধর্মঘটে তিনদফা দাবি- বর্তমানে প্রতি লিটার জ্বালানি তেল বিক্রি করে ২০ পয়সা কমিশন পায় পেট্রলপাম্প। এটি বাড়িয়ে বিক্রয়মূল্যের সাড়ে ৭ শতাংশ করতে হবে। বাকি দাবির মধ্যে আছে পেট্রলপাম্পের ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট ও ট্যাংকলরি ভাড়ার ওপর ভ্যাট সংযুক্ত নয়; এটি আলাদা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। ২৫ বছরের বেশি বয়সী ট্যাংকলরির ইকোনমিক লাইফের জন্য পৃথকভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে খুলনার খালিশপুরে ট্যাংকলরি ভবনে সভা করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠন।

সংগঠনগুলো হলো – বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।