সংবাদ শিরোনাম ::
কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পুড়লো বসতবাড়ি ৫ আগস্টের পর ভাগ্য বদলে গেছে জামায়াত নেতার ছেলের রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসের ইউরোপ সফর, উঠছে নানা প্রশ্ন ঢাকার গুলিস্তানে সিলগালা ভেঙে পার্কিংয়ে সহস্রাধিক অবৈধ দোকান কাজ না করেই সরকারি প্রকল্পের ১২ কোটি টাকা নিয়ে গেল ঠিকাদার বিপিসির আহম্মদুল্লাহর ঢাকায় বহুতল ভবন, গ্রামে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি রাষ্ট্রের টাকায় ব্যক্তিগত ‘ভবিষ্যৎ’ গড়লেন সামি! নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি

সাকরাইন সামনে রেখে পুরান ঢাকায় উৎসবের আমেজ

পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন উৎসব হচ্ছে সাকরাইন বা পৌষসংক্রান্তি। প্রতি বছরের মতো এবছরও পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। পুরান ঢাকার আকাশ রঙ-বেরঙের ঘুড়িতে ছেয়ে যায় এই উৎসবে। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার আকাশে উড়বে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। আর তা নিয়ে ছোট-বড় সবার মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

উৎসব সামনে রেখে পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে চলছে ঘুড়ি ও অন্য উপকরণ (ঘুড়ি, নাটাই, সুতো) বিক্রির উৎসব। ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। শাঁখারিবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর সাকরাইনে লক্ষাধিক ঘুড়ি বিক্রি করেন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ঘুড়ি, নাটাই ও সুতো বিক্রি হয় বলেও জানান তারা।

dhakapost

চশমাদার, কাউটাদার, পঙ্খিরাজ, প্রজাপতি, চক্ষুদার, ঈগল, সাদা ঘুড়ি, চারবোয়া, দুই বোয়া, টেক্কা, লাভ ঘুড়ি, ৩ টেক্কা, মালাদার, দাবা ঘুড়ি, বাদুর, চিল, অ্যাংরি বার্ডসহ নানা নামে ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে শাঁখারিবাজারে। এছাড়াও এবার আমির খান, শাহরুখ খানসহ অনেক সুপার স্টার-কিংবদন্তির ছবিসহ ঘুড়ি উড়বে ঢাকার আকাশে।

শাঁখারিবাজারে সাধারণ ঘুড়ি ৮ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ও নকশা করা ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। নানা রকমের বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, লোহা নাটাই, কাঠের নাটাই, চাবাডী নাটাই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ড্রাগন সুতা, ভূত সুতা, বিলাই সুতোসহ ঘুড়ি ওড়ানোর বিভিন্ন ধরনের সুতা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেক ৫০০ টাকায়।

dhakapost

শাঁখারিবাজারের নিখিল চন্দ্র  বলেন, সাকরাইনকে সামনে রেখে ভালোই বেচাকেনা চলছে আমাদের। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন ঘুড়ি কিনতে। আমাদের দোকানে ৮ থেকে ১০ রকমের ঘুড়ি রয়েছে। ঘুড়ির সঙ্গে নাটাই, সুতাও ভালোই বিক্রি হচ্ছে।

অপূর্ব প্রোডাক্টের ব্যবসায়ী তিতাস বলেন, আমার ছোট দোকান। বড় কোনো ক্রেতা আসে না। তরুণ-তরুণীরা আসে বেশি। সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছে বেচাকেনা।

শাঁখারিবাজারে লালবাগ থেকে ঘুড়ি কিনতে এসেছে ইমরান ও তার বন্ধু সাইদ। দুজনই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা  বলেন, প্রতি বছর সাকরাইন এলেই আমরা সবাই মিলে ঘুড়ি কিনতে এখানে আসি। এখানে সব রকমের ঘুড়ি পাওয়া যায়।

dhakapost

নারিন্দা থেকে সোহেল রানা তার ১০ বছর বয়সী সন্তান সাদিতকে নিয়ে এসেছেন ঘুড়ি কিনতে। তিনি বলেন, একসময় আমরা ঘুড়ি উড়িয়েছি। এখন আমাদের বচ্চাদের সময়, তাই তাদের প্রতি বছর ঘুড়ি কিনে দিতে হয়। ওদের ঘুড়ি ওড়ানো দেখে আমরাও সেই সোনালী অতীতকে স্মরণ করি।

শনিবার সকাল থেকে শুরু হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলা হয়। এই দিনে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রঙবেরঙে ফানুসে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী শহরের আকাশ। এখন পুরান ঢাকা ছাড়াও ঢাকার অন্যান্য এলাকায় এই উৎসব পালন করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক

সাকরাইন সামনে রেখে পুরান ঢাকায় উৎসবের আমেজ

আপডেট সময় ০২:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩

পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন উৎসব হচ্ছে সাকরাইন বা পৌষসংক্রান্তি। প্রতি বছরের মতো এবছরও পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। পুরান ঢাকার আকাশ রঙ-বেরঙের ঘুড়িতে ছেয়ে যায় এই উৎসবে। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার আকাশে উড়বে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। আর তা নিয়ে ছোট-বড় সবার মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

উৎসব সামনে রেখে পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে চলছে ঘুড়ি ও অন্য উপকরণ (ঘুড়ি, নাটাই, সুতো) বিক্রির উৎসব। ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। শাঁখারিবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর সাকরাইনে লক্ষাধিক ঘুড়ি বিক্রি করেন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ঘুড়ি, নাটাই ও সুতো বিক্রি হয় বলেও জানান তারা।

dhakapost

চশমাদার, কাউটাদার, পঙ্খিরাজ, প্রজাপতি, চক্ষুদার, ঈগল, সাদা ঘুড়ি, চারবোয়া, দুই বোয়া, টেক্কা, লাভ ঘুড়ি, ৩ টেক্কা, মালাদার, দাবা ঘুড়ি, বাদুর, চিল, অ্যাংরি বার্ডসহ নানা নামে ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে শাঁখারিবাজারে। এছাড়াও এবার আমির খান, শাহরুখ খানসহ অনেক সুপার স্টার-কিংবদন্তির ছবিসহ ঘুড়ি উড়বে ঢাকার আকাশে।

শাঁখারিবাজারে সাধারণ ঘুড়ি ৮ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ও নকশা করা ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। নানা রকমের বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, লোহা নাটাই, কাঠের নাটাই, চাবাডী নাটাই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ড্রাগন সুতা, ভূত সুতা, বিলাই সুতোসহ ঘুড়ি ওড়ানোর বিভিন্ন ধরনের সুতা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেক ৫০০ টাকায়।

dhakapost

শাঁখারিবাজারের নিখিল চন্দ্র  বলেন, সাকরাইনকে সামনে রেখে ভালোই বেচাকেনা চলছে আমাদের। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন ঘুড়ি কিনতে। আমাদের দোকানে ৮ থেকে ১০ রকমের ঘুড়ি রয়েছে। ঘুড়ির সঙ্গে নাটাই, সুতাও ভালোই বিক্রি হচ্ছে।

অপূর্ব প্রোডাক্টের ব্যবসায়ী তিতাস বলেন, আমার ছোট দোকান। বড় কোনো ক্রেতা আসে না। তরুণ-তরুণীরা আসে বেশি। সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছে বেচাকেনা।

শাঁখারিবাজারে লালবাগ থেকে ঘুড়ি কিনতে এসেছে ইমরান ও তার বন্ধু সাইদ। দুজনই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা  বলেন, প্রতি বছর সাকরাইন এলেই আমরা সবাই মিলে ঘুড়ি কিনতে এখানে আসি। এখানে সব রকমের ঘুড়ি পাওয়া যায়।

dhakapost

নারিন্দা থেকে সোহেল রানা তার ১০ বছর বয়সী সন্তান সাদিতকে নিয়ে এসেছেন ঘুড়ি কিনতে। তিনি বলেন, একসময় আমরা ঘুড়ি উড়িয়েছি। এখন আমাদের বচ্চাদের সময়, তাই তাদের প্রতি বছর ঘুড়ি কিনে দিতে হয়। ওদের ঘুড়ি ওড়ানো দেখে আমরাও সেই সোনালী অতীতকে স্মরণ করি।

শনিবার সকাল থেকে শুরু হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলা হয়। এই দিনে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রঙবেরঙে ফানুসে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী শহরের আকাশ। এখন পুরান ঢাকা ছাড়াও ঢাকার অন্যান্য এলাকায় এই উৎসব পালন করা হয়।