ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ তারেক ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ আল আমিন সোহাগের বিরুদ্ধে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ ভুয়া ইউডিতে পণ্য খালাস, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দখলমুক্ত করে বনায়ন করা হয়েছে ৭৫ একর বনভূমি প্রশংসিত হয়েছেন বনবিট কর্মকর্তা ৩ মিনিটে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন মুন্সী কবির উদ্দিন সড়কের ওয়াইডিং ও বিটুমিন কার্পেটিং কাজ পরিদর্শনে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সরকার ৫ বছরে ১ কোটি মানুষকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চায় : প্রতিমন্ত্রী নুর বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ

ভুয়া ইউডিতে পণ্য খালাস, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ঢাকা কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া ইউডি (Utilization Declaration) ব্যবহার করে পণ্য খালাস, চোরাচালানে সহযোগিতা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই পণ্য ছাড় এবং অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. আমিনুল ইসলাম ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম এবং ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনি ঢাকা কাস্টম হাউসে উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লিখিত অভিযোগে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাসের বিষয়টি।

অভিযোগ অনুযায়ী, Alien Apparels Ltd, Uranus Apparels (Pvt.) Ltd এবং QUICK APPARELS LIMITED—এই তিনটি বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাস করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, কুরিয়ার খাঁচায় আসা পণ্য এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ছাড় করার পুরো প্রক্রিয়ায় মো. আমিনুল ইসলামের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল।

একই সঙ্গে অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ শাখার একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হলে ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাসের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

লিখিত অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাচালান এবং অবৈধভাবে পণ্য খালাসে সহযোগিতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এতে কাস্টমসের সরকার হানিফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হানিফ ও শরিফ নামে আরও দুই ব্যক্তির সঙ্গে আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমিনুল ইসলামের ভূমিকার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাকে ফৌজদারি মামলার আওতায় না এনে অন্য উপায়ে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে শিশু খাদ্য ও প্রসাধনীজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু আমদানিকৃত পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব পণ্য ছাড়ের বিনিময়ে মো. আমিনুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত এই বিপুল অর্থ লেনদেনের দাবির পক্ষে কোনো ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য অন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে Closet Cloud নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মো. আমিনুল ইসলামের এক নিকটাত্মীয়ের সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন (BIN) ও টিআইএন (TIN) নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাবিহা জাহানের সঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের সদ্য সাবেক সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে মো. আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন অনিয়ম এবং অবৈধভাবে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

লিখিত অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলামের আয়কর নথি নম্বর উল্লেখ করে তার বৈধ আয়, ঘোষিত সম্পদ এবং জীবনযাপনের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর মতে, তার সম্পদ, আয় এবং সম্পদের উৎস তদন্ত করা হলে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবারই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া ইউডি ব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি, বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র ছাড়া পণ্য খালাস, কথিত অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং সম্পদের উৎস সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিই দেখার বিষয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ তারেক ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

ভুয়া ইউডিতে পণ্য খালাস, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া ইউডি (Utilization Declaration) ব্যবহার করে পণ্য খালাস, চোরাচালানে সহযোগিতা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই পণ্য ছাড় এবং অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. আমিনুল ইসলাম ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম এবং ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনি ঢাকা কাস্টম হাউসে উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লিখিত অভিযোগে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাসের বিষয়টি।

অভিযোগ অনুযায়ী, Alien Apparels Ltd, Uranus Apparels (Pvt.) Ltd এবং QUICK APPARELS LIMITED—এই তিনটি বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাস করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, কুরিয়ার খাঁচায় আসা পণ্য এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ছাড় করার পুরো প্রক্রিয়ায় মো. আমিনুল ইসলামের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল।

একই সঙ্গে অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ শাখার একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হলে ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাসের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

লিখিত অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাচালান এবং অবৈধভাবে পণ্য খালাসে সহযোগিতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এতে কাস্টমসের সরকার হানিফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হানিফ ও শরিফ নামে আরও দুই ব্যক্তির সঙ্গে আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমিনুল ইসলামের ভূমিকার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাকে ফৌজদারি মামলার আওতায় না এনে অন্য উপায়ে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে শিশু খাদ্য ও প্রসাধনীজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু আমদানিকৃত পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব পণ্য ছাড়ের বিনিময়ে মো. আমিনুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত এই বিপুল অর্থ লেনদেনের দাবির পক্ষে কোনো ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য অন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে Closet Cloud নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মো. আমিনুল ইসলামের এক নিকটাত্মীয়ের সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন (BIN) ও টিআইএন (TIN) নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাবিহা জাহানের সঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের সদ্য সাবেক সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে মো. আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন অনিয়ম এবং অবৈধভাবে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

লিখিত অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলামের আয়কর নথি নম্বর উল্লেখ করে তার বৈধ আয়, ঘোষিত সম্পদ এবং জীবনযাপনের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর মতে, তার সম্পদ, আয় এবং সম্পদের উৎস তদন্ত করা হলে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবারই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া ইউডি ব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি, বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র ছাড়া পণ্য খালাস, কথিত অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং সম্পদের উৎস সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিই দেখার বিষয়।