স্বেচ্ছাচারিতা, উদাসীনতা ও পক্ষপাতিত্বে বরিশালের গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুনের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ভাতা না দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকারি বাড়ি ভাড়া (হাউজ রেন্ট) না দেওয়ার জন্য সরকারি বিধিমালা অমান্য করে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষ দখল করে বসবাস করে আসছে। কেন্দ্রের ভেতরে নিজস্ব বাড়ির মতো অনেকে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জামিলা বেগম ওরফে করলা টিটিসির ভেতর অবৈধভাবে বসবাস করে মেসে তিন বেলা খাবার রান্না করে কিছু খাবার কেন্দ্রের সামনে কম্পিউটার দোকান মালিকের কাছে প্রতিদিন বিক্রি করে আসছে। জামিলাকে টিটিসির মধ্যে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। টিটিসির পঞ্চম ব্যাচের লিমন ফকিরসহ কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও আমরা বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা এখনো পাইনি। ভাতার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের একাধিকবার কথা কাটাকাটি হয়েছে। স্থানীয় দোকানদার জসিম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের কথায় আমার শ্যালককে টিটিসিতে কাজে দিয়েছিলাম। তিন মাস কাজ করার পর শ্যালককে বেতনের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা আল-আমিন আত্মসাৎ করলে চাপের মুখে ফেরত দিতে বাধ্য হয়। কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রমের সরকারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের কেন্দ্রের সামনে আমিন খানের কম্পিউটারের দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভর্তি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করে আসছে কর্তৃপক্ষ। ওই দোকান মালিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের ভাই।
গত ১৭ আগস্ট আগৈলঝাড়ার পয়সারহাটের সাইদুল ইসলাম প্রবাসে যাওয়ার জন্য টিটিসি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভর্তি হতে আসেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রের তিনতলা থেকে কেন্দ্রের কর্মচারী আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। বিষয়টি জানলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ তাকে ভবিষ্যতে এভাবে কেন্দ্রের ভেতর থেকে ভর্তি কার্যক্রম না করার জন্য সতর্ক করে দেন। কম্পিউটার দোকানের পরিচালক আমিন খান জানান, প্রশিক্ষণে ছেলেদের ভর্তি করতে ৬৫০ টাকা খরচ হয়। আর নারীদের ভর্তি করতে দুই হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে। এক্ষেত্রে কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, সরকারি কোয়ার্টার হ্যান্ডওভার না করায় আমরা কোয়ার্টারে থাকি না। কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের বিষয়টি তেমন কোনো সমস্যা নয়। এতে সরকারের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। টিটিসির ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত
জনবল নেই। যে কারণে তারা ভেতরে থাকছেন। নারীকে রাত্রিযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, সে আগে একটি প্রকল্পে কাজ করত। এখন তার চাকরি নেই। মানবিক কারণে তাকে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী ইউএনও মো. ইব্রাহীম বলেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















