ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শামা ওবায়েদের অনেকে ছাত্র অভ্যুত্থান নিজেদের নামে চালাতে চায়: খন্দকার মোশাররফ আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনই ডিজি আফসার আলীর মিশন ক্ষমতা বাড়ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ঢাকার আরও ৫০ ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা ১৮০ দিনে সরকার অদক্ষতার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে : নাহিদ ইসলাম চন্দ্রগঞ্জে বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের পাশে গম্ভীর মেলানিয়া, ভিডিও ঘিরে তোলপাড় এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে চোখ বাংলাদেশের সিসি ক্যামেরার আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শহরের নিরাপত্তায় চালু হলো আধুনিক কন্ট্রোল রুম

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

২০২৪ সালের আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের রিহার্সেল (মহড়া) ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-এর আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

এ সময় জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শামা ওবায়েদের

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৬:০১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের রিহার্সেল (মহড়া) ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-এর আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

এ সময় জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।