নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অন্যান্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার নামে ঘুষ গ্রহণ এবং শিক্ষকদের হয়রানির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ‘শিক্ষা সংবাদ’ এর নিজস্ব প্রতিবেদক সুভাষ বিশ্বাসকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এ হুমকি দেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় মরিয়ম নেছা লেখেন— “ঘুষ নেয়ার প্রমাণ, কিশোরগঞ্জে চাকরি করার প্রমাণ ও আপনার সংগ্রহে থাকা ঘটনার প্রমাণ নিয়ে তৈরি থাকুন। দেখা হবে খুব শীঘ্রই। কোন প্রমাণ সাপেক্ষে সামাজিকভাবে হেয় করছেন এর দায় আপনি এড়াতে পারেন না। ধন্যবাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর ধরে সৈয়দপুর উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মরিয়ম নেছা। দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি ও গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোনো শিক্ষক ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা তার বিরুদ্ধে কথা বললে বরাদ্দ আটকে দেওয়া কিংবা নানান প্রশাসনিক অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়।
হয়রানির প্রতিকার ও ঘুষ বাণিজ্যের বিবরণ দিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক শাহানাজ আখতার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি আমাকে নানানভাবে হয়রানি করছেন। এমনকি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও কতিপয় শিক্ষককে প্রভাবিত করে আমার বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ানো হচ্ছে।
হুমকির বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সুভাষ বিশ্বাস জানান, “শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নিয়ে ‘শিক্ষা সংবাদ’ ও ‘ঢাকা পোস্ট’-সহ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আমার হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি হুমকি পাঠিয়েছেন।
তবে হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা দাবি করেন, আমি কোনো হুমকি দেইনি। তিনি (সাংবাদিক) লিখেছেন আমি কিশোরগঞ্জে চাকরি করেছি, অথচ আমি সেখানে কখনো চাকরিই করিনি।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আল মিজান ইসলাম-নীলফামারী প্রতিনিধি 























