ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি-প্রক্সি ঠেকাতে বায়োমেট্রিকসহ ১২ নির্দেশনা

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবার কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিম্ন গ্রেডের কয়েকটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা, ভাইভা ও যোগদানের তিন ধাপে অভিনব প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ে। এই জালিয়াতির পথ চিরতরে বন্ধ করতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালুসহ ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি অফিস স্মারক দেশের সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের অধীন দপ্তর ও সংস্থাকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।

জালিয়াতি ঠেকাতে জারি করা এই নির্দেশনায় নিয়োগের প্রতিটি ধাপে (লিখিত পরীক্ষা থেকে যোগদান পর্যন্ত) প্রার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে:

আবেদন ও প্রাথমিক যাচাই: চাকরির আবেদনে অবশ্যই এক মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র অত্যন্ত ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।

কেন্দ্রে প্রবেশ ও তল্লাশি: পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাগ, বই ও কোনো ধরনের ডিভাইস নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রার্থীকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। এমনকি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

পরিচয় ও ছবি যাচাই: প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং অন্যান্য তথ্য নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে, যাতে পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এসব ছবি মিলিয়ে দেখা যায়।

হাতের লেখা ও চূড়ান্ত যাচাই: মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) সময় প্রার্থীর উত্তরপত্রের সঙ্গে তার হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময়ও তার আগে তোলা ছবি যাচাই করে তবেই যোগদানপত্র দিতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার: নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে একই ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তি: নিয়োগ পরীক্ষার আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে। কোনো ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি-প্রক্সি ঠেকাতে বায়োমেট্রিকসহ ১২ নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৪:১৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবার কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিম্ন গ্রেডের কয়েকটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা, ভাইভা ও যোগদানের তিন ধাপে অভিনব প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ে। এই জালিয়াতির পথ চিরতরে বন্ধ করতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালুসহ ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি অফিস স্মারক দেশের সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের অধীন দপ্তর ও সংস্থাকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।

জালিয়াতি ঠেকাতে জারি করা এই নির্দেশনায় নিয়োগের প্রতিটি ধাপে (লিখিত পরীক্ষা থেকে যোগদান পর্যন্ত) প্রার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে:

আবেদন ও প্রাথমিক যাচাই: চাকরির আবেদনে অবশ্যই এক মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র অত্যন্ত ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।

কেন্দ্রে প্রবেশ ও তল্লাশি: পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাগ, বই ও কোনো ধরনের ডিভাইস নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রার্থীকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। এমনকি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

পরিচয় ও ছবি যাচাই: প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং অন্যান্য তথ্য নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে, যাতে পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এসব ছবি মিলিয়ে দেখা যায়।

হাতের লেখা ও চূড়ান্ত যাচাই: মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) সময় প্রার্থীর উত্তরপত্রের সঙ্গে তার হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময়ও তার আগে তোলা ছবি যাচাই করে তবেই যোগদানপত্র দিতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার: নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে একই ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তি: নিয়োগ পরীক্ষার আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে। কোনো ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।