বিরোধী দলের ‘করতে দিব না, চলতে দিব না, শেষ করতে দিব না’ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার-পাঁচ মাস হয়েছে। এর মধ্যেই অনেক পরিবর্তন এসেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসন পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
রবিবার দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছেন। আর হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতো, এরা ঐ ভাষাই কথা বলতেছে। করতে দিব না, চলতে দিব না, শেষ করতে দিব না, এইসব বলতে শুরু করেছে না? টার্ম শেষ করতে দিব না, পারবে না।’
বিরোধীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আরে বাবা হয়েছে তো মাত্র চার মাস পাঁচ মাস। এই চার মাস পাঁচ মাসেই তো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। বহু পরিবর্তন। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলা শুরু হয়েছে। একটা বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, চেষ্টা শুরু হয়েছে। কাজটা তো এত সহজ না, এত তাড়াতাড়ি হয় না। আলাদীনের চেরাগ তো নাই কারো হাতে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে কোনো গ্যাস বা তেলের খনি আবিষ্কারের চেষ্টা করেনি। গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। সেটিকে আবার চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে জাহাজে করে আমদানি করতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। ইরাক, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যেও কিন্তু একদিনও আপনারা তেল ছাড়া থাকেন নাই। একদিনও কিন্তু আপনারা গ্যাস ছাড়া থাকেন নাই। কমেছে, হয়তো আগে যেটা ১০টা পাওয়া যেতো এখন ৪টা পাওয়া যাচ্ছে ৩টা পাওয়া যাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের আশাবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা আমরা চেষ্টা করছি ইনশাআল্লাহ অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে জাহাজের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















