ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৬ নম্বর হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফিরোজের বিরুদ্ধে এলজিইডিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়া, সরকারি ভাতা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সালিশের নামে অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ পাঁচ অসহায় বিধবা নারী লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছেন, চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে মোট এক লাখ টাকা নেওয়া হলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও তারা চাকরি কিংবা টাকা—কোনোটিই পাননি। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও আইনগত প্রতিকার কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় চার বছর আগে ইউপি সদস্য ফিরোজ এলজিইডির রাস্তার ঝাড়ুদার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচজন বিধবা ও হতদরিদ্র নারীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা নেন। সবাই সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা এবং সংসারের চরম অভাব-অনটনের মধ্যে একটি চাকরির আশায় ধারদেনা করে এই অর্থ জোগাড় করেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বারবার যোগাযোগ করেও চাকরি মেলেনি। এমনকি নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অভিযুক্তের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এই চার বছরে তাদের অনেকেই চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। কারও সন্তান অসুস্থ হয়েছে, কেউ ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়েছেন। এমন অবস্থায় একাধিকবার অভিযুক্তের কাছে গিয়ে টাকা ফেরতের আকুতি জানালেও তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি। বরং বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অসহায় মানুষের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আত্মসাৎ করে ফিরোজ মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন এবং বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৫০টি পরিবারের কাছ থেকেও নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, হাসাননগর স্কুল-সংক্রান্ত আলোচিত একটি ঘটনায় সালিশের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং তার একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর থেকে ইউপি সদস্য ফিরোজ এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন না এবং আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎ করা অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. ফিরোজের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
রিয়াজ ফরাজী 



















