ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাকরি না পেয়ে টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা আমিরাতের ভিসা জটিলতার সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে : নুরুল হক নুর ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে পোস্ট করে লাখ ফলোয়ার হারালেন অভিনেত্রী বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিনেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে চুপ্পুর গ্রেপ্তার ঠেকানো যাবে না: আখতার হোসেন শুটিংয়ের প্রথম দিনেই সহ-অভিনেতার গালে চড়, অভিজ্ঞতা জানালেন নোরা সতীর্থদের জন্য মেসির বিশেষ বিশ্বকাপ উপহার হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ আসামির তালিকায় ‘হেভিওয়েট’ ৪১ জন জামায়াত গণতান্ত্রিক দল কি না, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের প্রশ্নফাঁসের আন্দোলনে মোদিকে ট্রল করে দেওয়া পোস্ট চিহ্নিত করতে অভিযানে পুলিশ

গোদাগাড়ীতে ১০ কোটি টাকায় সড়ক সংস্কার কাজে মুকুলের দূর্নীতি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ১০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে চলছে লুটপাট। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মিলেমিশে চালাচ্ছেন লুটপাটের মহাযজ্ঞ। শিডিউলের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যবহার করা হচ্ছে তিন নম্বর ইটের খোয়া, নিম্নমানের বালু এবং এঁটেল মাটি। ইটের হালকা আঘাতেই ভেঙে যাচ্ছে ড্রেন ঢালাইয়ে ব্যবহার করা নিম্নমানের পাথর। বৃষ্টির মধ্যেই চলছে ঢালাইয়ের কাজ। সম্প্রতি সরেজমিন লুটপাটের মহাযজ্ঞের বাস্তব চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) আরইউটিডি প্রজেক্টের আওতায় ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে সড়ক সংস্কারের কাজটি পেয়েছেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার এমএ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা। কাজটি সাব কন্ট্রাক্ট নিয়েছে রাজশাহীর ভাটাপাড়া এলাকার ঠিকাদার আসাদুল ইসলামের এলিজা এন্টারপ্রাইজ। ১৯ ফেব্রুয়ারি চার হাজার ৯৮০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২০০ মিটার ড্রেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোদাগাড়ী মহল্লা থেকে শুরু হয়েছে সড়ক সংস্কার। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ড্রেন নির্মাণ কাজ। স্থানীয় তাজিমুল ড্রেনের ঢালাইয়ে বাঁশের আঘাত দিতেই ওঠে যায় তিন নম্বর ইটের খোয়া। তিনি সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা নিমার্ণ কাজের পাথরের মধ্যে কয়েকটিতে ইটের সামান্য আঘাত দিলে সেগুলো ভেঙে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ে ব্যবহার হচ্ছে পদ্মা নদীর নিম্নমানের বালু।
গোদাগাড়ী মহল্লার শেষ প্রান্তে রয়েছে সেতু। যেটি চার মাস আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুটি পরেও ভাঙতে পারত। সেতুর পাশেই সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে। রিকশা-ভ্যান না চলার কারণে হাটে আসা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য মাথায় নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশেই ভগবন্তপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝুম বৃষ্টিতে চলছে ড্রেন ঢালাইয়ের কাজ। সেখানে উপস্থিত আরইউটিডি প্রজেক্টের উপসহকারী প্রকৌশলী হারেস শেখ বলেন, ‘ঢালাইয়ের জন্য আগেই বালু ও সিমেন্ট মেশানো হয়েছে। এ কারণে কাজটি করছি।’ আরেকটু দূরে দেখা যায়, ড্রেনের ভেতরে ঢালাইয়ের জন্য বালু ফেলা হচ্ছে। ছয় ইঞ্চি বালু দিয়ে ভরাট করার শর্ত থাকলেও, করা হচ্ছে চার ইঞ্চি।
সুলতানগঞ্জ এলাকায় দেখা গেছে, সড়ক রক্ষায় গাইডওয়াল দেওয়া হয়েছে। ওয়ালে তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে গাঙ্গোবাড়ির স্থানীয়রা দুই দফায় কাজ বন্ধ করে দেন। এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, আমরা কয়েক দফা পৌরসভায় অভিযোগ করেছি। তারপরেও ঠিকাদার অদৃশ্য শক্তির দাপটে কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সড়ক সংস্কারের লুটপাটের মহাযজ্ঞে ঠিকাদারকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন গোদাগাড়ী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান মুকুল। মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন-পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল হক, আরইউটিডি প্রজেক্টের সহকারী প্রকৌশলী মামুনর রশিদ এবং হারেস শেখ।
প্রকৌশলী মুকুল বলেন, তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। অভিযোগের ব্যাপারে এলিজা এন্টারপ্রাইজের আসাদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে পানি পড়ে ইটের রং নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশে লুটপাটের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি ঢাকায় আছি। রাজশাহী ফিরে খোঁজ নেব। অভিযোগের ব্যাপারে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি না পেয়ে টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা

গোদাগাড়ীতে ১০ কোটি টাকায় সড়ক সংস্কার কাজে মুকুলের দূর্নীতি

আপডেট সময় ১১:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ১০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে চলছে লুটপাট। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মিলেমিশে চালাচ্ছেন লুটপাটের মহাযজ্ঞ। শিডিউলের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যবহার করা হচ্ছে তিন নম্বর ইটের খোয়া, নিম্নমানের বালু এবং এঁটেল মাটি। ইটের হালকা আঘাতেই ভেঙে যাচ্ছে ড্রেন ঢালাইয়ে ব্যবহার করা নিম্নমানের পাথর। বৃষ্টির মধ্যেই চলছে ঢালাইয়ের কাজ। সম্প্রতি সরেজমিন লুটপাটের মহাযজ্ঞের বাস্তব চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) আরইউটিডি প্রজেক্টের আওতায় ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে সড়ক সংস্কারের কাজটি পেয়েছেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার এমএ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা। কাজটি সাব কন্ট্রাক্ট নিয়েছে রাজশাহীর ভাটাপাড়া এলাকার ঠিকাদার আসাদুল ইসলামের এলিজা এন্টারপ্রাইজ। ১৯ ফেব্রুয়ারি চার হাজার ৯৮০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২০০ মিটার ড্রেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোদাগাড়ী মহল্লা থেকে শুরু হয়েছে সড়ক সংস্কার। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ড্রেন নির্মাণ কাজ। স্থানীয় তাজিমুল ড্রেনের ঢালাইয়ে বাঁশের আঘাত দিতেই ওঠে যায় তিন নম্বর ইটের খোয়া। তিনি সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা নিমার্ণ কাজের পাথরের মধ্যে কয়েকটিতে ইটের সামান্য আঘাত দিলে সেগুলো ভেঙে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ে ব্যবহার হচ্ছে পদ্মা নদীর নিম্নমানের বালু।
গোদাগাড়ী মহল্লার শেষ প্রান্তে রয়েছে সেতু। যেটি চার মাস আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুটি পরেও ভাঙতে পারত। সেতুর পাশেই সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে। রিকশা-ভ্যান না চলার কারণে হাটে আসা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য মাথায় নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশেই ভগবন্তপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝুম বৃষ্টিতে চলছে ড্রেন ঢালাইয়ের কাজ। সেখানে উপস্থিত আরইউটিডি প্রজেক্টের উপসহকারী প্রকৌশলী হারেস শেখ বলেন, ‘ঢালাইয়ের জন্য আগেই বালু ও সিমেন্ট মেশানো হয়েছে। এ কারণে কাজটি করছি।’ আরেকটু দূরে দেখা যায়, ড্রেনের ভেতরে ঢালাইয়ের জন্য বালু ফেলা হচ্ছে। ছয় ইঞ্চি বালু দিয়ে ভরাট করার শর্ত থাকলেও, করা হচ্ছে চার ইঞ্চি।
সুলতানগঞ্জ এলাকায় দেখা গেছে, সড়ক রক্ষায় গাইডওয়াল দেওয়া হয়েছে। ওয়ালে তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে গাঙ্গোবাড়ির স্থানীয়রা দুই দফায় কাজ বন্ধ করে দেন। এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, আমরা কয়েক দফা পৌরসভায় অভিযোগ করেছি। তারপরেও ঠিকাদার অদৃশ্য শক্তির দাপটে কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সড়ক সংস্কারের লুটপাটের মহাযজ্ঞে ঠিকাদারকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন গোদাগাড়ী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান মুকুল। মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন-পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল হক, আরইউটিডি প্রজেক্টের সহকারী প্রকৌশলী মামুনর রশিদ এবং হারেস শেখ।
প্রকৌশলী মুকুল বলেন, তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। অভিযোগের ব্যাপারে এলিজা এন্টারপ্রাইজের আসাদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে পানি পড়ে ইটের রং নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশে লুটপাটের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি ঢাকায় আছি। রাজশাহী ফিরে খোঁজ নেব। অভিযোগের ব্যাপারে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।