ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপপুরে বালিশ-কাণ্ডের চেয়েও বড় দুর্নীতির তথ্য ফাঁস ৮০০ কোটি টাকায় বেঙ্গল গ্রুপের ২৬ তলা ‘সুইস টাওয়ার’ কিনছে পূবালী ব্যাংক ৫০ হাজার টাকার বেতনে কোটি টাকার সম্পদ-শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীকে ঘিরে অনুসন্ধান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক মাসুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে স্ত্রী-সন্তানসহ জালিয়াতি, হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ প্রকল্পে ২৫৪ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ ঢামেকে কোটি টাকার অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড়, অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তা থার্ড টার্মিনালে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন রাজউকের পলাশ
এনভয় গ্রুপের এমডি সালাম মুর্শেদী

স্ত্রী-সন্তানসহ জালিয়াতি, হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ

এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একে একে সামনে আসছে তার ও তার পরিবারের শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি।

গুলশানের সরকারি ২৭ কাঠার বাড়ি দখল ও বিচার শুরু
ঢাকার গুলশান-২ আবাসিক এলাকার ১০৪ নম্বর সড়কের সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর প্লটটি (২৯ নম্বর হোল্ডিং) একটি খ-তালিকাভুক্ত পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের তদন্তে দেখা যায়, রাজউকের মূল নকশায় এই বাড়ির সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব গোপন করতে ১০৪ নম্বর সড়ককে কৌশলে ১০৩ নম্বর সড়ক দেখিয়ে জাল নথিপত্র তৈরি করা হয়।

জালিয়াতির কৌশল: মালেকা রহমান নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ও মিথ্যা নথিপত্র সৃজন করে ১৯৯৭ সালে সালাম মুর্শেদী ও ইফফাত হকের নামে ২৭ কাঠার এই প্লটটি হস্তান্তর ও নামজারি করা হয়। সিআইডি তদন্তে মালেকা রহমানের স্বাক্ষর ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

মামলা ও চার্জশিট: শুরুতে রাজনৈতিক প্রভাবে সালাম মুর্শেদীকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও, পরবর্তীকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে তাকে অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত চার্জশিট দাখিল করে।

বিচার প্রক্রিয়া: ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট সালাম মুর্শেদীর নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রায় ২২ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি উদঘাটন করেছে।

অনুসন্ধানের পর সালাম মুর্শেদী এই ফাঁকি স্বীকার করে নিয়ে ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেন।

বাকি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বরখেলাপ করায় এনবিআর তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করেছে।

এছাড়া সালাম মুর্শেদীর স্ত্রী শারমিন সালাম, ছেলে ইশমাম সালাম, মেয়ে শেহরিন সালাম এবং তার মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রভাবশালী চক্র ও শেখ পরিবারের সাথে বিশেষ ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক খাতে ব্যাপক দুর্নীতি চালানোর অভিযোগ উঠেছে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আড়ালে ৪৩টি ভুয়া তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: উক্ত অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আদালত প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সালাম মুর্শেদী ও তার মেয়ে শেহরীন সালামের এই কেলেঙ্কারিতে প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে ব্যবসায়ী মহল জানিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে পুরো পরিবার ও অর্থ পাচার
সালাম মুর্শেদী, তার স্ত্রী শারমিন সালাম, মেয়ে শেহরিন সালাম এবং ছেলে ইশমাম সালামের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাংক হিসাব তলব: দুদকের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ৭৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে এই পরিবারের সকল হিসাবের তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে।

সম্পদের বিপুল বৃদ্ধি: ২০১৮ সালে সালাম মুর্শেদীর নির্ভরশীলদের সম্পদ ছিল মাত্র ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায় (পাঁচ বছরে ১৮ গুণ বৃদ্ধি)। এছাড়া মুর্শেদীর নিজের নামীয় সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পদ ১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত সালাম মুর্শেদীর মালিকানাধীন ১৫ তলা ‘সিয়াম টাওয়ার’ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

সিভিল এভিয়েশনের নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে ভবনটি প্রায় ১০ মিটার (৯.৭৬ মিটার) উঁচু করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না ছেড়ে শারমিন হোল্ডিংস পুরো জমি দখল করে নির্মাণকাজ শেষ করে।

রাজউকের অনুমোদিত নকশায় টপ ফ্লোর অফিস হিসেবে থাকলেও সেখানে তৈরি করা হয়েছে বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে নেই ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা ছাড়পত্র।

২০০৮ সাল থেকে বাফুফের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট, অর্থ কমিটি ও রেফারিজ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বহু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ফিফার অর্থ অপব্যবহারের দায়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা তাকে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১৩ লাখ টাকা) জরিমানাও করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাফুফের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুরে বালিশ-কাণ্ডের চেয়েও বড় দুর্নীতির তথ্য ফাঁস

এনভয় গ্রুপের এমডি সালাম মুর্শেদী

স্ত্রী-সন্তানসহ জালিয়াতি, হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৪০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একে একে সামনে আসছে তার ও তার পরিবারের শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি।

গুলশানের সরকারি ২৭ কাঠার বাড়ি দখল ও বিচার শুরু
ঢাকার গুলশান-২ আবাসিক এলাকার ১০৪ নম্বর সড়কের সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর প্লটটি (২৯ নম্বর হোল্ডিং) একটি খ-তালিকাভুক্ত পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের তদন্তে দেখা যায়, রাজউকের মূল নকশায় এই বাড়ির সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব গোপন করতে ১০৪ নম্বর সড়ককে কৌশলে ১০৩ নম্বর সড়ক দেখিয়ে জাল নথিপত্র তৈরি করা হয়।

জালিয়াতির কৌশল: মালেকা রহমান নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ও মিথ্যা নথিপত্র সৃজন করে ১৯৯৭ সালে সালাম মুর্শেদী ও ইফফাত হকের নামে ২৭ কাঠার এই প্লটটি হস্তান্তর ও নামজারি করা হয়। সিআইডি তদন্তে মালেকা রহমানের স্বাক্ষর ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

মামলা ও চার্জশিট: শুরুতে রাজনৈতিক প্রভাবে সালাম মুর্শেদীকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও, পরবর্তীকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে তাকে অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত চার্জশিট দাখিল করে।

বিচার প্রক্রিয়া: ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট সালাম মুর্শেদীর নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রায় ২২ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি উদঘাটন করেছে।

অনুসন্ধানের পর সালাম মুর্শেদী এই ফাঁকি স্বীকার করে নিয়ে ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেন।

বাকি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বরখেলাপ করায় এনবিআর তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করেছে।

এছাড়া সালাম মুর্শেদীর স্ত্রী শারমিন সালাম, ছেলে ইশমাম সালাম, মেয়ে শেহরিন সালাম এবং তার মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রভাবশালী চক্র ও শেখ পরিবারের সাথে বিশেষ ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক খাতে ব্যাপক দুর্নীতি চালানোর অভিযোগ উঠেছে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আড়ালে ৪৩টি ভুয়া তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: উক্ত অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আদালত প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সালাম মুর্শেদী ও তার মেয়ে শেহরীন সালামের এই কেলেঙ্কারিতে প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে ব্যবসায়ী মহল জানিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে পুরো পরিবার ও অর্থ পাচার
সালাম মুর্শেদী, তার স্ত্রী শারমিন সালাম, মেয়ে শেহরিন সালাম এবং ছেলে ইশমাম সালামের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাংক হিসাব তলব: দুদকের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ৭৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে এই পরিবারের সকল হিসাবের তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে।

সম্পদের বিপুল বৃদ্ধি: ২০১৮ সালে সালাম মুর্শেদীর নির্ভরশীলদের সম্পদ ছিল মাত্র ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায় (পাঁচ বছরে ১৮ গুণ বৃদ্ধি)। এছাড়া মুর্শেদীর নিজের নামীয় সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পদ ১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত সালাম মুর্শেদীর মালিকানাধীন ১৫ তলা ‘সিয়াম টাওয়ার’ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

সিভিল এভিয়েশনের নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে ভবনটি প্রায় ১০ মিটার (৯.৭৬ মিটার) উঁচু করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না ছেড়ে শারমিন হোল্ডিংস পুরো জমি দখল করে নির্মাণকাজ শেষ করে।

রাজউকের অনুমোদিত নকশায় টপ ফ্লোর অফিস হিসেবে থাকলেও সেখানে তৈরি করা হয়েছে বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে নেই ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা ছাড়পত্র।

২০০৮ সাল থেকে বাফুফের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট, অর্থ কমিটি ও রেফারিজ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বহু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ফিফার অর্থ অপব্যবহারের দায়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা তাকে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১৩ লাখ টাকা) জরিমানাও করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাফুফের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।