সংবাদ শিরোনাম ::
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন : বিমানমন্ত্রী জামিন পেলেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর সেই ২০ জনকে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা, এবার লাঠি নিয়ে পাহারায় জনগণ নাফরিজা শ্যামার সিদ্ধান্তে কাজ ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন

খাল নেই, তবুও কোটি টাকার সেতু: অপচয়ের অভিযোগ, বিপাকে কয়েকটি পরিবার

ঝালকাঠি’র নলছিটি  উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হলেও সেখানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কে বিডিআইআরডবলুএসপি প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে একসময় ছোট একটি খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল, সেখানে এখন খাল প্রায় বিলুপ্ত। এমন স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া সেতুটি চালু করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে কয়েকটি পরিবারের বাড়ির সামনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার, মোর্শেদা বেগম, জামাল ও সবুজ জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে তাদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হবে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবতা যাচাই ছাড়া প্রকল্পটি গ্রহণ করায় এখন জনদুর্ভোগ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
 স্থানীয়দের মধ্যে আরো অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
 এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

খাল নেই, তবুও কোটি টাকার সেতু: অপচয়ের অভিযোগ, বিপাকে কয়েকটি পরিবার

আপডেট সময় ০১:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
ঝালকাঠি’র নলছিটি  উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হলেও সেখানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কে বিডিআইআরডবলুএসপি প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে একসময় ছোট একটি খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল, সেখানে এখন খাল প্রায় বিলুপ্ত। এমন স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া সেতুটি চালু করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে কয়েকটি পরিবারের বাড়ির সামনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার, মোর্শেদা বেগম, জামাল ও সবুজ জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে তাদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হবে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবতা যাচাই ছাড়া প্রকল্পটি গ্রহণ করায় এখন জনদুর্ভোগ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
 স্থানীয়দের মধ্যে আরো অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
 এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।