রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে রাসায়নিক সার সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বা কোনো কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ নম্বর মিঠিপুর ইউনিয়নের সরকার অনুমোদিত বিসিআইসি ডিলার প্রতিষ্ঠান “মেসার্স সাহা ভান্ডার” বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সার কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণ না করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায়ই ‘সার নেই’, ‘সকালে আসেন’, ‘বিকেলে আসেন’ ইত্যাদি অজুহাতে কৃষকদের ফিরিয়ে দেয় এবং হয়রানি করে।
কাশিমপুর গ্রামের কৃষক মো. আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি সার কিনতে গেলে তাকে ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার সামনেই অন্য এলাকার এক ব্যক্তিকে সার সরবরাহ করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে অপমান করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। সেখান থেকেও প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার কাউছার আহমেদ বিষয়টি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পপি খাতুন গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
গঠিত কমিটিতে পীরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. আল মামুনকে আহ্বায়ক এবং সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মীরময় রায় ও মাস্টার ট্রেইনার মো. তাহেরুল ইসলামকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগকারী কৃষক আবু তালেব মন্ডলের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠনের দুই মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তিনি এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রতিকার পাননি।
ভুক্তভোগী কৃষক আবু তালেব মন্ডল বলেন, “আমি একাধিকবার ইউএনও অফিসে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও আমাকে ডিলারের সঙ্গে মীমাংসা করে নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন,আমি জানতে পেরেছি গোপনীয়ভাবে ডিলারের সঙ্গে ইউএনও যোগসাজসে এহেন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।একজন নির্ভর কৃষককে হয়রানি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলারও আমাকে বলেছেন, ‘দেখি তুই কী করতে পারিস।’ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। কৃষকের কি তাহলে বিচার হবে না? কৃষক কি তার ন্যায্য অধিকার পাবে না?
এদিকে সরেজমিনে বিভিন্ন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, “মেসার্স সাহা ভান্ডার”-এর বিরুদ্ধে সার বিতরণে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর)প্রতিনিধি 




















