ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ম্যানেজ মাস্টার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের দুর্নীতি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের বিতর্কিত কাণ্ডে লাল কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেনের টাকার পাহাড় ৬ বলে ৬ উইকেট, জোড়া হ্যাটট্রিকের নজির বাগেরহাটে মৎস্য আড়ত নির্মাণে ‘পুকুরচুরি’র অভিযোগ এক বছরে বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস বি কমেছে ৩২ শতাংশ নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎ: তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পাউবোর কাজে অনিয়ম দেখে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন এমপি জালাল উদ্দীন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্দিষ্ট সময়ে খেলা মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও সংসদীয় বিতর্ক বিষয়ক প্রস্তাবনা

বাংলাদেশ-মার্কিন স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই প্রস্তাব করেন তিনি। তবে স্পিকার পয়েন্ট অর্ডার গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন রুমিন ফারহানাকে। এ পর্যায়ে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা সংসদকে বলেন, গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে এবং সেই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি বেশ কিছু কথা বলেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দুই দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন। এখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরেকটি বিষয় আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমরা রপ্তানি করি।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমেরিকা থেকে সে পরিমাণ পণ্য আমরা আমদানি করি না এবং যে কারণে একটা বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বিরাট এবং এই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। তখন বাংলাদেশের যারা সুশীল সমাজ আছেন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আছেন তারা বারবার বলেছেন যে, একটি অনির্বাচিত সরকার এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না এবং এই চুক্তিতে অনেকগুলো ক্লজ আছে যেটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। সুতরাং নির্বাচনের পরে যখন একটি নির্বাচিত সরকার আসবে তখন যেন এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা দেখলাম যে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুনলো না এবং ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক…।

এ সময় স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য বক্তব্য শুনুন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। ৩০১ বিধিতে আপনি পড়লে দেখতে পাবেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদের চলমান বিষয়ের ওপরে হতে হয়, কিংবা সংসদ কাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হতে হয়, আপনি একটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, আপনি নোটিশ দেন এটি বিবেচনা করে দেখা হবে।

এরপর এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, স্পিকার একটা মিনিট, এই চুক্তিটি যদি সরকার চায়, তারা এটিকে বাতিল করতে পারে, চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।

এ সময় স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যানেজ মাস্টার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের দুর্নীতি

বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও সংসদীয় বিতর্ক বিষয়ক প্রস্তাবনা

আপডেট সময় ১২:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-মার্কিন স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই প্রস্তাব করেন তিনি। তবে স্পিকার পয়েন্ট অর্ডার গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন রুমিন ফারহানাকে। এ পর্যায়ে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা সংসদকে বলেন, গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে এবং সেই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি বেশ কিছু কথা বলেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দুই দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন। এখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরেকটি বিষয় আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমরা রপ্তানি করি।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমেরিকা থেকে সে পরিমাণ পণ্য আমরা আমদানি করি না এবং যে কারণে একটা বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বিরাট এবং এই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। তখন বাংলাদেশের যারা সুশীল সমাজ আছেন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আছেন তারা বারবার বলেছেন যে, একটি অনির্বাচিত সরকার এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না এবং এই চুক্তিতে অনেকগুলো ক্লজ আছে যেটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। সুতরাং নির্বাচনের পরে যখন একটি নির্বাচিত সরকার আসবে তখন যেন এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা দেখলাম যে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুনলো না এবং ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক…।

এ সময় স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য বক্তব্য শুনুন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। ৩০১ বিধিতে আপনি পড়লে দেখতে পাবেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদের চলমান বিষয়ের ওপরে হতে হয়, কিংবা সংসদ কাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হতে হয়, আপনি একটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, আপনি নোটিশ দেন এটি বিবেচনা করে দেখা হবে।

এরপর এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, স্পিকার একটা মিনিট, এই চুক্তিটি যদি সরকার চায়, তারা এটিকে বাতিল করতে পারে, চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।

এ সময় স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।