ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে রং মিশ্রিত শিং ও মাগুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, চাষের মাছকে খাল-বিলের দেশি মাছ বলে বিক্রি করা হচ্ছে, যার কারণে দাম সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু মাছের গায়ে অস্বাভাবিক লালচে আভা ও অতিরিক্ত চকচকে ভাব লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত চাষের শিং মাছ প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং মাগুর মাছ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে দেশি মাছ দাবি করে শিং মাছ ৬০০ টাকা এবং মাগুর ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এসব মাছ তারা ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা থেকে সংগ্রহ করেন। তবে রং মিশ্রিত হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল গফুর বলেন, “খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের রং মেশানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে। মাছ কেনার সময় ভালোভাবে দেখে কিনতে হবে। রং মিশ্রিত মনে হলে আমাদেরকে জানালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাম্মী আক্তার বলেন, “নির্বাচনের কারণে আমাদের অভিযান বর্তমানে ধীরগতিতে চলছে। তবে রং মিশ্রিত সব মাছের ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা খুব শীঘ্রই এসব মাছের বাজারে ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে অভিযান চালাবো।”
খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনিক তদন্ত ও পরীক্ষার প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহলও বাজারে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।
ফজলুর রহমান, ঠাকুরগাঁও: 






















