ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী আমাদের নেতা মানবিক, কোনো বৈষম্য হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন

ডিপিএইচইর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুলের সীমাহীন দুর্নীতি

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৭২ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খালেদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বিশেষ একটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুনামগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং নিজের পছন্দমত ঠিকাদারদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান করে কাজ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়, খালেদুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে এক বিশেষ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকাকালীন কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন, যেখানে প্রকল্পের কোন বাস্তব উন্নয়ন ঘটেনি, কিন্তু আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি ও তার সহযোগীরা। ২০১৭ সালে, নজরুল ইসলাম বাবুর তদবিরে খালেদুল ইসলাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি একটি পুকুর/দিঘি/জলাশয় পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও, প্রকল্পের পুকুর/দিঘি/জলাশয়ের উন্নয়ন বাস্তবে ঘটেনি এবং এই কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৩ মে, নজরুল ইসলাম বাবুর সুপারিশে খালেদুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব নেয়ার পর, তিনি স্থানীয় ঠিকাদারদের উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ দেন। এক্ষেত্রে, মেসার্স আদেল এন্টারপ্রাইজ, যার মালিক যুবলীগ নেতা শোয়াইবুর হোসেন আদেল, প্রায় ৬৫ কোটি টাকার কাজ পায়। এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে আন্দোলনকারীদের উপর বর্বরতা ও নৃশংসতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে খালেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থ প্রদান করেছেন এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক আওয়ামী নেতাকে তার বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, খালেদুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানি করেছেন। বিশেষ করে, মেসার্স আদেল এন্টারপ্রাইজের স্বার্থে তিনি এক ঠিকাদার মো. উজ্জ্বল মিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করিয়েছেন। সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুল ইসলামকে বিষয়টি জানাতে মেসেজ দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিএইচইর প্রধান প্রকৌশলী তোষার মোহন সাধু খাঁ বলেন, যদি কেউ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর!

ডিপিএইচইর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুলের সীমাহীন দুর্নীতি

আপডেট সময় ০৩:৪৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খালেদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বিশেষ একটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুনামগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং নিজের পছন্দমত ঠিকাদারদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান করে কাজ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়, খালেদুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে এক বিশেষ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকাকালীন কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন, যেখানে প্রকল্পের কোন বাস্তব উন্নয়ন ঘটেনি, কিন্তু আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি ও তার সহযোগীরা। ২০১৭ সালে, নজরুল ইসলাম বাবুর তদবিরে খালেদুল ইসলাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি একটি পুকুর/দিঘি/জলাশয় পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও, প্রকল্পের পুকুর/দিঘি/জলাশয়ের উন্নয়ন বাস্তবে ঘটেনি এবং এই কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৩ মে, নজরুল ইসলাম বাবুর সুপারিশে খালেদুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব নেয়ার পর, তিনি স্থানীয় ঠিকাদারদের উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ দেন। এক্ষেত্রে, মেসার্স আদেল এন্টারপ্রাইজ, যার মালিক যুবলীগ নেতা শোয়াইবুর হোসেন আদেল, প্রায় ৬৫ কোটি টাকার কাজ পায়। এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে আন্দোলনকারীদের উপর বর্বরতা ও নৃশংসতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে খালেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থ প্রদান করেছেন এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক আওয়ামী নেতাকে তার বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, খালেদুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানি করেছেন। বিশেষ করে, মেসার্স আদেল এন্টারপ্রাইজের স্বার্থে তিনি এক ঠিকাদার মো. উজ্জ্বল মিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করিয়েছেন। সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুল ইসলামকে বিষয়টি জানাতে মেসেজ দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিএইচইর প্রধান প্রকৌশলী তোষার মোহন সাধু খাঁ বলেন, যদি কেউ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।