সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

বদলে যাওয়া পরিবেশে ভোট উৎসবের আশা

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বদলে গেছে রাজনৈতিক মঞ্চ। ১৭ বছর পর পাল্টে যাওয়া পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৯ আসনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা চলবে ভোট গ্রহণ। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে স্থগিত করা হয়েছে ভোট।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত জুলাই সনদে জনসমর্থন আদায়ে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। দেশে এর আগে একাধিকবার গণভোট হলেও সংসদ নির্বাচনের দিনে একসঙ্গে গণভোট এবারই প্রথম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং পরে ইসির নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। দলীয় সরকারের অধীনে আগের তিন সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে নানা অনিয়মের ধারাবাহিকতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সাধারণ ভোটাররা ছিলেন কেন্দ্রবিমুখ। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এমন উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের ভোটেও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে গত সোমবার রাত থেকেই গণপরিবহনগুলোতে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ ভিড় বেড়েছে। সরকার ও ইসির কর্তারা ইতোমধ্যে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি। পাশাপাশি আজ বুধবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫০ হাজারের বেশি দেশীয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে ২৩ দেশ ও সাত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তারা সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ইসি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নানা প্রতিশ্রুতি সরকার এবং ইসির পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে নির্বাচনী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে পাঁচজন ও বেসরকারি হিসাবে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ জমা পড়েছে ইসিতে। যদিও এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারে বিএনপির বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে শুরুতে মনে করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে জরিপ চালানো হয়েছে। তবে ২০ দিনের টানা নির্বাচনী প্রচার শেষে প্রায় অর্ধেক আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। অর্ধশতাধিক আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরাও বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে এসব জরিপে উঠে এসেছে। প্রচার শুরুর আগে-পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছিল ইসি। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

ভোটার টার্নআউট ভালো হবে: সানাউল্লাহ
গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, সংসদ ও গণভোটের ফল একসঙ্গে গণনা হবে। বেশির ভাগ ফল রাতেই পাওয়া যেতে পারে। পুরো দেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গণভোটের ফল দেওয়া হবে। নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ফলের জন্য তাড়াহুড়ো করা যাবে না। প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে শতাধিক প্রতীক থাকবে। এতে গণনায় একটু বেশি সময় লাগবে। কালো টাকার ছড়াছড়ির ব্যাপারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সতর্ক নজর রাখতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

৪০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে কেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি। ইসি ২১ হাজার ৫০৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’তথা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পুলিশের তরফে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তালিকায় ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার দুই হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অতীত সহিংসতার তথ্যসহ নানা বিষয় বিবেচনায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সেনাবাহিনীর তরফে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একটি ব্রিফিং করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকার দুই আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি ইন্সটল করা হবে।

২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সারাদেশে এক লাখেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে যেগুলো সাধারণ কেন্দ্র, সেখানে অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেব তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেখানে তিন থেকে চারজন অস্ত্রসহ পুলিশ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। তবে আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সংখ্যা একই পরিমাণে থাকবে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে অস্ত্রসহ পুলিশ থাকবে চারজন করে।

ভোট ২৯৯ আসনে, প্রার্থী ২০২৮ জন
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন।

সারাদেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন; নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। ভোটকক্ষের (বুথ) সংখ্যা দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে পোস্টাল ভোট না পৌঁছলে গণনায় আসবে না
এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে এবার মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের ভেতরে ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৬ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯টি প্রবাসী এবং ৩ লাখ ১০ হাজার ১৫৪টি দেশের ভোটারদের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন। তবে ভোট গ্রহণের শেষ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে না পৌঁছলে তা গণনায় আসবে না বলে জানিয়েছে ইসি।

চার পদ্ধতিতে জানা যাবে ভোটের তথ্য
নির্বাচনে ভোটারের নানা তথ্য জানাতে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপসহ চারটি পদ্ধতির কথা বলেছে ইসি। এর মধ্যে অ্যাপের সাহায্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দিয়ে ঘরে বসেই নিজেদের ভোটকেন্দ্রের নাম, নম্বর ও অবস্থান জানতে পারবেন ভোটাররা।

দুই ভোটের ফল একত্রীকরণ যেভাবে
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল গণনা ও ফল প্রকাশে বিলম্বের শঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। তবে ধাপে ধাপে গণনা ও প্রকাশের কথা জানিয়ে ‘খুব বেশি দেরি হবে না’ বলে জানিয়েছে ইসি।
ইসি বলেছে, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী, নির্বাচনী অথবা পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে গণনা শেষ করে বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড বা দেয়ালে টানিয়ে প্রকাশ করবেন। এরপর ব্যবহৃত ব্যালট প্যাকেট, গণনার বিবরণী, ব্যালট হিসাব এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাগজপত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছেও সঙ্গে সঙ্গে পাঠাতে হবে এক কপি। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনার পর ফল একত্রীকরণ করে প্রকাশ করবেন। নির্বাচনের ফল নির্ধারণের পর অবশ্যই ইসি সচিবালয়ে একীভূত ফল বিবরণীসহ একটি রিটার্ন (গেজেট প্রকাশের জন্য) পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই সঙ্গে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে হবে।

সারাদেশে ৫ দিন ড্রোন ওড়াতে মানা
নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে আগামী ৫ দিন ড্রোন ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। বেবিচক বলছে, এই সময়ে কোনো ব্যক্তি ড্রোন ওড়ালে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বন্ধ থাকছে যেসব সেবা
ভোট সামনে রেখে বুধবার থেকে বন্ধ থাকবে শপিং মল এবং রাইড শেয়ারিংসহ কিছু জরুরি সেবা। তালিকায় আরও রয়েছে দোকানপাট। রয়েছে যান চলাচলে বিধিনিষেধ। ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকছে মোটরসাইকেল চলাচল। পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে অর্থ লেনদেন করা গেলেও বন্ধ রয়েছে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য এমএফএস অ্যাপের ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা।

এদিকে সরকারি নির্দেশে মঙ্গলবারই বন্ধ হয়ে গেছে শিল্প-কারখানা। বুধ-বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি, সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। লম্বা এই ছুটিতে অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে ঢাকার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে।
অন্যদিকে ভোটের আগের দিন থেকে বিভিন্ন শপিংমল ও বড় বড় বাজার সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনেকে জরুরি কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। ভোটের সময় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় অনেকে বেশি করে নিত্যপণ্য কিনে রাখছেন।

পাল্টাপাল্টি জরিপ আর অপপ্রচার
ভোট ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি জরিপ। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জরিপে কখনও বিএনপি ও তার জোট অথবা জামায়াতে ইসলামী ও তার জোটকে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমেও চলছে নানামুখী জরিপ। দল ও প্রার্থীদের পক্ষে যেমন প্রচারণা চলছে, তেমনি চলছে অপপ্রচারও। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ করেছেন দল ও প্রার্থীরা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

বদলে যাওয়া পরিবেশে ভোট উৎসবের আশা

আপডেট সময় ১২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বদলে গেছে রাজনৈতিক মঞ্চ। ১৭ বছর পর পাল্টে যাওয়া পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৯ আসনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা চলবে ভোট গ্রহণ। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে স্থগিত করা হয়েছে ভোট।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত জুলাই সনদে জনসমর্থন আদায়ে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। দেশে এর আগে একাধিকবার গণভোট হলেও সংসদ নির্বাচনের দিনে একসঙ্গে গণভোট এবারই প্রথম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং পরে ইসির নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। দলীয় সরকারের অধীনে আগের তিন সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে নানা অনিয়মের ধারাবাহিকতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সাধারণ ভোটাররা ছিলেন কেন্দ্রবিমুখ। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এমন উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের ভোটেও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে গত সোমবার রাত থেকেই গণপরিবহনগুলোতে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ ভিড় বেড়েছে। সরকার ও ইসির কর্তারা ইতোমধ্যে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি। পাশাপাশি আজ বুধবার নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫০ হাজারের বেশি দেশীয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে ২৩ দেশ ও সাত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তারা সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ইসি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নানা প্রতিশ্রুতি সরকার এবং ইসির পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে নির্বাচনী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে পাঁচজন ও বেসরকারি হিসাবে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ জমা পড়েছে ইসিতে। যদিও এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারে বিএনপির বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে শুরুতে মনে করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে জরিপ চালানো হয়েছে। তবে ২০ দিনের টানা নির্বাচনী প্রচার শেষে প্রায় অর্ধেক আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। অর্ধশতাধিক আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরাও বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে এসব জরিপে উঠে এসেছে। প্রচার শুরুর আগে-পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছিল ইসি। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

ভোটার টার্নআউট ভালো হবে: সানাউল্লাহ
গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, সংসদ ও গণভোটের ফল একসঙ্গে গণনা হবে। বেশির ভাগ ফল রাতেই পাওয়া যেতে পারে। পুরো দেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গণভোটের ফল দেওয়া হবে। নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ফলের জন্য তাড়াহুড়ো করা যাবে না। প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে শতাধিক প্রতীক থাকবে। এতে গণনায় একটু বেশি সময় লাগবে। কালো টাকার ছড়াছড়ির ব্যাপারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সতর্ক নজর রাখতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

৪০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে কেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি। ইসি ২১ হাজার ৫০৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’তথা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পুলিশের তরফে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তালিকায় ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার দুই হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অতীত সহিংসতার তথ্যসহ নানা বিষয় বিবেচনায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সেনাবাহিনীর তরফে ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একটি ব্রিফিং করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকার দুই আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি ইন্সটল করা হবে।

২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সারাদেশে এক লাখেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে যেগুলো সাধারণ কেন্দ্র, সেখানে অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেব তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেখানে তিন থেকে চারজন অস্ত্রসহ পুলিশ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। তবে আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সংখ্যা একই পরিমাণে থাকবে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে অস্ত্রসহ পুলিশ থাকবে চারজন করে।

ভোট ২৯৯ আসনে, প্রার্থী ২০২৮ জন
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন।

সারাদেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন; নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। ভোটকক্ষের (বুথ) সংখ্যা দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে পোস্টাল ভোট না পৌঁছলে গণনায় আসবে না
এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে এবার মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের ভেতরে ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৬ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯টি প্রবাসী এবং ৩ লাখ ১০ হাজার ১৫৪টি দেশের ভোটারদের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন। তবে ভোট গ্রহণের শেষ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে না পৌঁছলে তা গণনায় আসবে না বলে জানিয়েছে ইসি।

চার পদ্ধতিতে জানা যাবে ভোটের তথ্য
নির্বাচনে ভোটারের নানা তথ্য জানাতে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপসহ চারটি পদ্ধতির কথা বলেছে ইসি। এর মধ্যে অ্যাপের সাহায্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দিয়ে ঘরে বসেই নিজেদের ভোটকেন্দ্রের নাম, নম্বর ও অবস্থান জানতে পারবেন ভোটাররা।

দুই ভোটের ফল একত্রীকরণ যেভাবে
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল গণনা ও ফল প্রকাশে বিলম্বের শঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। তবে ধাপে ধাপে গণনা ও প্রকাশের কথা জানিয়ে ‘খুব বেশি দেরি হবে না’ বলে জানিয়েছে ইসি।
ইসি বলেছে, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী, নির্বাচনী অথবা পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে গণনা শেষ করে বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড বা দেয়ালে টানিয়ে প্রকাশ করবেন। এরপর ব্যবহৃত ব্যালট প্যাকেট, গণনার বিবরণী, ব্যালট হিসাব এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাগজপত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছেও সঙ্গে সঙ্গে পাঠাতে হবে এক কপি। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনার পর ফল একত্রীকরণ করে প্রকাশ করবেন। নির্বাচনের ফল নির্ধারণের পর অবশ্যই ইসি সচিবালয়ে একীভূত ফল বিবরণীসহ একটি রিটার্ন (গেজেট প্রকাশের জন্য) পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই সঙ্গে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে হবে।

সারাদেশে ৫ দিন ড্রোন ওড়াতে মানা
নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে আগামী ৫ দিন ড্রোন ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। বেবিচক বলছে, এই সময়ে কোনো ব্যক্তি ড্রোন ওড়ালে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বন্ধ থাকছে যেসব সেবা
ভোট সামনে রেখে বুধবার থেকে বন্ধ থাকবে শপিং মল এবং রাইড শেয়ারিংসহ কিছু জরুরি সেবা। তালিকায় আরও রয়েছে দোকানপাট। রয়েছে যান চলাচলে বিধিনিষেধ। ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকছে মোটরসাইকেল চলাচল। পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে অর্থ লেনদেন করা গেলেও বন্ধ রয়েছে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য এমএফএস অ্যাপের ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা।

এদিকে সরকারি নির্দেশে মঙ্গলবারই বন্ধ হয়ে গেছে শিল্প-কারখানা। বুধ-বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি, সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। লম্বা এই ছুটিতে অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে ঢাকার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে।
অন্যদিকে ভোটের আগের দিন থেকে বিভিন্ন শপিংমল ও বড় বড় বাজার সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনেকে জরুরি কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। ভোটের সময় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় অনেকে বেশি করে নিত্যপণ্য কিনে রাখছেন।

পাল্টাপাল্টি জরিপ আর অপপ্রচার
ভোট ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি জরিপ। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জরিপে কখনও বিএনপি ও তার জোট অথবা জামায়াতে ইসলামী ও তার জোটকে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমেও চলছে নানামুখী জরিপ। দল ও প্রার্থীদের পক্ষে যেমন প্রচারণা চলছে, তেমনি চলছে অপপ্রচারও। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ করেছেন দল ও প্রার্থীরা।