সংবাদ শিরোনাম ::
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন : বিমানমন্ত্রী জামিন পেলেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর সেই ২০ জনকে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা, এবার লাঠি নিয়ে পাহারায় জনগণ নাফরিজা শ্যামার সিদ্ধান্তে কাজ ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন

কর কমিশনার রঞ্জিত কুমার তালুকদারের ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

শতকোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক কর কমিশনার ও ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সাবেক সদস্য রঞ্জিত কুমার তালুকদারের বিরুদ্ধে। সরকারের সাবেক এই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বেশ কয়েকটি সংস্থা তাঁর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রঞ্জিত কুমার তালুকদার তাঁর আয়বহির্ভূত সম্পদের উৎস গোপন করতে বেশির ভাগ সম্পদ গড়েছেন আত্মীয়স্বজনের নামে। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী ঝুমুর মজুমদার, শাশুড়ি কল্যাণী মজুমদার, শালি কাকলী মজুমদার এবং শালা অমিত মজুমদারের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন রঞ্জিত।

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রঞ্জিতের স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারের বিরুদ্ধেও নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে তাঁদের কাছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের তিনটি শাখায় অন্তত সোয়া তিন কোটি টাকার এফডিআর স্থিতি আছে তাঁর নামে। এর মধ্যে সাভার ব্রাঞ্চের ১১টি হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৪ টাকা, একই ব্যাংকের রাজধানীর রাজউক অ্যাভিনিউর প্রিন্সিপাল শাখার ৯টি হিসাবে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৬১ টাকা ও ফার্মগেটে গ্রিন রোড শাখার দুটি হিসাবে আছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৫ টাকা।

রঞ্জিত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছেন কমিশনের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি দুদকের এই কর্মকর্তা। তবে অনুসন্ধান চলমান আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রঞ্জিতের শাশুড়ির নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর আছে এমন তথ্য উঠে এসেছে দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। বিপুল এই অর্থের বিপরীতে তাঁর নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। এ ছাড়া তাঁর নামে সাভারের ধামরাইয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি থাকার তথ্যও রয়েছে।

রঞ্জিত ও ঝুমুর মজুমদারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার সত্যতা পেয়েছে দুদক। তবে এই সম্পত্তির বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে দুদক। একইভাবে এই দম্পতির সব ধরনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতেও চিঠি দিয়েছে বিএফআইইউ।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত রঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারকে ফোন করা হলে সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন।

ঝুমুর মজুমদারের বোন কাকলী মজুমদারকে তাঁর মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি একটু পরে ফিরতি ফোন করবেন বলে ফোন রেখে দেন। তবে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফোন করেননি। এরপর আরও বেশ কয়েকবার তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

কর কমিশনার রঞ্জিত কুমার তালুকদারের ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

আপডেট সময় ০৬:১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শতকোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক কর কমিশনার ও ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সাবেক সদস্য রঞ্জিত কুমার তালুকদারের বিরুদ্ধে। সরকারের সাবেক এই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বেশ কয়েকটি সংস্থা তাঁর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রঞ্জিত কুমার তালুকদার তাঁর আয়বহির্ভূত সম্পদের উৎস গোপন করতে বেশির ভাগ সম্পদ গড়েছেন আত্মীয়স্বজনের নামে। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী ঝুমুর মজুমদার, শাশুড়ি কল্যাণী মজুমদার, শালি কাকলী মজুমদার এবং শালা অমিত মজুমদারের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন রঞ্জিত।

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রঞ্জিতের স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারের বিরুদ্ধেও নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে তাঁদের কাছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের তিনটি শাখায় অন্তত সোয়া তিন কোটি টাকার এফডিআর স্থিতি আছে তাঁর নামে। এর মধ্যে সাভার ব্রাঞ্চের ১১টি হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৪ টাকা, একই ব্যাংকের রাজধানীর রাজউক অ্যাভিনিউর প্রিন্সিপাল শাখার ৯টি হিসাবে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৬১ টাকা ও ফার্মগেটে গ্রিন রোড শাখার দুটি হিসাবে আছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৫ টাকা।

রঞ্জিত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছেন কমিশনের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি দুদকের এই কর্মকর্তা। তবে অনুসন্ধান চলমান আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রঞ্জিতের শাশুড়ির নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর আছে এমন তথ্য উঠে এসেছে দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। বিপুল এই অর্থের বিপরীতে তাঁর নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। এ ছাড়া তাঁর নামে সাভারের ধামরাইয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি থাকার তথ্যও রয়েছে।

রঞ্জিত ও ঝুমুর মজুমদারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার সত্যতা পেয়েছে দুদক। তবে এই সম্পত্তির বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে দুদক। একইভাবে এই দম্পতির সব ধরনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতেও চিঠি দিয়েছে বিএফআইইউ।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত রঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারকে ফোন করা হলে সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন।

ঝুমুর মজুমদারের বোন কাকলী মজুমদারকে তাঁর মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি একটু পরে ফিরতি ফোন করবেন বলে ফোন রেখে দেন। তবে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফোন করেননি। এরপর আরও বেশ কয়েকবার তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।