ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আকস্মিক সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। শনিবার মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর চালানো এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবার ৩২ জন সেনা ও গোয়েন্দা সদস্যও রয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ভেনেজুয়েলার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে নিহতের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদুরোকে আটকের অভিযানের সময় মার্কিন বিমানবাহিনী ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বোমা বর্ষণ করে। এতেই এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এদিকে কিউবা সরকার নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় তাদের সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ৩২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার হাভানা থেকে জানানো হয়, নিহতরা মূলত প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স যখন মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করতে হানা দেয়, তখন কিউবার এই সদস্যরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ হারান।
এই ঘটনায় কিউবা দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার বলেছে, ‘‘আমাদের দেশপ্রেমিক সন্তানেরা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বীরোচিত লড়াই করেছেন।’’
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অভিযোগ করেছেন, নিকোলাস মাদুরোকে আটকের এই ঘটনায় নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়েছে ইহুদিবাদী শক্তিগুলো।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে কারাকাসের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। কিউবা দীর্ঘ দিন ধরেই ভেনেজুয়েলার সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























