ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় নতুন ইতিহাস গড়লেন নাজনীন সুলতানা। থানার প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো কোনো নারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি। তার যোগদানে থানার সার্বিক কার্যক্রমে এসেছে নতুন পরিবর্তনের সুর এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা।
নাজনীন সুলতানার শিকড় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা হিসেবে এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। শিক্ষা জীবনের পর ২০০৭ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবন শুরু করেন ফেনী জেলা থেকে। দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারণে অল্প সময়েই তিনি সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের আস্থা অর্জন করেন।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় দেন। তার নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা আন্তর্জাতিক সহকর্মীদের কাছেও প্রশংসিত হয়।
কসবা থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর নাজনীন সুলতানা বলেন,
“কসবার মানুষ যেন শান্তিতে, নিরাপত্তায় ও আস্থার সঙ্গে দিনযাপন করতে পারে—এই লক্ষ্যেই কাজ করব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমন, সেবার মান বাড়ানো এবং থানাকে আরও জনবান্ধব করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তার এই দায়িত্বগ্রহণে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি ও প্রত্যাশা। অনেকেই বলেছেন— “নারী নেতৃত্ব পুলিশের সেবাকে আরও মানবিক ও সহজলভ্য করবে।”
কসবা থানা পরিচালনায় নতুন এই পরিবর্তন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এমনটাই বিশ্বাস করছেন এলাকাবাসী। প্রথম নারী ওসি হিসেবে নাজনীন সুলতানার দায়িত্বগ্রহণ কসবা থানার ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
কসবা প্রতিনিধি: 




















