রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির পুরনো হলরুমে একদল তরুণ কর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আহ্বান জানালেন— “বিচারে ইনসাফ করতে হবে।”
তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, বক্তব্যে সত্য ও সাহসের তীক্ষ্ণ মিশ্রণ।
তিনি বলেন, “যদি কাশিমপুর কারাগারে আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ সব পেশার মানুষ থাকতে পারেন, তাহলে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেখানে রাখতেই সমস্যা কোথায়?”এই কথার পর মুহূর্তেই পুরো হলরুমে নেমে আসে চাপা নিস্তব্ধতা।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “দিল্লীর ছায়াতলে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে ৩০-৪০ জন ক্রিমিনাল আছে। এই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করলে বাহিনীগুলো কখনোই স্বচ্ছ হবে না।” তার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনীতির স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের প্রশ্ন।
তিনি বলেন, “যদি আপনারা টেম্পু স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ আর অপরাধীদের ভোট দেন, তবে দেশের উন্নয়নও হবে অপরাধের কাঁধে দাঁড়িয়ে। তখন আশা নয়, হতাশাই হবে ভবিষ্যতের নাম।” সভায় উপস্থিত তরুণ কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ভাবনার সঞ্চার হয়। পেছন থেকে কেউ কেউ বলেন, “এই কথাগুলো মানুষ শুনুক, না হলে কিছুই বদলাবে না।”
সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ফুয়াদ আরও বলেন,
“আমরা এমন এক দেশ চাই, যেখানে অফিসে কাজ হবে দায়িত্বে, নয় দলে।” ভার শেষ দিকে রংপুর মহানগর এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ তার পাশে দাঁড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বাইরে তখন সন্ধ্যার ছায়া, শহর ডুবে যাচ্ছে আলো-অন্ধকারে। সেই আবছা আলোয় আবারও ভেসে আসে ফুয়াদের দৃঢ় কণ্ঠ—
“বিচারে ইনসাফ করতে হবে।”
এ যেন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, সময়ের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক প্রখর প্রতিবাদের প্রতিধ্বনি।
শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি 



















