ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
খুমেক হাসপাতাল

টাকা না দেওয়ায়’ অক্সিজেন খুলে নিল ক্লিনার, রোগীর মৃত্যু

  • খুলনা ব্যুরো
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৩২ বার পড়া হয়েছে

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ায় শেখ সাইফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ‘টাকা না দেওয়ায়’ হাসপাতালের ক্লিনার অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়েছে।

মৃত সাইফুল খুলনার খানজাহান আলী থানার যোগিপোল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত শেখ ইসমাইলের ছেলে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিডনির জটিলতা নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে সাইফুলকে খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-১ এর ৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে স্বজনরা অক্সিজেনের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেক চেষ্টায় রাত ১টার পর অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পরদিন রোববার সকালে ওয়ার্ডের আউটসোর্সিং কর্মচারী (ক্লিনার) আ. জব্বার গিয়ে সিলিন্ডারটি খুলে নিয়ে পাশের রোগীকে দেন। এর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই সাইফুল মারা যান।

সাইফুলের মা রশিদা বেগম বলেন, রাতভর দৌড়াদৌড়ি করে অক্সিজেন পেয়েছিলাম। সকালে ক্লিনার অক্সিজেন খুলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ছেলে মারা যায়।

বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া ক্লিনার অক্সিজেন নিয়ে গেছে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই আমার ভাই ছটফট করতে করতে মারা যায়। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়-ক্লিনারদের টাকা ছাড়া কোনো সেবাই পাওয়া যায় না।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক ব্যক্তি এসে সাইফুলের নাক থেকে নল খুলে সিলিন্ডার নিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। ক্লিনারের দায়িত্ব নয় রোগীর অক্সিজেন খুলে দেওয়া। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন ওয়ার্ডের ডাক্তার। যদি প্রমাণিত হয় ক্লিনার অক্সিজেন খুলেছেন, তবে সেটি অপরাধ। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

খুমেক হাসপাতাল

টাকা না দেওয়ায়’ অক্সিজেন খুলে নিল ক্লিনার, রোগীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৪:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ায় শেখ সাইফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ‘টাকা না দেওয়ায়’ হাসপাতালের ক্লিনার অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়েছে।

মৃত সাইফুল খুলনার খানজাহান আলী থানার যোগিপোল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত শেখ ইসমাইলের ছেলে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিডনির জটিলতা নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে সাইফুলকে খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-১ এর ৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে স্বজনরা অক্সিজেনের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেক চেষ্টায় রাত ১টার পর অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পরদিন রোববার সকালে ওয়ার্ডের আউটসোর্সিং কর্মচারী (ক্লিনার) আ. জব্বার গিয়ে সিলিন্ডারটি খুলে নিয়ে পাশের রোগীকে দেন। এর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই সাইফুল মারা যান।

সাইফুলের মা রশিদা বেগম বলেন, রাতভর দৌড়াদৌড়ি করে অক্সিজেন পেয়েছিলাম। সকালে ক্লিনার অক্সিজেন খুলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ছেলে মারা যায়।

বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া ক্লিনার অক্সিজেন নিয়ে গেছে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই আমার ভাই ছটফট করতে করতে মারা যায়। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়-ক্লিনারদের টাকা ছাড়া কোনো সেবাই পাওয়া যায় না।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক ব্যক্তি এসে সাইফুলের নাক থেকে নল খুলে সিলিন্ডার নিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। ক্লিনারের দায়িত্ব নয় রোগীর অক্সিজেন খুলে দেওয়া। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন ওয়ার্ডের ডাক্তার। যদি প্রমাণিত হয় ক্লিনার অক্সিজেন খুলেছেন, তবে সেটি অপরাধ। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।