ভোলা -বোরহানউদ্দিনে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটি চলছে ডাক্তার সংকট ও জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে দিয়ে। সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত থাকেন, আতংকে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে মাত্র ৭ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে প্রতিদিন শত শত রোগীর চিকিৎসা সেবা। হাসপাতালের ওয়ার্ড সংখ্যা কাগজ কলমে বাড়লেও, বাস্তবে দেখা মিলেনি। এছাড়াও বাড়েনি জনবল। যেখানে ৩০ জন চিকিৎসকের থাকার কথা, সেখানে সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৭ জন।
প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকছেন প্রায় ৪০/ ৫০ জন। কিন্তু পুরাতন ৩১ শয্যার ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় রোগীদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র ১৯ শয্যার নতুন ভবনে। ফলে রোগী সেবায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ম শ্রেণির ৩০টি পদের মধ্যে ২২টি শূন্য। কাগজে-কলমে ৮ জন থাকলেও ১ জন ঢাকায় ট্রেনিংয়ে, আরেকজন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত। ২য় শ্রেণির ৩৬টির মধ্যে কর্মরত আছেন ২২ জন, ৩য় শ্রেণির ১৩৫টির মধ্যে ৯৩ জন, আর ৪র্থ শ্রেণির ২২টির মধ্যে আছেন ১৩ জন। বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক্স, শিশু, চক্ষু, ইএনটি ও চর্ম বিভাগে কোনো কনসালটেন্ট নেই বহু বছর ধরে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা ৯ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার দায়িত্ব এই হাসপাতালের ওপরই। সচেতন মহলের প্রশ্ন—এত বড় জনগোষ্ঠীকে কেবল ৭ জন ডাক্তার দিয়ে কীভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব?
রোগীদের অভিযোগ, বেড না থাকায় অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ৬-৭ বছর আগে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেলেও এখনো তা পুনর্নির্মাণ হয়নি। এতে ডাক্তার-নার্সরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মেডিকেল অফিসার ডা. প্রসেনজিৎ রায় বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ৫০০/৬০০ রোগী আসে চিকিৎসা সেবা নিতে । ডিউটিতে থাকেন মাত্র ৩-৪ জন ডাক্তার। সারাদিন কাজের পর পরদিনও আবার আউটডোরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এভাবে প্রতি নিয়ত চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের নিজেরাই অসুস্থ হবার পালা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলার সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী ও সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল আজিজ বলেন, “বড় শহরে অতিরিক্ত নিয়োগ বন্ধ করে মফস্বলে ডাক্তার নিয়োগ দিতে হবে। ডেপুটেশন প্রথা বাতিল করা জরুরি।” তাহলেই মফস্বল এলাকায় ডাক্তার থাকবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার জানান, “পুরাতন ৩১ শয্যার ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জনবল ও শয্যা সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানানো হলেও কোন কিছুই হচ্ছে না।
ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মু. মনিরুল ইসলাম বলেন ভোলা জেলায় ৬৫ ভাগ চিকিৎসক ও ৫২ ভাগ নার্সের পদ শূন্য। চিকিৎসকের অভাবে জেলার স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভোলায় ডাক্তার সংকট নিয়ে অনেকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো ডাক্তার পাওয়া যায়নি। তবে এ বছর কিছু সমাধান হতে পারে বলে আশা করছি।
রিয়াজ ফরাজি (ভোলা) 




















