ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ
আসামির আইনজীবীকে আনাসের মা

‘আপনার সন্তানের বুকে গুলি লাগলে বুঝবেন

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন বেলা পৌনে ১২টায় সাক্ষীর ডায়াসে ওঠেন শহীদ আনাসের মা দীপ্তি। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছেলে হত্যাকাণ্ডের পুরো বর্ণনা ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষ্যগ্রহণের পর শুরুতে তাকে জেরা করেন আসামি শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের পক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।

জেরার একপর্যায়ে ছেলের লেখা শেষ চিঠি নিয়ে আনাসের মায়ের কাছে জানতে চান আইনজীবী অভি। তিনি বলেন, আনাসের লেখা চিঠিটি কী আনাসের জবাবে সাক্ষী দীপ্তি বলেন, কেমন ভ্রান্ত প্রশ্ন করেন। আমার ছেলেকে কি আপনারা বেশি চেনেন। চিঠির লেখা ও নিচের স্বাক্ষর সবই আনাসের।

আনাসের ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত হয়নি। কারণ দ্রুত লাশ দিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার সহযোদ্ধা রাব্বী ও সৌরভও পূর্বপরিচিত ছিল না।

জেরায় আইনজীবীর এমন প্রশ্নে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই সাক্ষী বলেন, আমি কিছু বললেই দোষ হবে। যেদিন আপনার সন্তানের বুকে গুলি লাগবে, সেদিনই বুঝবেন। প্রতিত্তোরে অভি বলেন, আপনি ন্যায়বিচার পান আমরাও চাই। আপনার ছেলের মৃত্যুতে আমরাও ব্যথিত। তবে আইনজীবী হিসেবে এমন প্রশ্ন করা আমাদের কর্তব্য।

এছাড়া আজ সকালেও কারাগার থেকে এ মামলার চার আসামিকে হাজির করেছে পুলিশ। তারা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম। তাদের উপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাক্ষীরা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

আসামির আইনজীবীকে আনাসের মা

‘আপনার সন্তানের বুকে গুলি লাগলে বুঝবেন

আপডেট সময় ০৭:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন বেলা পৌনে ১২টায় সাক্ষীর ডায়াসে ওঠেন শহীদ আনাসের মা দীপ্তি। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছেলে হত্যাকাণ্ডের পুরো বর্ণনা ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষ্যগ্রহণের পর শুরুতে তাকে জেরা করেন আসামি শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের পক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।

জেরার একপর্যায়ে ছেলের লেখা শেষ চিঠি নিয়ে আনাসের মায়ের কাছে জানতে চান আইনজীবী অভি। তিনি বলেন, আনাসের লেখা চিঠিটি কী আনাসের জবাবে সাক্ষী দীপ্তি বলেন, কেমন ভ্রান্ত প্রশ্ন করেন। আমার ছেলেকে কি আপনারা বেশি চেনেন। চিঠির লেখা ও নিচের স্বাক্ষর সবই আনাসের।

আনাসের ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত হয়নি। কারণ দ্রুত লাশ দিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার সহযোদ্ধা রাব্বী ও সৌরভও পূর্বপরিচিত ছিল না।

জেরায় আইনজীবীর এমন প্রশ্নে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই সাক্ষী বলেন, আমি কিছু বললেই দোষ হবে। যেদিন আপনার সন্তানের বুকে গুলি লাগবে, সেদিনই বুঝবেন। প্রতিত্তোরে অভি বলেন, আপনি ন্যায়বিচার পান আমরাও চাই। আপনার ছেলের মৃত্যুতে আমরাও ব্যথিত। তবে আইনজীবী হিসেবে এমন প্রশ্ন করা আমাদের কর্তব্য।

এছাড়া আজ সকালেও কারাগার থেকে এ মামলার চার আসামিকে হাজির করেছে পুলিশ। তারা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম। তাদের উপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাক্ষীরা।