ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে : হাফিজউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে অন্তত ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যৌথ নদী কমিশনে চিঠি দিয়েও ভারত থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।
শনিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাজ চিন্তা ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজ চিন্তা ফোরামের,আমাদের সময়ের সম্পাদক সাংবাদিক আবু সাইদ খান,বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, ওয়াকার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হওয়ায় ছোট দেশগুলো ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের স্পার নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়ে বাঁধ ভেঙে যায়, আর নতুন বাঁধ দিতে গেলেই বিএসএফ বাধা দেয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও নদী আজ সবচেয়ে অবহেলিত। অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা না পেয়ে এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ ভয়াবহ পানি সংকটে পড়ছে। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার, ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ভাটির দিকে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, নাব্যতা, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। দেশে প্রায় ১,৪১৫ নদী থাকলেও কতগুলো এখন জীবিত আছে তা সঠিকভাবে জানা নেই। নদী দূষণ, দখল, খাল ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে বহু নদী খালে, খাল মরা খালে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তি চাপের ফলে পানির স্তর প্রতিবছর গড়ে তিন মিটার নিচে নামছে; কোথাও কোথাও ৪০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। ওয়ারপো কেবল পানি নীতির ওপর কাজ করছে, কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বোর্ড গঠন জরুরি।

জ্বালানি ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বিনি রাহমাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ নদী। নদীকে মরতে দিলে রাষ্ট্রও বাঁচবে না। গার্মেন্টস শিল্প আমাদের প্রকৃত সম্পদ তৈরি করছে না, বরং নদীই বাংলাদেশের প্রাণভিত্তি। তাই নদী রক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ জরুরি।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদী উপেক্ষিত। ভারতের বাধ, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানিসংকট ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। নদী রক্ষা করতে হলে উন্নয়ন দর্শন পরিবর্তন করতে হবে, ক্ষতিকর প্রকল্প বাদ দিতে হবে এবং ঋণদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে : হাফিজউদ্দিন

আপডেট সময় ০৫:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে অন্তত ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যৌথ নদী কমিশনে চিঠি দিয়েও ভারত থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।
শনিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাজ চিন্তা ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজ চিন্তা ফোরামের,আমাদের সময়ের সম্পাদক সাংবাদিক আবু সাইদ খান,বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, ওয়াকার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হওয়ায় ছোট দেশগুলো ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের স্পার নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়ে বাঁধ ভেঙে যায়, আর নতুন বাঁধ দিতে গেলেই বিএসএফ বাধা দেয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও নদী আজ সবচেয়ে অবহেলিত। অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা না পেয়ে এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ ভয়াবহ পানি সংকটে পড়ছে। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার, ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ভাটির দিকে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, নাব্যতা, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। দেশে প্রায় ১,৪১৫ নদী থাকলেও কতগুলো এখন জীবিত আছে তা সঠিকভাবে জানা নেই। নদী দূষণ, দখল, খাল ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে বহু নদী খালে, খাল মরা খালে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তি চাপের ফলে পানির স্তর প্রতিবছর গড়ে তিন মিটার নিচে নামছে; কোথাও কোথাও ৪০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। ওয়ারপো কেবল পানি নীতির ওপর কাজ করছে, কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বোর্ড গঠন জরুরি।

জ্বালানি ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বিনি রাহমাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ নদী। নদীকে মরতে দিলে রাষ্ট্রও বাঁচবে না। গার্মেন্টস শিল্প আমাদের প্রকৃত সম্পদ তৈরি করছে না, বরং নদীই বাংলাদেশের প্রাণভিত্তি। তাই নদী রক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ জরুরি।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদী উপেক্ষিত। ভারতের বাধ, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানিসংকট ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। নদী রক্ষা করতে হলে উন্নয়ন দর্শন পরিবর্তন করতে হবে, ক্ষতিকর প্রকল্প বাদ দিতে হবে এবং ঋণদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।