ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

উপদেষ্টা হতে সমন্বয়ককে ২০০ কোটির চেক, প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদে বসতে এক সমন্বয়ককে ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়ার যে অভিযোগ জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে উঠেছে, তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই অভিযোগ প্রমাণে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাতে দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, যা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অসাধু প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভের উদ্দেশ্যে ঘুস প্রদানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, যা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যথাযথ যাচাই শেষে কমিশনের নিকট পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত চেয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এর আগে ‌‘উপদেষ্টা হতে সাবেক সমন্বয়ককে ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে’ এমন খবর প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

গত ২৭ আগস্ট একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদ পাওয়ার প্রলোভনে একজন সমন্বয়ককে ১০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক প্রদান করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা এ বছরের জানুয়ারিতে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। জানা যায়, অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা, যিনি এনআইসিআরএইচ-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদ পাওয়ার আশায় একটি সমন্বয়ক গ্রুপের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়েছেন। এই গ্রুপ নিজেদের যমুনা থেকে আগত হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. মোস্তফা ১০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক প্রদান করেছেন। এই লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জড়িত, যিনি নিজেকে সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তারা আমাকে জোর করে উপদেষ্টা বানাতে চায় এবং মিথ্যা প্রলোভনে ও জোর করে চেকে স্বাক্ষর নেয়। তারা যেদিন আমার অফিসে এসেছিল সম্ভবত তাদের দুজনের হাতে অস্ত্র ছিল।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

উপদেষ্টা হতে সমন্বয়ককে ২০০ কোটির চেক, প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

আপডেট সময় ১২:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদে বসতে এক সমন্বয়ককে ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়ার যে অভিযোগ জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে উঠেছে, তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই অভিযোগ প্রমাণে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাতে দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, যা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অসাধু প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভের উদ্দেশ্যে ঘুস প্রদানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, যা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যথাযথ যাচাই শেষে কমিশনের নিকট পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত চেয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এর আগে ‌‘উপদেষ্টা হতে সাবেক সমন্বয়ককে ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়ার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে’ এমন খবর প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

গত ২৭ আগস্ট একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদ পাওয়ার প্রলোভনে একজন সমন্বয়ককে ১০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক প্রদান করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা এ বছরের জানুয়ারিতে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। জানা যায়, অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা, যিনি এনআইসিআরএইচ-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদ পাওয়ার আশায় একটি সমন্বয়ক গ্রুপের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়েছেন। এই গ্রুপ নিজেদের যমুনা থেকে আগত হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. মোস্তফা ১০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ কোটি টাকার চারটি চেক প্রদান করেছেন। এই লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জড়িত, যিনি নিজেকে সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তারা আমাকে জোর করে উপদেষ্টা বানাতে চায় এবং মিথ্যা প্রলোভনে ও জোর করে চেকে স্বাক্ষর নেয়। তারা যেদিন আমার অফিসে এসেছিল সম্ভবত তাদের দুজনের হাতে অস্ত্র ছিল।’