ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

১৭ দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট, কমেছে রপ্তানি

গেল দু’যুগে ১৭টি দেশে কাঁচাপাটের বাজার হারিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশের বাজার হারিয়েছে। এতে পাট রপ্তানিকারকরা যেমন আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন, তেমনই ব্যাংকের ঋণ খেলাপিও হয়েছে। এসব কারণে দেশের অন্যতম কাঁচাপাটের মোকাম খুলনার দৌলতপুর ও নারায়ণগঞ্জে মন্দাভাব বিরাজ করছে। জুলাই থেকে মৌসুম শুরু হলেও ব্যাংক রপ্তানিকারকদের ঋণ দিতে নারাজ।
এদিকে স্থলবন্দরগুলোতে বিধি-নিষেধের কারণে রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তেমনই বিপাকে পড়েছে ভারতীয় পাট ব্যবসায়ীরাও। পাট রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এমনি তথ্য।

এক সময় ২৯টি দেশে বাংলাদেশের পাট রপ্তানি হতো। সেখানে ১৭টি দেশ কমে এখন ১২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কমেছে রপ্তানির পরিমাণও।
বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন ও পাট অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ভারত, পাকিস্তান, চীন, ইতালি, রাশিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ইরান, নেপাল, স্পেন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, জার্মানিসহ ২৯টি দেশে পাট রপ্তানি হয়েছে। অথচ বিদায়ী অর্থবছরে ১২টি দেশে রপ্তানি হয়।

বেলজিয়াম, কিউবা, মিশর, এল-সালভাডোর, ইথিওপিয়া, জার্মানী, হল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালী, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, তানজানিয়া, জায়ার, রোমানিয়া ও ফিলিপাইন এই ১৭ দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট।
যে ১২ দেশে রপ্তানি হচ্ছে : ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ব্রাজিল, ইউকে, ভিয়েতনাম, তিউনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আইভরি কোস্ট, থাইল্যান্ড ও ইউএসএ।

পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা, করোনা, ডলারের মূল্য উঠানামা বিশ্ব বাজার হারানোর অন্যতম কারণ।

২০১০-২০১১ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ বেল পাট রপ্তানি হয়। যা থেকে আয় ছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর গেল ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল পাট রপ্তানি হয়েছে।

পাটের বাজার হারানোর বিষয়ে গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক গাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, পাট উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে সবচেয়ে মানসম্মত পাট আমাদের দেশে হয়। এই পাট রপ্তানিতে বিভিন্ন সময়ে বাঁধা আসে। ২০০৯-২০১০ সালের পর দুই-তিন দফায় পাট রপ্তানি বন্ধ হয়। যেসব দেশ বাংলাদেশের পাটে নির্ভরশীল, রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সেসব দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে পাটের বাজার কমেছে।

তিনি আরও বলেন, আগে সড়কপথে ভারতে পাট যেতো। কিন্তু বর্তমানে জলপথে জাহাজে পাঠাতে সময় ও ব্যয়ও বেড়েছে। অবশ্য এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। কয়েকগুণ খরচ বেড়েছে তাদের।

দৌলতপুর সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক বদরুল আলম মার্কিন বলেন, বাজারে চাহিদা কমেছে। বিভিন্ন দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানির কমছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে পাট রপ্তানি করে থাকি। বর্তমানে এই তিনটি দেশ পাটের সবচেয়ে বড় বাজার।

বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরু থেকে রপ্তানি বাঁধাগ্রস্ত হয়। রপ্তানির শুরুর পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বাহিরের দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য বাজার কিছুটা হারিয়েছি এবং রপ্তানিও কমেছে। বাজার সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে তা কিন্তু নয়। ভারত স্থলবন্দর বাদ দিয়ে সমুদ্র বন্দর দিয়ে জাহাজে পাঠানো দিয়েছে এতে আমাদের রপ্তানি কিছুটা ধীরগতি হয়ে যাচ্ছে। তবে এ কারণে ভারতের ব্যবসায়ীদেরই ভোগান্তি বেড়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

১৭ দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট, কমেছে রপ্তানি

আপডেট সময় ১২:১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

গেল দু’যুগে ১৭টি দেশে কাঁচাপাটের বাজার হারিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশের বাজার হারিয়েছে। এতে পাট রপ্তানিকারকরা যেমন আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন, তেমনই ব্যাংকের ঋণ খেলাপিও হয়েছে। এসব কারণে দেশের অন্যতম কাঁচাপাটের মোকাম খুলনার দৌলতপুর ও নারায়ণগঞ্জে মন্দাভাব বিরাজ করছে। জুলাই থেকে মৌসুম শুরু হলেও ব্যাংক রপ্তানিকারকদের ঋণ দিতে নারাজ।
এদিকে স্থলবন্দরগুলোতে বিধি-নিষেধের কারণে রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তেমনই বিপাকে পড়েছে ভারতীয় পাট ব্যবসায়ীরাও। পাট রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এমনি তথ্য।

এক সময় ২৯টি দেশে বাংলাদেশের পাট রপ্তানি হতো। সেখানে ১৭টি দেশ কমে এখন ১২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কমেছে রপ্তানির পরিমাণও।
বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন ও পাট অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ভারত, পাকিস্তান, চীন, ইতালি, রাশিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ইরান, নেপাল, স্পেন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, জার্মানিসহ ২৯টি দেশে পাট রপ্তানি হয়েছে। অথচ বিদায়ী অর্থবছরে ১২টি দেশে রপ্তানি হয়।

বেলজিয়াম, কিউবা, মিশর, এল-সালভাডোর, ইথিওপিয়া, জার্মানী, হল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালী, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, তানজানিয়া, জায়ার, রোমানিয়া ও ফিলিপাইন এই ১৭ দেশের বাজার হারিয়েছে কাঁচাপাট।
যে ১২ দেশে রপ্তানি হচ্ছে : ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ব্রাজিল, ইউকে, ভিয়েতনাম, তিউনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আইভরি কোস্ট, থাইল্যান্ড ও ইউএসএ।

পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, দফায় দফায় রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা, করোনা, ডলারের মূল্য উঠানামা বিশ্ব বাজার হারানোর অন্যতম কারণ।

২০১০-২০১১ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ বেল পাট রপ্তানি হয়। যা থেকে আয় ছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর গেল ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল পাট রপ্তানি হয়েছে।

পাটের বাজার হারানোর বিষয়ে গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক গাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, পাট উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে সবচেয়ে মানসম্মত পাট আমাদের দেশে হয়। এই পাট রপ্তানিতে বিভিন্ন সময়ে বাঁধা আসে। ২০০৯-২০১০ সালের পর দুই-তিন দফায় পাট রপ্তানি বন্ধ হয়। যেসব দেশ বাংলাদেশের পাটে নির্ভরশীল, রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সেসব দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে পাটের বাজার কমেছে।

তিনি আরও বলেন, আগে সড়কপথে ভারতে পাট যেতো। কিন্তু বর্তমানে জলপথে জাহাজে পাঠাতে সময় ও ব্যয়ও বেড়েছে। অবশ্য এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। কয়েকগুণ খরচ বেড়েছে তাদের।

দৌলতপুর সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানিকারক বদরুল আলম মার্কিন বলেন, বাজারে চাহিদা কমেছে। বিভিন্ন দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানির কমছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে পাট রপ্তানি করে থাকি। বর্তমানে এই তিনটি দেশ পাটের সবচেয়ে বড় বাজার।

বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরু থেকে রপ্তানি বাঁধাগ্রস্ত হয়। রপ্তানির শুরুর পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বাহিরের দেশের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য বাজার কিছুটা হারিয়েছি এবং রপ্তানিও কমেছে। বাজার সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে তা কিন্তু নয়। ভারত স্থলবন্দর বাদ দিয়ে সমুদ্র বন্দর দিয়ে জাহাজে পাঠানো দিয়েছে এতে আমাদের রপ্তানি কিছুটা ধীরগতি হয়ে যাচ্ছে। তবে এ কারণে ভারতের ব্যবসায়ীদেরই ভোগান্তি বেড়েছে।