ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রেমের বিচ্ছেদ সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা! ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত আমির বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা আত্রাইয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত ৭ ইসলামি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক: ৫ শর্তে কুমিল্লা বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন পটুয়াখালী শোভাযাত্রা ও মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন তীব্র গ্যাস সংকটে কুমিল্লা, সিএনজি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ত্রাণের বিস্কুট ও জাহাজের তেল চুরির অভিযোগেও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মিজানুর

আন্তর্জাতিক মানের ভোট করতে ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রূপ দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চার মিলিয়ন ইউরো’র সহায়তা প্যাকেজ দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা বলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এদিন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বর্তমান ইসির সঙ্গে এটি ইইউ রাষ্ট্রদূতের চতুর্থ বৈঠক। এসময় মিলারের সঙ্গে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলই নয়, ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

বৈঠক শেষে মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে অগ্রগতির সহযাত্রী হিসেবে কাজ করছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ভোটের দিকে এগোচ্ছে দেশ।

তিনি বলেন, আজ আমি বিশেষভাবে এসেছি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে জানাতে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪ মিলিয়ন ইউরোর বেশি সহায়তা দেবে। যাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক। আগামীতে এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবো আমরা।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা আমাদের বাস্তবায়নকারী অংশীদার-নির্বাচন বিশেষজ্ঞ। তারা এখানে থাকবেন যাতে আসন্ন নির্বাচনে নাগরিক পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভোটার এডুকেশনও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হিসেবে আমরা আমাদের অংশীদার বাংলাদেশ এবং অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর, যাতে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে নানা ধরনের সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন মাইকেল মিলার বলেন, তারা সরাসরি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে দক্ষতা বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, যেমন কার্যকরী পরিকল্পনা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা বাংলাদেশে আমাদের কাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এখানেও। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে একটি অগ্রাধিকারমূলক দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে, বিশেষত সম্ভাব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের জন্য।

তিনি জানান, সামনের সময়ে এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, নির্বাচন প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সবার মনোযোগ রয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাজ। আমরা এখন আলোচনা করছি বাস্তবিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। আর এজন্যই আমরা এখানে এসেছি আমাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে। কারণ আমরা চাই আপনাদের নির্বাচন যেন সত্যিই গ্রহণযোগ্য হয়, আন্তর্জাতিক মানের হয়, অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।

আগামী মাসে ইইউর প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল আসবে বলে জানান তিনি।

মিলার আরও বলেন, আগামী মাসে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাংলাদেশে আসবে। এটি পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের কাজ হবে যাচাই করা যে এখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা। আমরা সক্ষমতা ও বাস্তবতা যাচাই করছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিচ্ছি-ভোটার এডুকেশন, দেশিয় পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোকে মাঠপর্যায়ে কাজের সক্ষমতা দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করা এবং ছোট ছোট নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করা, পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মানের ভোট করতে ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ

আপডেট সময় ০৩:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রূপ দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চার মিলিয়ন ইউরো’র সহায়তা প্যাকেজ দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা বলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এদিন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বর্তমান ইসির সঙ্গে এটি ইইউ রাষ্ট্রদূতের চতুর্থ বৈঠক। এসময় মিলারের সঙ্গে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলই নয়, ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

বৈঠক শেষে মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে অগ্রগতির সহযাত্রী হিসেবে কাজ করছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ভোটের দিকে এগোচ্ছে দেশ।

তিনি বলেন, আজ আমি বিশেষভাবে এসেছি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে জানাতে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪ মিলিয়ন ইউরোর বেশি সহায়তা দেবে। যাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক। আগামীতে এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবো আমরা।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা আমাদের বাস্তবায়নকারী অংশীদার-নির্বাচন বিশেষজ্ঞ। তারা এখানে থাকবেন যাতে আসন্ন নির্বাচনে নাগরিক পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভোটার এডুকেশনও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হিসেবে আমরা আমাদের অংশীদার বাংলাদেশ এবং অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর, যাতে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে নানা ধরনের সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন মাইকেল মিলার বলেন, তারা সরাসরি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে দক্ষতা বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়া, যেমন কার্যকরী পরিকল্পনা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা বাংলাদেশে আমাদের কাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এখানেও। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে একটি অগ্রাধিকারমূলক দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে, বিশেষত সম্ভাব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের জন্য।

তিনি জানান, সামনের সময়ে এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, নির্বাচন প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সবার মনোযোগ রয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাজ। আমরা এখন আলোচনা করছি বাস্তবিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। আর এজন্যই আমরা এখানে এসেছি আমাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে। কারণ আমরা চাই আপনাদের নির্বাচন যেন সত্যিই গ্রহণযোগ্য হয়, আন্তর্জাতিক মানের হয়, অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।

আগামী মাসে ইইউর প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল আসবে বলে জানান তিনি।

মিলার আরও বলেন, আগামী মাসে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাংলাদেশে আসবে। এটি পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের কাজ হবে যাচাই করা যে এখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা। আমরা সক্ষমতা ও বাস্তবতা যাচাই করছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিচ্ছি-ভোটার এডুকেশন, দেশিয় পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোকে মাঠপর্যায়ে কাজের সক্ষমতা দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করা এবং ছোট ছোট নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করা, পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।