ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতকড়াসহ আদালত চত্বর থেকে পালালেন মাদক মামলার আসামি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্যোগ, ঘর হারাল ৬৭ হাজার মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৩০০ শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ নরসিংদীতে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪৯ বগুড়ার সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আর কত দিন লাগবে, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ালে সরকার টিকতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম শিবির করায় ববির এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর, অতঃপর চাকরিচ্যুত জুলাই দিবস পালন শেষে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ১২ হাজার টাকার ঋণ, ১৩ লাখ টাকার মামলা; বালিয়াডাঙ্গীতে গ্রেপ্তার সুদ ব্যবসায়ী

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: হুমকি না কি সুযোগ?

জলবায়ু পরিবর্তন—এটি এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়, বরং একটি বাস্তবতা, যা প্রতিনিয়ত প্রভাব ফেলছে আমাদের জীবনে।

তবে এই সংকটের মাঝেও কি কোনও সম্ভাবনার দ্বার খোলা আছে? আমরা কথা বলেছি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে—তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও প্রস্তাবে ফুটে উঠেছে একদিকে যেমন ভয়, তেমনই রয়েছে সম্ভাবনার খোঁজ।

উপকূলীয় সংকট ও সম্ভাবনার পাঠ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন,
“গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে ৩.৮ থেকে ৫.৮ মিলিমিটার হারে বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। তবে সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক সেচ পদ্ধতির ব্যবহার এবং নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। এছাড়া, নগরায়নে গাছপালা ও জলাধার সংরক্ষণ এবং উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার দায়িত্ব

সরকারি হরেগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মনে করেন,
“জলবায়ু পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি বড় হুমকি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও খরার মতো দুর্যোগ আমাদের কৃষি ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর পুনর্বাসন আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, “জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা এখন জরুরি। টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।”

সঙ্কটে সম্ভাবনার আলো

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ একটি আশার আলো দেখেন। তাঁর মতে,
“জলবায়ু পরিবর্তন সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারলে, এটি আমাদের জন্য কিছু সুযোগও তৈরি করতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ‘গ্রিন ইকোনমি’ গড়ে তুলতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার যদি তরুণদের সহযোগিতা করে, তবে আমরা নতুন প্রযুক্তি শিখে এই সংকটকে সম্ভাবনায় পরিণত করতে পারি।”

তরুণদের দায়িত্ব ও অংশগ্রহণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ বলেন,
“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের কৃষি ও অর্থনীতিতে সুস্পষ্ট। তবে আশার কথা হলো, এখনকার তরুণ প্রজন্ম এই বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হলে, শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্ভাবন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতকড়াসহ আদালত চত্বর থেকে পালালেন মাদক মামলার আসামি

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: হুমকি না কি সুযোগ?

আপডেট সময় ০৫:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তন—এটি এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়, বরং একটি বাস্তবতা, যা প্রতিনিয়ত প্রভাব ফেলছে আমাদের জীবনে।

তবে এই সংকটের মাঝেও কি কোনও সম্ভাবনার দ্বার খোলা আছে? আমরা কথা বলেছি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে—তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও প্রস্তাবে ফুটে উঠেছে একদিকে যেমন ভয়, তেমনই রয়েছে সম্ভাবনার খোঁজ।

উপকূলীয় সংকট ও সম্ভাবনার পাঠ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন,
“গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে ৩.৮ থেকে ৫.৮ মিলিমিটার হারে বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। তবে সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক সেচ পদ্ধতির ব্যবহার এবং নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। এছাড়া, নগরায়নে গাছপালা ও জলাধার সংরক্ষণ এবং উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার দায়িত্ব

সরকারি হরেগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মনে করেন,
“জলবায়ু পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি বড় হুমকি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও খরার মতো দুর্যোগ আমাদের কৃষি ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর পুনর্বাসন আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, “জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা এখন জরুরি। টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।”

সঙ্কটে সম্ভাবনার আলো

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ একটি আশার আলো দেখেন। তাঁর মতে,
“জলবায়ু পরিবর্তন সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারলে, এটি আমাদের জন্য কিছু সুযোগও তৈরি করতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ‘গ্রিন ইকোনমি’ গড়ে তুলতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার যদি তরুণদের সহযোগিতা করে, তবে আমরা নতুন প্রযুক্তি শিখে এই সংকটকে সম্ভাবনায় পরিণত করতে পারি।”

তরুণদের দায়িত্ব ও অংশগ্রহণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ বলেন,
“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের কৃষি ও অর্থনীতিতে সুস্পষ্ট। তবে আশার কথা হলো, এখনকার তরুণ প্রজন্ম এই বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হলে, শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্ভাবন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”