ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি’র উদ্যোগে সীমান্তবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ জনদুর্ভোগ এড়াতে কালভার্টের দাবি বরগুনার ছোট তালতলী গ্রামবাসীর কালিয়াকৈরে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ কুমিল্লায় ৭৫ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও পোশাক জব্দ করেছে বিজিবি হ্যারি কেইনকে ডিফেন্সে নামানো ভুল ছিল, টুখেলের সমালোচনায় ট্রাম্প আত্রাইয়ে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই যুবকের কারাদণ্ড  কালীগঞ্জে সতি নদী থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল সাদুল্লাপুরে  কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও চারাগাছ বিতরণ

অজানা এক ইতিহাস টাকশাল নগরী মাহিসন্তোষ- ধামইরহাট, নওগাঁ

মাহিসন্তোষ একটি সুরক্ষিত ও বিকশিত নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দের পূর্বেই। ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মাহিসন্তোষে টাকশাল বসে। এই সময় শহরটির নামকরন করা হয় রোকনউদ্দিন বারবাক শাহ (১৪৫৯-১৪৭৪) এর নামানুসারে বারবাকাবাদ।

এই টাকসাল থেকে উৎকীর্ণ সাতটি মুদ্রা। বর্তমান পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এর ৬ টি রুপা এবং একটি তাম্রমুদ্রা। এগুলোর মধ্যে চারটি রুপোর মুদ্রা রোকন উদ্দিন বারবাক শাহ এর আমলে জারিকৃত। (দিনাজপুর লিপিতে এ তথ্য সন্নিবেশিত আছে)

দিনাজপুরের চেহেলগাজীর মাজারের নিকটবর্তী ইট দিয়ে নির্মিত একটি ক্ষুদ্রতম প্রাচীন মসজিদের উত্তর দেওয়ালে লিপিটি বসানো ছিল। দিনাজপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভি,ওয়েস্ট মেকোড লিপিটি উদ্ধার করেন।

এ চারটি মুদ্রার মধ্যে তিনটি রূপোর মুদ্রা ৮৬৪ হিজরীতে ৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে। এবং একটি রুপোর মুদ্রা সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের (১৪৯০-১৪৯৩) আমলে জারিকৃত৮৯৬ হিজরীতে (১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে) এবং একটি রুপোর মুদ্রা ও একটি তাম্রমুদ্রা সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে (১৫১৯-১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে) ৯২৮ হিজরীতে ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে জারিকৃত। (ডঃ রেজাউল করিম পৃষ্ঠা: ১০৩)

মাহিসন্তোষ বিকশিত ও সুরক্ষিত দুর্গনগরী না হলে এখানে একটি টাকশাল স্থাপিত হত না। ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে পরও বারবাকাবাদ টাকশাল থেকে মুদ্রা জারি অব্যাহত থাকায় একথা সহযেই বুঝা যায় যে অন্তত ষোল শতকের শেষের দশক পর্যন্ত মাহিসন্তোষ নগরের অবস্থা ও গুরুত্বর তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। পরবর্তীকালে সম্ভবত বড় কোনো ভূমিকম্প, অথবা প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ নগরীর গুরুত্ব কিছুটা কমে যায়।

ফলে টাকশালটি আর চালু থাকেনি। অবশ্য এরপরেও উল্লেখযোগ্য নগর হিসেবে বারবাকাবাদ টিকে ছিল। মুঘল যুগের দলিল পত্রে ও আবুল ফজলের ইতিহাসে বারবাকাবাদ শহরের কথা উল্লেখ আছে। মুসলিম যুগে সামরিক প্রয়োজনে গড়ে ওঠা সুরক্ষিত ও তুলনা মূলক কম সুরক্ষিত নগরকে খিত্তা বা কসবা বলে অভিহিত করা হতো। বাণিজ্যিক সুবিধা সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ নগর কে বলা হতো শহর। সম্রাট আকবরের সময় প্রযন্ত সমৃদ্ধ বড় নগর হিসেবে টিকে না থাকলে বারবাকাবাদ কে শহর হিসেবে অবহিত করা হত না।

সম্রাট আকবর বারবাকাবাদ কে সুবেবাংলার অন্যতম সরকারের মর্যাদা দেন। মাহিসন্তোষ কেন্দ্রিক এই সরকার দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী ও পাবনা জেলা নিয়ে গঠিত ছিল। ৩৮টি মহাল বা পরগনা কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টোডরমণের রাজস্ব তালিকা মোতাবেক বারবাকাবাদ এর রাজস্ব নির্ধারিত হয় ১৭,৪৫১৫৩২ দাম বা ৪৩৬২৮৮ রুপি। এই সকল তথ্যের দ্বারা টাকশাল নগরী বারবাকাবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। আশির দশকে হটাৎ করে এই প্রত্ন নিদর্শনের উপর অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু হয়।

যত্রতত্র গৃহ নির্মানের জন্য খননের ফলে প্রাপ্ত তাম্রমূর্তি, শীলা মূর্তি,শিলালিপি ও তাম্রমুদ্রা কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে বেহাত হয়ে যায়। নওগাঁ জেলার ধামইরহাটে টাকশাল নগরী মাহিসন্তোষ প্রত্ন ভাণ্ডারের এক সমৃদ্ধ সম্পদ। এটি খনন শুরু করলে বেরিয়ে আসতে পারে পালবংশ, খলজি বংশ ও সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নগরী মাহিসন্তোষের সমৃদ্ধ ইতিহাস।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি’র উদ্যোগে সীমান্তবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ

অজানা এক ইতিহাস টাকশাল নগরী মাহিসন্তোষ- ধামইরহাট, নওগাঁ

আপডেট সময় ০২:৫৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

মাহিসন্তোষ একটি সুরক্ষিত ও বিকশিত নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দের পূর্বেই। ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মাহিসন্তোষে টাকশাল বসে। এই সময় শহরটির নামকরন করা হয় রোকনউদ্দিন বারবাক শাহ (১৪৫৯-১৪৭৪) এর নামানুসারে বারবাকাবাদ।

এই টাকসাল থেকে উৎকীর্ণ সাতটি মুদ্রা। বর্তমান পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এর ৬ টি রুপা এবং একটি তাম্রমুদ্রা। এগুলোর মধ্যে চারটি রুপোর মুদ্রা রোকন উদ্দিন বারবাক শাহ এর আমলে জারিকৃত। (দিনাজপুর লিপিতে এ তথ্য সন্নিবেশিত আছে)

দিনাজপুরের চেহেলগাজীর মাজারের নিকটবর্তী ইট দিয়ে নির্মিত একটি ক্ষুদ্রতম প্রাচীন মসজিদের উত্তর দেওয়ালে লিপিটি বসানো ছিল। দিনাজপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভি,ওয়েস্ট মেকোড লিপিটি উদ্ধার করেন।

এ চারটি মুদ্রার মধ্যে তিনটি রূপোর মুদ্রা ৮৬৪ হিজরীতে ৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে। এবং একটি রুপোর মুদ্রা সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের (১৪৯০-১৪৯৩) আমলে জারিকৃত৮৯৬ হিজরীতে (১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে) এবং একটি রুপোর মুদ্রা ও একটি তাম্রমুদ্রা সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে (১৫১৯-১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে) ৯২৮ হিজরীতে ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে জারিকৃত। (ডঃ রেজাউল করিম পৃষ্ঠা: ১০৩)

মাহিসন্তোষ বিকশিত ও সুরক্ষিত দুর্গনগরী না হলে এখানে একটি টাকশাল স্থাপিত হত না। ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে পরও বারবাকাবাদ টাকশাল থেকে মুদ্রা জারি অব্যাহত থাকায় একথা সহযেই বুঝা যায় যে অন্তত ষোল শতকের শেষের দশক পর্যন্ত মাহিসন্তোষ নগরের অবস্থা ও গুরুত্বর তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। পরবর্তীকালে সম্ভবত বড় কোনো ভূমিকম্প, অথবা প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ নগরীর গুরুত্ব কিছুটা কমে যায়।

ফলে টাকশালটি আর চালু থাকেনি। অবশ্য এরপরেও উল্লেখযোগ্য নগর হিসেবে বারবাকাবাদ টিকে ছিল। মুঘল যুগের দলিল পত্রে ও আবুল ফজলের ইতিহাসে বারবাকাবাদ শহরের কথা উল্লেখ আছে। মুসলিম যুগে সামরিক প্রয়োজনে গড়ে ওঠা সুরক্ষিত ও তুলনা মূলক কম সুরক্ষিত নগরকে খিত্তা বা কসবা বলে অভিহিত করা হতো। বাণিজ্যিক সুবিধা সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ নগর কে বলা হতো শহর। সম্রাট আকবরের সময় প্রযন্ত সমৃদ্ধ বড় নগর হিসেবে টিকে না থাকলে বারবাকাবাদ কে শহর হিসেবে অবহিত করা হত না।

সম্রাট আকবর বারবাকাবাদ কে সুবেবাংলার অন্যতম সরকারের মর্যাদা দেন। মাহিসন্তোষ কেন্দ্রিক এই সরকার দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী ও পাবনা জেলা নিয়ে গঠিত ছিল। ৩৮টি মহাল বা পরগনা কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টোডরমণের রাজস্ব তালিকা মোতাবেক বারবাকাবাদ এর রাজস্ব নির্ধারিত হয় ১৭,৪৫১৫৩২ দাম বা ৪৩৬২৮৮ রুপি। এই সকল তথ্যের দ্বারা টাকশাল নগরী বারবাকাবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। আশির দশকে হটাৎ করে এই প্রত্ন নিদর্শনের উপর অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু হয়।

যত্রতত্র গৃহ নির্মানের জন্য খননের ফলে প্রাপ্ত তাম্রমূর্তি, শীলা মূর্তি,শিলালিপি ও তাম্রমুদ্রা কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে বেহাত হয়ে যায়। নওগাঁ জেলার ধামইরহাটে টাকশাল নগরী মাহিসন্তোষ প্রত্ন ভাণ্ডারের এক সমৃদ্ধ সম্পদ। এটি খনন শুরু করলে বেরিয়ে আসতে পারে পালবংশ, খলজি বংশ ও সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক নগরী মাহিসন্তোষের সমৃদ্ধ ইতিহাস।